somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওনাকে দেখা না গেলেও লেজটা ঠিকই দেখতে পাচ্ছি

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




তারা চলে গিয়েছেন। আসলে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কয়েক দিন পর পর বাংলাদেশকে নতুন করে জন্ম দিতেন—নিজেদের
পশ্চাৎদেশে নিজেরাই তালি বাজিয়ে নিজেরাই নাচতেন!

সংস্কার, বিচার, ফ্যাসিস্ট নির্মূল, উঁচা বাসা-নিচা বাসা (উচ্চ কক্ষ-নিম্ন কক্ষ।) কত কত জাতের মূলা দেখিয়ে জাতির সামনে দিগন্ত-জোরা সর্ষে ফুলের ক্ষেত রেখে পর্দার ওপাশে চলে গেলেন।

বিএনপি ও সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থান না থাকলে জাতির ঘার থেকে এই ভূত নামত না। থুক্কু ঘার থেকে নেমেছে কথাটি আসলে ঠিক নয়—প্লেট রেখে উঠে গিয়েছে, দৈ চাটতে আবার আসবে অথবা তাকে যেন দৈয়ের প্লেট পৌঁছে দেয়া হয়। অথবা লেজটা রেখে গেছে, লেজে দৈ লাগিয়ে দিলে তিনি লেজটাই চেটেপুটে খাবেন। আমরা কিন্তু লেজটা দেখতে পাচ্ছি।

আমরা পত্রিকা বা বিভিন্ন উপায়ে জানতে পারলাম মহামতি বাটপার দেড় বছরে উন্নয়ন বলতে কেবল নিজেরটাই করেছে। এবং তার সাঙ্গাতের দল খেয়ে-চেটে-ঘুঁটে-লুটে-লুচে বদহজম বানিয়ে বসেছে।

কিন্তু!

বর্তমান সরকার তিন উদ্দীন সরকারের লাঠিয়ালদের নিয়ে টানাটানি শুরু করলেও বাটপার সরকারের বিষয়ে চুপ! ওয়ান ইলেভেনের পেছনে তো ইউনূসের ভূমিকা ছিল। তার ব্যাপারে বিএনপি সরকার কেন নীরব?

সত্য-মিথ্যা যাই হোক বাংলাদেশ-ভারতের চুক্তি হলেই এক শ্রেণির বুদ্ধিবাজদের আগমন ঘটে— বিএনপি তাদের সঙ্গে সুর মেলায়, চলে রাজাকার ছানাদের গালাগালি। অথচ ইউনূস সরকার বিদায়ের আগ মুহূর্তে আমেরিকার সঙ্গে যে জ্বি হুজুরমার্কা চুক্তি করল বিএনপি-জামাত তাতে সম্মতি দিয়ে দিল। জামাত তো দেবেই—আমেরিকা তো জামাতকেই ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি?
নাকি জামাত-এনসিপি-ইউনূসের সঙ্গে বিএনপিও ছিল।

গত দেড়টা বছরে দেশে আইন বলতে কিছু ছিল না। মব বাহিনীর কাছে সবাই ছিল অসহায়। বিগত ইউনূস সরকারের মতো বর্তমান সরকারও আইনের শাসনের কথা মুখে বলে কিন্তু পুলিশ হত্যার বিচারের বিষয়ে সেই রসুনের এক গোঁড়া।
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বললেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত পুলিশদের বিচার করতে গেলে রাজাকার হত্যাকারী মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করতে হবে! বিস্মিত, হতবাক! জুলাই অন্দোলন কি কোনও ঘোষিত যুদ্ধ ছিল? মুক্তিযুদ্ধে দুটো পক্ষ ছিল—স্বাধীনতার পক্ষ ও শত্রু পক্ষ। জুলাইতে কি পুলিশদের শত্রু পক্ষ ঘোষণা করেছিলেন? সব পুলিশ কি হত্যাকারী? নারী পুলিশটি কি গুলি করতে গিয়েছিল? যাত্রাবাড়ীতে যে পুলিশটি সিভিল ড্রেসে বাজার করতে বেরিয়ে নিহত হলেন তার বিচার কেন পরিবার চাইতে পারবে না!

মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সব রাজাকার বেশি বাড়াবাড়ি করেছিল তাদেরকেই হত্যা করা হয়েছিল। যে পুলিশ বাড়াবাড়ি করেছে, বা ছাত্র-জনতা বাধ্য হয়েছে তাকে হত্যা করতে তার জন্য নরম দৃষ্টি দেয়া যেতেই পারে। কিন্তু তদন্ত হবে না, নিরপরাধ পুলিশ বিচার পাবে না এটা কেমন কথা! আর পুলিশ বাহিনীর আস্থা ফিরিয়ে না আনলে কি তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে আগ্রহ দেখাবে?

ভেবেছিলাম দীর্ঘ সময় লন্ডনে থেকে মাননীয় তারেক রহমানের সরকার একটু অন্য রকম হবে। ভুল, সব ভুল! আমাদের মনে আছে শেখ হাসিনা (ফ্যাসিস্ট না বললে কি রাগ করবেন? আচ্ছা ফ্যাসিস্ট হাসিনা।) সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা শুরু করলে “আমরাও বিচার চাই— কিন্তু তা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের, যদি, তবে, … ” বিএনপি বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছিল। অথচ তাজুল কোর্টে উদ্ভট কাজকারবারের সময় কিন্তু বিএনপি ছিল একদম চুপ!

তবে কি জামাত-এনসিপি-ইউনূস-বিএনপি একই রসুন? কিছু দিন ধরে মনে হচ্ছে বিএনপির কোয়া ঐ রসুন থেকে ছুটে গিয়েছে। তেলের সঙ্কট কি সত্যিই না কি এর পেছনে ঐ লেজ?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন: দখলদার আমেরিকার যুদ্ধাপরাধ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন: দখলদার আমেরিকার যুদ্ধাপরাধ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

অন্তর্জাল থেকে।

এ যাবত প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। এই অবৈধ যুদ্ধে ইতোমধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×