somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খুন!

২৮ শে আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ একটা খুন করব।

ডিসিশনটা যে খুব চিন্তা ভাবনা করে নেয়া তা'নয়, এক রকম ঝোকের বশেই নেয়া বলা যায়। তবে আমার লাইফের বড় বড় সকল সিদ্ধান্তই এইরকম হুট হাট করে নেয়া। লাবনিকে যেদিন "আই লাভ ইউ" বললাম সেদিনও খুব বেশী চিন্তা ভাবনা করিনি, বছর দুএক আগে একবার বাসা থেকে পালালাম, সেটাও চিন্তা ভাবনা ছারাই। বলা যেতে পারে আমি একটা অস্থির মতি ছেলে যখন যা মাথায় চাপে করে ফেলি।

যাকে খুন করা হবে তার নাম সাদিক। বেশ শান্ত সুবধ ছেলে, আগামি বছর ফিজিক্সে অনার্স কমপ্লিট করবে। পড়াশুনায় মোটামুটি, হাল্কা কবিতা লেখার অভ্যাস আছে। আমার সবচে কাছের বন্ধু সেই ক্লাস এইট থেকে।

ওকে খুন করাটা জরুরী হয়ে পরেছে। কিভাবে কাজটা করব তাও মুটামুটি ঠিক করে ফেলেছি। বুদ্ধিটা গত কালই মাথায় এসেছে। আমি আর সাদিক দাড়িয়ে ছিলাম রামপুরা ডি আই টি রোডের ধারে, রাস্তা পার হব। হুসহাস করে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে, আমরা কিছুতেই পার হতে পারছি না। বুদ্ধিটা তখনই মাথায় এল। খুব বেশি কিছু করতে হবে না, সুযোগ বুঝে সাদিককে ঠেলে দিতে হবে একটা চলন্ত বাসের সামনে। জাস্ট সময় মত পিঠে একটা মাপা হাতের ধাক্কা, ব্যাস, সব ফিনিস। টাইমিঙটা ইম্পরট্যান্ট, সময়ের আগেই ধাক্কা দিয়ে ফেললে বাসের ড্রাইভার ব্রেক কসে ফেলতে পারে, আবার সময় মত ধাক্কা না দিতে পারলে হয়ত ওকে বাসের সামনে ফেলাই যাবেনা। অতএব, সময়ের এক চুল এদিক ওদিক হয়া চলবে না। ডি আই টি রোড আমরা রোজ দিনে দুইবার পার হই, অতএব ভিকটিমকে খুনের স্পটে নেয়া কঠিন হবে না। যেকোনো প্লানকে তখনই ভাল বলা যায় যখন প্ল্যানটা সিম্পল হয়, আমার প্ল্যানটা সিম্পল।

আমার সমস্যা হল আমি মানুষটা চুপচাপ স্বভাবের, চুপচাপ এবং জেদি। আমি একা একা থাকতে ভালবাসি। আসলে কথাটা সত্যি নয়, আমি একা একা থাকতে চাইনা। কিন্তু একা না থেকে আমার কোন উপায় নেই। আমি ভাল গল্প বলতে পারি না, নতুন কারুর সাথে সহজে মিশতে পারি না, মনের কথা গুছিয়ে বলতে পারি না। আমার মত মানুসের খুব বেশি বন্ধু থাকার কথা নয়। সত্যি বলতে কি সাদিক ছাড়া আমার আর তেমন কোন বন্ধু নেই।

সাদিকও অনেকটাই আমার মত। মুখচোরা টাইপ ছেলে। আমাদের চিন্তা ভাবনা পছন্দ-অপছন্দও অনেকটা এক রকম। স্কুলে থাকতে অনেকেই আমাদের বলত মানিকজোড়। এই মিল থাকাটই কাল হল। লাবনিকে যখন প্রেম নিবেদন করলাম সে মাটির দিকে তাকিয়ে ছিল। কোন জবাব দেয়নি। কেন জবাব দেয়নি আমি জানি। এর কারন লজ্জা বা আর কিছু নয়। কারন দ্বিধা। আমি যেমন লাবনিকে ভালবাসি, সাদিকও তেমনি বাসে। আমরা দুজন একসাথেই ওর প্রেমে পরেছিলাম। এইটা আমি অনেক দিন আগে থেকেই জানতাম, যেটা জানতাম না তা হল লাবনিও আমাদের দুজনকেই ভালবাসে। আর কেন বাসবেনা? আমি আর সাদিক একে অপরের প্রতিচ্ছবি, আমাকে যে ভালবাসবে সঙ্গত কারনেই সাদিকের প্রতিও তার আগ্রহ থাকবে। সভাবে চরিত্রে আমরা জমজ ভাইএর মত।

******

রামপুরা ডি আই টি রোডের ধারে আমরা দুজন দাড়িয়ে আছি। আমার পাশে দাড়িয়ে সাদিক উসখুস করছে। ও কখনই রাস্তা পার হবার সময় ধৈর্য ধরতে পারে না। হুস হাস করে আমাদের সামনে দিয়ে গাড়ি চলে যাচ্ছে। সূর্য ডুবে গেছে একটু আগে, ল্যাম্পপোস্ট গুলো জলে উঠেছে। হেডলাইট জালানো বড় বড় বাস গুলোকে দেখতে সাক্ষাৎ দানবের মত লাগছে।

আমি লম্বা দম নিলাম, বড় একটা বাস ছুটে আসছে। এখনই সময়। আমার একটা হাত সাদিকের পিঠে রাখাই আছে। জাস্ট মাপা হাতের একটু ধাক্কা, ব্যাস। মেরে ফেলার আগে আমি কি সাদিককে কিছু বলব? হাজার হলেও ছেলে বেলার বন্ধু, তার উদ্দেশে কোন বিদায় বানী থাকবে না? থাক, দরকার নেই, যত তাড়াতাড়ি কাজ সারা যায় ততই ভাল।

বাস আগিয়ে আসছে বুলেটের গতিতে। আমার রক্ত চলাচলের গতি বেরে যাচ্ছে, হাতের পেশীগুলো শক্ত হয়ে আসছে, স্নায়ু টানটান হয়ে উঠেছে।
এখনই সময়!!!

আমি কিছু বুঝার আগেই পিঠে প্রচনড ধাক্কায় আমি রাস্তার ওপর ছিটকে পরলাম। পিচ ঢালা রাস্তায় মাথা ঠুকে গিয়ে সারা শরীর অবস হয়ে গেল। যমদূতের মত বাসটা ছুটে আসছে আমার দিকে, আর এক মুহূর্ত পরেই আমাকে পিশে ফেলবে।

আমি অবাক হয়ে তাকাই সাদিকের দিকে, সেও বিষণ্ণ চখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। গাড়ির তিব্র হর্ন শোনা যাচ্ছে। সেটা ছাপিয়ে আমার মনে হল সাদিক বলল "স্যরি দোস্ত, কিন্তু লাবনিকে যে আমিও বড় বেশি ভালবাসি।"
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৫৯
১৪টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খরচ

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯


কোন কোন রাত্রি শেষের বেগুনী আলোয়
বাতাস যখন রতিতৃপ্ত দৃষ্টির মত কোমল-
উন্মোচনের আগ্রহে উদগ্রীব আলো
কী এক দ্বিধায় থমকে আছে পুবের দরজায়,
হঠাৎ যেন কেউ মাছের মত
ছেকে তোলে জালে।
লাগায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদের বায়না : ৩০ সেট গয়না

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৪

একসময় এই প্রবাদটি খুব প্রচলিত ছিল, এমনকি পণ্ডিত মহলেও এটি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা হতো।
সময় বদলে গেছে; যমুনা নদী দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়ে সাগরে মিশেছে।



বাস্তবতার নিরিখে আমাদের সমাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৬


কাল থেকে দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতা ও মতাদর্শ দ্বারা যেমন প্রভাবিত, তেমনি এর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। ভারতে যখন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×