somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই পড়াঃ ম্যাপ অব বোন্‌স (লেখকঃ জেমস রোলিন্স)

২৩ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বইয়ের নামঃ ম্যাপ অব বোন্‌স
লেখকঃ জেমস রোলিন্স
(সিগমা ফোর্স সিরিজের দ্বিতীয় বই)
প্রকাশকালঃ ২০০৫




এক বাক্যেঃ
“গির্জায় কেন চালানো হলো নারকীয় হত্যাযজ্ঞ?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিস্ময়কর তথ্য আর এডভেঞ্চারের মধ্য দিয়ে আপনি নিজেও সিগমা ফোর্সের সাথে পুরো বইটা চষে বেড়াতে বাধ্য হবেন।

কাহিনি সংক্ষেপঃ
জার্মানীর কোলনে প্রাচীন ক্যাথেড্রালে প্রার্থনারত একদল মানুষ খুন হয় একটা অজানা পদ্ধতিতে। সন্ন্যাসীর পোষাক পরিহিত একদল ডাকাত প্রার্থনারত মানুষগুলোকে চার্চের ভেতরে খুন করে। রেখে যায় পৈশাচিকতার ছাপ। একসাথে খুন হয় চার্চের সকল প্রার্থনাকারী, যারা গ্রহণ করেছিল চার্চ থেকে সরবারকৃত রুটি। অন্যদের হত্যা করা হয় গুলি করে।

চার্চে রাখা মূল্যবান সব গুপ্তধন বাদ দিয়ে সন্ন্যাসী বেশে আসা ডাকাতদল চার্চ থেকে সাথে করে নিয়ে যায় স্বর্ণের কফিনে রাখা পুরনো কিছু হাড়; যা খ্রিস্টিয় ইতিহাসের প্রাচীন তিন রাজার মধ্যকার একজনের। তারা যেভাবে এসেছিল, ঠিক সেভাবেই হাওয়া হয়ে যায়। নিজেদের কোন চিহ্ন রেখে যায়নি তারা। শুধু রেখে গেছে কিছু প্রশ্ন।

কেন ডাকাতেরা মূল্যবান সব ধনসম্পত্তি বাদ দিয়ে ঐ হাড়গুলো নিয়ে গেল? কেন-ই-বা তারা প্রার্থনা চলাকালীন সময়ে ডাকাতি করলো? কেন হত্যা করল ক্যাথেড্রালে প্রার্থনা করতে আসা মানুষগুলো কে? একইসময়ের মধ্যে কিভাবে খুন করলো এতগুলো মানুষকে? এই পৈশাচিক হত্যা যজ্ঞের পেছনে কি উদ্দেশ্য?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে স্মরণাপন্ন হয় আমেরিকান সিগমা ফোর্সের। সিগমা এজেন্ট গ্রেসন পিয়ার্স, ক্যাপ্টেন ক্যাথরিন ব্রায়ান্ট ও মঙ্ককের তিন সদস্যের সিগমা ফোর্সের দলটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে ভ্যাটিকান বিশেষজ্ঞ ভেরনা আর লেফটেন্যান্ট র‍্যাচেল। সম্মিলিত তদন্ত শুরু করতেই বাঁধার মুখে পরে তারা। প্রাচীন একটি গুপ্ত সংঘের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। একের পর এক বাঁধা, ধ্বংসযজ্ঞ উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে এগিয়ে যেতে থাকে সত্য উদঘাটনের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত টিমটি।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
আধুনিক বিজ্ঞান, মিথ, খৃস্টিয় উপাখ্যান এবং রোলিন্সের অন্যান্য উপন্যাসের মতই বরাবরের ন্যায় দুর্দান্ত অ্যাকশন আর অ্যাডভেঞ্চার সাজানো আরেকটি চমকপ্রদ উপন্যাস "সিগমা ফোর্স" সিরিজের দ্বিতীয় বই “ম্যাপ অব বোনস”। আধুনিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রাচীন মিথ এবং সেই সাথে ইতিহাসের সম্মিলনে লেখা এই উপন্যাসটি পাঠককে অনেক অজানা তথ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। পুরনো চার্চ, ক্যাথেড্রাল, ভ্যাটিকানের সেইন্ট পিটার ব্যাসিলিকা, মিশরের পিরামিড, আলেকজান্দ্রিয়ার পানির তলা, সম্রাট আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সমাধি প্রভৃতি কেন্দ্র করে বিস্তৃত রহস্যের জটিল ও দুর্ভেদ্য জাল রহস্যময়তাকে করেছে সমৃদ্ধ। বিস্ময়কর সব তথ্য পাঠককে টেনে নিতে থাকবে উপন্যাসের গভীর থেকে আরও গভীরতমে। দুর্ভেদ্য পাজল কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা অ্যাডভেঞ্চার ও অ্যাকশন পছন্দ করে এমন পাঠকেরা নিজেরাও মিশে যাবে উপন্যাসের চরিত্রগুলোর সাথে।

দ্রুত গতিতে ছুটে চলা উপন্যাসটিতে আছে নিঃশংসতা, পৈশাচিক হত্যকাণ্ড, ধ্বংসযজ্ঞ; সেই সাথে আছে একদল পরিশ্রমি আর অনুসন্ধানি মানুষকে নিয়ে গড়া একটি টিম, যাদের টিম ওয়ার্কে স্থাপিত হয়েছে বিশ্বাসের দৃষ্টান্ত। আছে রহস্য, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, দূর্ভেদ্য জাল, মৃত্যুর হাতছানি, প্রতারণা। উপন্যাস শেষ করে একটা দীর্ঘশ্বাস পাঠকের উদর থেকে বের হয়ে আসবে, যেন এক নিঃশ্বাসে রোমাঞ্চকর সব ঘটনা পাড় করে পাঠক নিজেই সমাধান করেছে অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা সকল রহস্যের। জেমস রোলিন্সের উপন্যাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ছুটে চলা যার ঘাটতি এই উপন্যাসটিতেও পরে।

যারা বইয়ের পাতায় এডভেঞ্চারের সঙ্গে ছুটতে ভালোবাসেন তাদের জন্য বইটি অবশ্যই পাঠ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×