সর্বনাসের চূড়ান্ত না হলে আমরা বুঝতে চাই না কিছুই - কারণ আমাদের দেশপ্রেম নেই - আছে টু পাইস কামানোর মনোবৃত্তি । গ্যাস দিয়ে বাসায় ভাত তরকারি রান্না করা গ্যাসের অপচয় - এই কথাটা বুঝতে আমাদের দেশে নিতির্ধিারকদের ৫০ বছরের বেশি সময় লাগলো - ঢাকা শহরে গ্যাস সরবরাহ সম্ভবত পাকিস্থান আমলে শুরু হয়েছে । যখন প্রথম পাইপ লাইনে বাসা বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় তখনই সাধারণ নাগরিকরা প্রতিবাদ করেছে - এতে গ্যাসের অপচয় হবে ব্যবহারের দশ গুণ । পৃথিবির কোথাও বাসা বাড়িতে রান্নার জন্যে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয় না ।
গ্যাস নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনিতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ স্যারের একটি নিবন্ধ ‘‘দৈনিক সংবাদে’’ পড়েছিলাম সম্ভবত: ১৯৯৫ - ৯৬ তে (দীর্ঘ দিন সংগ্রহেও ছিলো - এই মুহূর্তে চোখে পড়ছে না) - ভারত বাংলাদেশে একই সময়ে একই কোম্পানি সিসমিক সার্ভে (Seismic Survey) করে গ্যাস আবিষ্কার করে ও গ্যাস উত্তোলনের চুক্তির প্রস্তাব দেয়। আমাদের গ্যাস আমাদেরকেই ডলার মূল্যে কিনে ব্যবহার করতে হবে (বর্তমানেও হয় - কয়লারও একই অবস্থা) উত্তোলনকারি দেশ ও প্রতিষ্ঠনের কাছ থেকে ।
আমাদের দেশ রাজি হলেও ভারত রাজি হয় নি। ভরত সরকার জানতে চেয়েছে - কতো বছর গ্যাস মাটির তলে সংরক্ষিত থাকবে ? তারা জানিয়েছে - কমপক্ষে ২০ বছর ।
ভারত সরকার সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে জানতে চেয়েছে - গ্যাস উত্তোলনে দক্ষ কারিগর তৈরি করতে আপনাদের কতো বছর সময় লাগবে ? তারা বলেছেন, সর্বোচ্চ ১০ বছর । সিসমিক সার্ভে (Seismic Survey) কোম্পানিকে ভারত সরকার বলেছে ১০ বছর পরে আপনাদেরকে ডাকা হবে ।
০৭ - ০৮ বছরের মধ্যে ভারত গ্যাস উত্তোলনে দক্ষ কারিগর তৈরি করতে বা গড়তে সক্ষম হয়েছে । নিজেরা নিজেদের গ্যাস উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছে ও করছে । ভারতে প্রথম থেকেই সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ করা হয় বাসা বাড়িতে । ১৫০ রুপি প্রতি সিলিন্ডার । ০৫ রুপি সরবরাহ (Caring cost) ব্যয়। ২০০১ আমি একই অবস্থা দেখে এসেছে । ভারতে কারো দু’টি সিলিন্ডার থাকলে কোনো দিন গ্যাস সমস্যায় ভুগতে হবে না । তবে অধিকাংশ মানুষের একটিই সিলিন্ডার । কারণ গ্যাস রান্নার সময়ে ফুরিয়ে গেলেও সর্বোচ্চ আধা ঘন্টার মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার পৌছে যাবে ১৫০ +০৫ =১৫৫.০০ (রুপিতে)
আমাদের দেশ পরিচালনার বা নিতি নির্ধারণের অভিজ্ঞতা নিতে বা দেশপ্রেম শিখতে মন্ত্রিদের ও আমলাদের (নিতি নির্ধারকদের) ভারত বা পশ্চিম বঙ্গ সফরে যেতে হয় বা পাঠাতে হয় (পাঠানো উচিত) ।
কিন্তু ভ্রমণ ভাতা বিল কম আসে বিধায় আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মান, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি দেশ ঘুরে আসে । না বোঝে তাদের ভাষা - না বোঝে তাদের কারিগরি ও দাপ্তরিক পদ্ধতি । অতএব দেশের সর্বনাশ যা হবার তা ই হয় । বোঝে যখন সর্বনাশের চূড়ান্ত হয় তখন ।
০২. ইউকেলিপটাস গাছ লাগানো সময় এক শ্রেনির সাধারণ নাগরিক বলেছে প্রতিবাদ করেছে - সরকার শোনেনি ।
০৩. মোবাইল টাওয়ার বসানো নিয়েও প্রতিবাদ প্রতিরোধ কম হয়নি – সরকার ও নিতি নির্ধারকরা শোনেনি - এখন সর্বনাসের চূড়ান্ত এখন বুঝতে শুরু করেছ।
০৪. ট্রানজিটা চুক্তির সময়েও দেশ ও ষোলো কোটি মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়নি বলে সাধারণে মত প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মিডিয়াতে ।
সর্বনাসের চূড়ান্ত না হলে আমরা বুঝতে চাই না কিছুই - কারণ আমাদের দেশপ্রেম নেই - আছে টু পাইস কামানোর মনোবৃত্তি তবুও সাধুবাদ মাননিয় অর্থ মন্ত্রি জনাব আবুল মাল মুহিত সাহস নিয়ে বলেছেন, ভাত তরকারি রান্নার কাছে গ্যাসের অপচয় গ্রহনযোগ্য নয়।
আমাদের দেশের নিতি নির্ধারকদের (মন্ত্রিদের ও আমলাদের ) কাছে বিনত আবেদন জানাচ্ছি, কামাইতে আপত্তি নেই জাতির ।
কিন্তু বিবেচনায় রাখতে হবে, ভোগ করার মানুষ রেখে যাবেন ।
একটি দু’টি তিনটি সন্তানতো অতো ভোগ করতে পারবে না ।
যতো কামাই করে রেখে যাচ্ছেন।
কিঞ্চিত এই অভাগা দেশটার ও ষোলো কোটি মানুষের কথাও একবার অন্তত: ভাবতে চেষ্টা করুণ দয়া করে ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১০:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


