somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

*কালজয়ী*
গবেষক, পাঠক ও লেখক -- Reader, Thinker And Writer। কালজয়ী- কালের অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা Time। কালজয়ী অর্থ কোন নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের মেধা, শ্রম, বুদ্ধি, আধ্যাত্মিকতা ও লেখনীর বিজয়। বিজয় হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী চিন্তার বিজয়।

/:)/:)যেকোনো সময়ে অস্তিত্বহীন হয়ে যেতে পারি /:)/:)

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেয়ার পোস্ট : আবিদুল ইসলাম

'ভেতরে বাইরে' লেখার জন্য এখন আওয়ামী লীগের সাংসদ থেকে শুরু করে, উপনেতা, পাতিনেতা, কানাগলির আধানেতা এবং আওয়ামীপনায় মত্ত অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের নব্য সিপাহসালারদের বাহিনী যে মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি এবং বিগত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারকে রাজাকার, পাকিস্তানের দালাল, মীর জাফর, খন্দকার মোশতাকের সমর্থক ইত্যাদি আখ্যায় ভূষিত করবে সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এর আগে মুক্তিযুদ্ধে সন্দেহজনক ভূমিকায় থাকা এবং পরবর্তীতে সুবিধামতো গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা অনেক লোকই যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ব্যক্তিগত সেক্রেটারি মঈদুল হাসানের দিকেও আঙুল তুলেছিল ‘মূলধারা ’৭১’ বইটির কারণে।

শেখ মুজিব ৭ মার্চের ভাষণ শেষে যে ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছিলেন সেটি ঐতিহাসিক সত্য। এটা অস্বীকার করারও কিছু নেই। কেননা শেখ মুজিব সে পর্যন্ত ছিলেন সমগ্র পাকিস্তানের মধ্যেই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া রাজনৈতিক নেতা। একজন নির্বাচনপন্থী নেতা হিসেবে ঐ মুহূর্তে যে পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির চিন্তা তার মাথায় ছিল এটা মনে করাই হাস্যকর। তিনি তখন ছিলেন পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর সাথে ক্ষমতা নিয়ে দরকষাকষির প্রক্রিয়ার মধ্যে। শুধু ঐ দিনই নয়, ২৫ মার্চের পূর্ব পর্যন্ত ফারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় ইয়াহিয়া খানের সাথে তিনি আলোচনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। এ সময়ে বাঙালি অনেক সামরিক অফিসার এবং রাজনৈতিক নেতা পূর্ব বাংলা আক্রমণের জন্য পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতার সংবাদ তাকে জানালেও তিনি তা গ্রাহ্য করেন নি। তাজউদ্দিন লিখিত স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তার বাসভবনে তাকে সেটি পাঠ করার অনুরোধ জানালে তিনি তা করতে অস্বীকার করেন পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পরবর্তীতে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে বিচার করবে এই ভয়ে। পরে আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি সেটাও প্রত্যাখ্যান করেন। খুব সম্ভবত ইয়াহিয়া খানের পরবর্তী আলোচনার প্রতারণামূলক প্রতিশ্রুতিতে তিনি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন।

এটা এক ঐতিহাসিক বাস্তবতা যে, কোনো একজন নেতা যেকোনো রাষ্ট্রের একটি অংশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর তিনি তৎক্ষণাত ঐ রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে বেআইনি হয়ে যান। রাষ্ট্রের সরকারি প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সমগ্র অংশই তখন তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে গ্রেপ্তার এবং বিচার করা তাদের কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু তা না করে ১৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া খান-ইবা শেখ মুজিবের সাথে আলোচনা চালিয়ে গেলেন কী করে? তার কারণ হলো ৭ মার্চ রেসকোর্সের ভাষণে শেখ মুজিব ‘ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলা’র আহ্বান জানালেও এ ধরনের কোনো ‘দুর্গ গড়ে তোলা’র প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের মধ্যেও ছিল না। এটা পাকিস্তানি শাসকরাও জানত। একইভাবে একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘যার যা কিছু আছে’ তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বানও কথার কথা বৈ অন্য কিছু ছিল না। যার প্রমাণ ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদারেরা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করার পর ন্যূনতম প্রতিরোধের চেষ্টা না করে হতবিহ্বল এবং অনিশ্চিত অবস্থায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভারতে পলায়ন থেকেই পাওয়া যায়।

আমরা এখন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার ‘গণতান্ত্রিক’ যুগে বসবাস করছি। নতুন গণমাধ্যম সম্প্রচার নীতিমালার যুগে বসবাস করছি। সংসদ সদস্যগণ কর্তৃক বিচারপতিদের অভিসংশন-ক্ষমতার যুগে বাস করছি। আবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কর্তৃক কোনো রকম আইন-কানুনের পরোয়া না করে বিচারবহির্ভূত গুম-খুন-অপহরণের ‘অধিকারে’র যুগেও বাস করছি। এই যুগে সত্য কথা বলার বিপদ আছে। সত্যপ্রকাশের দায়ে এ কে খন্দকারের মতো ব্যক্তিও এক মুহূর্তে রাজাকার হিসেবে পরিগণিত হতে পারেন, আর আমরা তো কোন ছার! যেকোনো সময়ে অস্তিত্বহীন হয়ে যেতে পারি।

লেখার লিংক: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:২৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১১১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২২



দুটি হাঁসের পিছনে একটি হাঁস, দুটি হাঁসের সামনে একটি হাঁস, এবং দুটি হাঁসের মাঝখানে একটি হাঁস। মোট ক’টি হাঁস রয়েছে?

১। লোকে যে কেন বসন্তের গুনগান করে বুঝতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোয়াবিয়া ছিল সত্যদ্রোহী, হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণীত

লিখেছেন রাসেল সরকার, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩৩




عن أَبِي سَعِيدٍ الخدري ، قَالَ: " كُنَّا نَحْمِلُ لَبِنَةً لَبِنَةً وَعَمَّارٌ لَبِنَتَيْنِ لَبِنَتَيْنِ ، فَرَآهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَنْفُضُ التُّرَابَ عَنْهُ ، وَيَقُولُ: وَيْحَ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাড়ীর সবকিছু এক নম্বর শুধু ব্রেকটা একটু নড়বড়ে!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০২




দলের ভিতর শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযান দেখে উপরের শিরোনামটি মনে পড়ল, ভাল কিছু করতে হলে আগে নৈতিক স্বচ্ছতা থাকতে হয় তাহলে মানুষ মন থেকে নিবে।
ছাত্রলীগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি রক্তাক্ত লাল পদ্ম

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪


সেল ফোনটা বেজেই চলেছে ।বিরক্ত হয়ে ফোনটা তুললাম। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে বলে নাম্বারটা না দেখেই চেঁচিয়ে বললাম ।
-এই কে ?
- আমি ।
মিষ্টি একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবাই যদি দেশকে ভালোবাসে, এত ভালোবাসা যায় কোথায়?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৮



সবাই ভালোবাসা চায়, সবাই ভালোবাসতে চায়, নারীরা হয়তো একটু বেশী চান, এটাই প্রকৃতির নিয়ম! কোন দেশ তার নাগরিকের কাছে কোনদিন ভালোবাসা চাইতে আমি শুনিনি; বিশেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×