ঢাকাকে বলা হয় জাদুর শহর। এই জাদুর শহরে এখন কঠোর লকডাউন চলছে। রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা টহল দিচ্ছে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বৃষ্টির দিন রাজধানী ঢাকা ছিল অনেকটাই ফাঁকা। রাস্তায় চোখে পড়েনি যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি। জরিমানা ও মামলার ভয়ে গাড়ি এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা আগের দিনে তুলনায় ছিল অনেক কম। জরুরি ছাড়া কাউকে বাইরে বের হলে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলাও দেওয়া হয়েছে। লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীতে ৩২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মোট মামলা হয়েছে ২১৯টি এবং এদিন ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


মূল সড়কসহ মহল্লার প্রধান সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়লেও পাড়া-মহল্লা, অলিগলির চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকতে দেখা গেছে। কাঁচা বাজার, হোটেল ও মুদি দোকানসমূহে বেচাকেনা ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় গত দুদিনে পুরান ঢাকায় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তারপরও মানুষকে ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না।



লকডাউনে রাস্তাঘাট ফাঁকা। তার ওপর বৃষ্টিতে লোকজন ঘর থেকে বের হয়না। ফুটপাতে মানুষের চলাচল নেই, কাঁচা বাজারেও নেই ভিড়। ফলে যাত্রী পাচ্ছেনা রিকশা চালকেরা।

এদিকে থেমে নেই মরণব্যাধি করোনায় মৃত্যুর হার। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ১১০ জনের বেশি নিহত,৮ হাজার ৪৮৩ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত পাঁচ দিনে ৪২ হাজারের মতো করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুবরণ করেছেন ছয় শতাধিক। অক্সিজেন সংকটে বেড়েছে মৃত্যুহার। করোনায় মৃত্যু ঠেকানোর ব্যবস্থাও অপর্যাপ্ত। করোনার রোগী শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি ও টানা ষষ্ঠ দিনের মতো মৃত্যু সংখ্যা একশ ছাড়িয়েছে। এর মাঝেই রাজধানী ঢাকার পাঁচটি সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ফাঁকা নেই।




করোনার টিকা/ভ্যাক্সিন নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষার্থীরা সহসাই টিকা/ভাক্সিন পাচ্ছেনা। প্রবাসীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সার্ভার জটিলতায় টিকা নিবন্ধনের প্রথম দিনেই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসী কর্মীরা। এতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে অনেক বিদেশযাত্রীর। লকডাউন ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিবন্ধন করতে আসা প্রবাসীরা ক্ষুব্ধ। পর্যাপ্ত টিকা/ভ্যাক্সিন সরকারের হাতে নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে করোনাভাইরাসের ২৪ লাখ টিকা নিয়ে দুটি বিমান গতকাল রাতে ঢাকায় পৌঁছেছে। আজ এসেছে ১২ লাখ ডোজ। অথচ দেশে এই মুহুর্তে টিকা/ভ্যাক্সিনের প্রয়োজন ৪/৫ কোটি ডোজ।





সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০২১ বিকাল ৪:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




