somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমএলএম ব্যবসার নামে রাবি শিক্ষকের প্রতারণা

১৪ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘ঘরে বসে ডলার আয় করতে চান, ১শ নয় ৫০ নয় মাত্র ১০ কিকে ১০ মিনিটে ঘরে বসে মাসে আয় করুন ৫ হাজার ১০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। কোয়াল্যান্সার নামের এমএলএম কোম্পানীর এমন সব চোখ ধাঁধাঁনো বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবন, আবাসিক হল, দোকানপাটসহ পুরো ক্যাম্পাস। এসব নয়ন জুড়ানো বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে একেক জন একাধিক আইডি খুলে শুরু করেছে আউটসোর্সিংয়ের নামে এমএলএম ব্যবসা। তবে এ ব্যবসায় কর্তৃপক্ষের দেয়া কোটা পূরণ করেও টাকা না পাওয়ায় প্রতারণার শিকার হচ্ছে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামের ১০৬/১০৭ নং কক্ষ ভাড়া নিয়ে চলছে কোয়া-টাইমেট কোয়ালিটি (ইন্টা:) লিমিটেডের কাজ। নিজেদের রঙ্গিন স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক গ্রাহক তাদের পড়ালেখার মুল্যবান সময় নষ্ট করে ছুটে আসে কোয়ালেন্সারের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে। দুপুর ২ টা হতে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলে অফিসের কাজ। অনেকে আবার নিজের কাজ সেরে নিতে আগে ভাগেই চলে আসে কোয়া-টাইমেট অফিসে। রঙ্গিন পোস্টারে ১০ মিনিটে ৫০ কিক করার কথা বলা হলেও ইন্টারনেট সার্ভারের সমস্যার কারনে কখনো কখনো ২/৩ ঘন্টা বসে থাকতে হয়।
বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, ১’শ কোটি টাকা উপার্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ইন্টারনেটে কিকের মাধ্যমে টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় এক বছর আগে সরকারী অনুমোদন ছাড়াই এমএলএম ও পিটিসি কোম্পানী কোয়া-টাইমেট কোয়ালিটি (ইন্টা:) লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান চালু করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জুলফিকর আহমেদ। যেটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানীর নামে নিবন্ধনকৃত। এই কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব তিনি নিজেই পালন করছেন আর স্ত্রী মর্জিনা রহমানকে চেয়ারম্যান করে পিতা আব্দুল খালেক কে বসান জোনাল অফিসারের দায়িত্বে। এটি প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু করলেও লোকসানের ভয়ে এখান থেকে সরিয়ে নিজ জেলা সাতক্ষীরায় স্থানান্তর করেন। সেখানে জনসাধারণের মাঝে এর কার্যক্রম চালু হলে গত প্রায় এক বছর আগে তিনি রাবি’র স্টেডিয়াম মার্কেটের ১০৬/১০৭ নং কক্ষে অফিস নিয়ে জোরেসোরে কার্যক্রম চালু করেন। আর কমিশন প্রচারণার কাজে ব্যবহার করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের। এতে দিন দিন গ্রাহক সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে রাবিতে কোয়ালেন্সারের গ্রাহক সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তবে এক ব্যাক্তির বিভিন্ন নামে রয়েছে একাধিক আইডি (ড্যান)। আইডিতে প্রতি এক বছর মেয়াদের জন্য ১২/১৫ হাজার টাকা করে দিয়ে ভর্তি হতে হয়। বিনিময়ে গ্রাহক প্রতি মাসে প্রতিটি আইডিতে পাবেন ৩ হাজার ১শ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা। শর্ত হলো প্রতিদিন গ্রাহককে ১০০ টি এ্যাড (বিজ্ঞাপন) ভিউ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় এক বছর কোম্পানীর কার্যক্রম চললেও গ্রাহকদের টাকা দিতে প্রায়ই তালবাহানার আশ্রয় নেয় এমডি জুলফিকর আহমেদ। এরই সুত্র ধরে গত ২৮ জুন এমডি জুলফিকর আহমেদ কোম্পানীর লোকসান দেখিয়ে ওয়েবসাইটে গ্রাহকের আইডি প্রতি ১ হাজার টাকা করে কেটে নেয়ার ঘোষনা দেন। এতে গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। এর কিছুদিন পর ১ জুলাই আবারো একই কারনে আরো ৫শ টাকা কেটে নেয়ার ঘোষনা দিলে গ্রাহকরা ক্ষিপ্ত হয়ে সাতক্ষীরার রসুলপুরস্থ অফিসে হামলা চালায় এবং অফিস ভাঙচুর করে এমডিকে অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ওই শিক্ষক গ্রাহকদের পুরো টাকা ফেরত দেয়ার ঘোষনা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনার পরের দিন রাবি ক্যাম্পাসেও গ্রাহকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে অফিসে অবস্থানরত কর্মচারী গ্রাহকদের স্যার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে। এর পর থেকে আতœগোপনে রয়েছে কোম্পানীর এমডি, চেয়ারম্যানসহ সকল কর্মচারী।
ভুক্তোভোগীদের অভিযোগ, এঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসের কোয়াল্যান্সারের অফিস খোলা হচ্ছে না। বেশ কয়েকদিন অফিসে গিয়েও ফিরে আসতে হচ্ছে। এছাড়া কোম্পানীর কর্মচারীদের দেয়া ফোন নাম্বার কল দিলে তা রিসিভ করা হচ্ছে না । এতে করে ব্যাপক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এখানকার গ্রাহকরা। সরেজমিনে গিয়ে গ্রাহকদের কথার সত্যতা পাওয়া যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোয়া-টাইমেট কোয়ালিটি (ইন্টা:) লিমিটেড এমএলএম ব্যাবসার পাশাপাশি কারিগরী বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনের নাম ভাঙ্গিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষনণ প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষাধিক টাকা। এ কোম্পানীর অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম গুলো হলো: বিসিএস আইইএলটিএস জবস কোচিং, ড্রাইভিং, ওয়েব পেজ ডিজাইন, গ্রাফিক্স এন্ড এ্যানিমেশন, প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ, ফটো এন্ড ভিডিও এডিটিং, ইংলিশ লার্নিং প্রোগ্রাম, জবস প্রিপারেশন প্রোগ্রাম, এমবিএ এ্যাডমিশন কোচিং এবং সেলফোন সার্ভিসিং।
এদিকে কোয়াল্যান্সারে ভর্তি না হওয়ায় একাধিক বিভাগীয় শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলাফল খারাপ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, জুলফিকর স্যার কাসের মধ্যে সরাসরি কোয়াল্যান্সারে ভর্তি হওয়ার কথা না বললেও আকার ইঙ্গিতে তিনি ওই কোম্পানীতে ভর্তি হতে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করতেন। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন সময়ে স্যার আমাকে কোয়াল্যান্সারে ভর্তি হতে বলে। কিন্তু আমি ওই কোম্পানীতে ভর্তি না হওয়ায় স্যারের সাবজেক্টে আশানুরুপ মার্কস পাইনি। এর ফলে আমাকে অনেক মাসুল গুনতে হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে এ প্রতিবেদক কোয়াল্যান্সার অফিসে পাওয়া মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়াল্যান্সার ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী অফিসের এক সহকারী বলেন, এটি একটি ভূয়া কোম্পানী। আমি শুধু সেখানে কম্পিউটার প্রশিক্ষনের কাজ করতাম। আপনি এদিকে দৌড়া দৌড়ি করবেন না।
অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের এমডি এবং রাবি’র আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষক ড. জুলফিকর আহমেদ জানান, যে সকল গ্রাহক আমাদের কাছে অভিযোগ করেছিল আমরা প্রায় সবার টাকাই ফেরত দিয়েছি। আমরা ক্যাম্পাসের কোয়াল্যান্সার অফিস বন্ধ করে দিয়েছি। নতুন একটি প্রোগ্রাম খোলার প্রক্রিয়া চলছে। এতে যারা কাজ করতে আগ্রহী তাদের ভর্তি করা হবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কানামাছি

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫০


তারপর দীর্ঘ ভ্রমনক্লান্ত পদক্ষেপ
ক্রমশ শ্লথ হবে,
সমুখে গন্তব্যগামী পথ হ্রস্বতর -
দূর থেকে চোখে পড়বে
স্বাগত বৃক্ষের আবছা হাতছানি ।
হঠাৎ নাকে এসে লাগবে আউশ ধানের
ভাত ফোটার ঘ্রাণ
কিংবা নাম না জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×