যাইহোক, কলেজে উঠার পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম, আহা এবার বুঝি সাম্পান বেয়ে নদী না হোক অন্তত বিলের মাঝে শাপলা তুলতে পারবো। এরই মাঝে একডিন আমার পিতৃদেব এর আদেশ, 'বাছা, ইয়াকুব সাহেবের ছেলে তোমাদের কলেজে ভর্তি হইতে ইচ্ছুক । আমি বড়ই প্রীত হইবো তুমি যদি ওনার বাড়িতে তোমার পদধুলি দাও'। আমি মনে মনে খানিক খেদোক্তি করলাম, কোথাকার কোন ইয়াকুব সাহেবের ছেলে বেয়াকুব, তার জন্য আমি অচেনা এক বাড়িতে ধরণা দেবো, কাভি নেহি... ...
এরপরের বার যখন আবার আমার পিতৃদেব এর সাথে 'মিটিং' বসল, তিনি তো আমার উপর মহা চটিয়া গেলেন। বলিলেন, তোমাকে পই পই করিয়া বলিবার পরও কেন ইয়াকুব সাহেবের বাড়ি গমন করিলা না, আমার কথার কোন মুল্যই কি তোমার নিকট অবশিষ্ট নাই? আমি করুন মুখে মাতৃদেবীর মুখপানে তাকাইতেই বুঝিলাম, বিশেষ লাভ হইবে না। অতএব বাছা, চল, নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, নিজের সোনালী সময় (?) কোরবানী করিতে। গজগজ করিতে করিতে চলিলাম ইয়াকুব সাহেবের বাড়ির পানে। কিন্ত তখনো আমি কিঞ্চিৎ পরিমান ও অনুভব করিতে পারি নাই, কি চলন বিল পরিমান 'সারপ্রাইজ' আমার জন্য ওৎ পাতিয়া অপেক্ষা করিতেছে আমাকে সাম্পানে করিয়া মাঝ দরিয়ায় শাপলা তুলিতে লইয়া যাইবে বলিয়া........।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




