পূর্ব প্রকাশিতের পর... ... ...
ইয়াকুব সাহেবের বাড়িতে ওনার বেয়াকুব পুত্র ধনকে পাইলাম না, কিন্তু যাহা দেখিতে পাইলাম তাহাতে যারপরনাই খুশি হইয়া আমার পিতৃদেবকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেও ভুলিয়া গেলাম। ইয়াকুব সাহেবের দ্্বিতীয়া কন্যা, বয়ষে আমার হইতে বছর খানেকের ছোট, সদ্য মহাবিদ্যালয় গমনকারীনি। আর দেহের বর্ণনা নাইবা দিলাম। আহাাাাাা...
ইয়াকুব সাহেব কিংবা ওনার বেয়াকুব পুত্রবর বাটিতে অনুপস্থিত থাকলেও ইয়াকুব সাহেবের সহধর্মনী আমাকে উল্ললেখযোগ্য আপ্যায়ন করিলেন যাহা ভুলিতে পারিবনা। যাইহউক, ওনাদের পুত্র সম্পর্কে খানিক আলাপ চারিতার পর আমার আলাপ জমিয়া গেল সেই ষোড়শীর সনে। ঘন্টা কয়েক কাটাইবার পর পুনরায় আগমন করিবার প্রতিশ্রুতি করিয়া সেইস্থান হইতে প্রস্থান করিলাম। পথি মধ্যে জয়তু পিতৃদেব বলিয়া নাচিতে নাচিতে বাড়ির পানে হাটা ধরিলাম।
কয়েকদিন পরের কথা। ইতোমধ্যে আরো ও দুইবার ঐ বাড়িতে আমার পদার্পন হইয়াছিল, এবং বলাই বাহুল্য সেই ষোড়শীর সাথে যোগাযোগটাও আরো উন্নত হইল। যাহা বলিতেছিলাম, স্থানীয় মহাবিদ্যালয়ে গমন করিলাম বন্ধুগনের সহিত সাক্ষাৎ করিবার অভিপ্রায়ে । কিন্তু আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমার নায়িকার সহিত কিঞ্চিৎ ভাব মারা। কিন্তু সেইদিন ভাবের ডোজের পরিমানটা বোধহয় খানিক বেশি ই হইয়া পড়িয়াছিল। যাহাহউক, আমার ই দুই বন্ধু (একজন মেল আরেকজন ফিমেল) -র বিশেষ উদ্দোগে আমার ডিংগী তখন জলে ভাসিল...।
কিন্তু ভাসিলে কি হইবে, ঐযে কথায় আছে না, ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। আমার অবস্থাও তদরুপ হইয়া দাড়াইল। আমি সর্বদাই কাহারো চোখ সুন্দর তো কাহারো নাক, কাহারো ঠোট তো কাহা দাত, কাহারো আবার কেশ। এতো সুন্দরের কম্বিনেশন ঘটানো বিধার নিকট সম্ভবপর হইলেও আমার নিকট তাহা খুজিয়া বাহির করা বড়ই ক্লেষ্টযুক্ত কর্ম বলিয়া বিবেচিত হইতো। আর উহার কারণেই মুলত আমার কোষা নৌকা খানি পানি পাইতেছিলনা। যাহাহউক, একদিন এলাকায় জনৈক পঞ্চদশী কে দেখিয়া মনের ভিতরে নজরুল, রবীন্দ্রনাথ পুনরায় মাথা দিয়া উঠিল। মনে হইতে লাগিল, জীবনানন্দ সাহেবের বনলতাই কেবল না, স্বয়ং জীবনানন্দ সাহেব ই জীবিত হইয়া ধরাধামে আবির্ভুত হইয়াছেন। বুকের ঠিক এইখানটাতে হাবলু ভাইয়ের কংগো ধুরুম-ধারুম শব্দ করিয়া বাজিতে লাগিলো... ... ...
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




