somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ঠোলা ঠ্যালা দিবস", ফুলিশ ও আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৬ বিকাল ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাহ্, লোকজন মানুষ থুককু পুলিশ হইলো না। এতো করে কইলাম ওরা যখন শপথ নেয় তখন কি তাদের মনের পথের খবর কেউ রাখে? বাটে পড়ে না এরা সেই শপথ বানী কপচায় তাও আরেকজনের মুখে শুনে শুনে, কিন্ত অন্তরে যে তাদের জ্বলজ্বল করতে থাকে তুষের আগুন।

ম্যাংগো পিপোল তথা জনগন কে ঠ্যাঙানোর আগুন, হরতাল প্রতিরোধের নামে বিরোধীদলের বড় বড় নেতাদের চর্বিযুক্ত গতরে নিজের ডান্ডা বুলানোর ঠান্ডা বাসনার আগুন, রুবেল নামক মেধাবী ছাত্রদের হুদাহুদি অস্ত্র মামলায় ফাসিয়ে নির্মম অত্যাচারে ভবলীলা সাঙ্গ করে নিজের মেধার (!) বহি:প্রকাশের আগুন, রেল স্টেশনে টহলের নামে অসহায় বালিকার উপর উপগত হবার আগুন, যানবাহন নিয়ন্ত্রনের নামে রিক্সাওয়ালাদের কাছ থেকে পর্যন্ত এমনকি 2 টাকা ঘুষ নেবার আগুন, আইনের পবিত্র পোশাক গায়ে চাপিয়ে অপবিত্রভাবে নিজের হীন স্বার্থ চরিথার্থ করার আগুন...।

দেশের ও জনগনের অতন্ত্র প্রহরী!.... কথাটা বাংলা অভিধানেই তো ভালো মানায় দাদা, কী দরকার ছিল এটাকে টেনে হিঁচড়ে এতসব আগুনে প্রজ্বলিত মানব (আবারো) থুককু, পুলিশ জাতির সাথে সেঁটে দেবার? এরা কী বলেছে নাকি রাজপথে মশাল, হারিকেণ, কূপি, মোমবাতি, আগরবাতি মিছিল করেছে ওই সাইনবোর্ড নিজেদের গায়ে লাগানোর জন্য! সব দোষ তো দাদা আপনাদের ই...। আবার আপনারাই এদের বদনাম করেণ, ছিছি....।

কয়লা ধুইলে কী আর ময়লা যায় দাদা। কেহ বলেন বেতন বাড়ালেই সব ঠিক হয়ে যাবে, আরে এটা ভুলে গেলেন, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ই ভানবে, আমাদের বঙগীও পুলিশ মতান্তরে ফুলিশরা মার্সিডিজে বসেও চাঁদাবাজি করবে। এটাই নিয়ম, এটাই নিয়তি.... প্রতিকার করার উপায় নাই তো আর কী, মুড়ি খাও বসে বসে, ফুলিশী মুড়ি...।

এখন কিছু ঘটনা, অবস্থা বিশ্লেষন করে দেখা যাক ঠোলাদের ঠৈলিক আগুনের বহি:প্রকাশ-

ঘটনা 1 : কলাবাগান ক্লাবের সামনে। অলকা বি বাসের গতি হঠাৎ রোধ। তাড়াহুড়ায় ব্যস্ত আমি, লেইট হলেই দেরী হয়ে যাবে, এই আশংকায় কুকড়ে উঠে আমি জানালা দিয়ে বাইরে খোমাটা বের করলাম। কনষ্টেবল ভাইয়ের সাথে ড্রাইভার ভাই যারপর নাই বিনয়ী... বুঝতে পারলাম না, এইসব গাড়িতেও বেআইনী কাগজধারী লোকজন? অদূরে দেখতে পেলাম লাল রঙের মোটরবাইকে নিশ্চিন্তে ঠ্যাং দোলানো ঠোলা সর্দার কে, চোখে দামী রোদ চশমা, কোন খেয়ালেই নেই কত অফিস যাত্রি বাসের ভেতর অপেক্ষারত, কত স্কুল গামী বালক-বালিকা সময়ের সাথে যুদ্ধরত। মিনিট বিশেক বিতন্ডার পর ওনার টনক নড়লো, ভূড়ি সর্বস্ব বিশাল বপু দুলিয়ে দুলিয়ে উনি এলেন, দেখলেন, জয় করলেন, হাত পকেটে ঢোকালেন এবং পাপী বাস যাত্রীদের মুক্তি দিলেন...।

ঘটনা 2 : নীলক্ষেত মোড়ের পেট্রোল পাম্প (গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ঘেঁষে)। বেশ কতগুলি বছর শেষে ঠিক আগের রাতে দেশে ফিরেছি। ক্যান্টনমেন্ট থেকে মামাতো বোনের বাসা হয়ে ফিরছি। কাঁটাবন ছাড়ালে ড্রাইভার জিজ্ঞেস করলে বল্লাম শর্টকাটে নীলক্ষেত হয়ে চলে যেতে। ড্রাইভার ও মুখে কূলুপ এঁটে সামনে চলে গেলো। ফ্যাকড়া বাঁধালো পেট্রোল পাম্পের সামনের কিছু ঠোলা। ড্রাইভার নামলো, খানিক পরে এসে কাগজপাতি নিয়ে গেলো... ঠিক বুঝতে পারছি না ঘটনা কী! ড্রাইভার এসে বল্লো, ভাইয়া একটু নামেন, আপনি গিয়ে কথা বল্লেই ছেড়ে দেবে। জিজ্ঞেস করতেই জানালো, এই রাস্তায় গাড়ি চলা নিষেধ। নিষেধ তো এদিক দিয়ে এলেন কেন? আর আমাকেও তো বলেন নি সেটা। এখন আমি কী করবো?... যাইহোক, বেচারার কথা ভেবে নামলাম, এগিয়ে গেলাম ঠোলার দিকে, তিনি নিয়ে গেলেন সর্দারের কাছে। বয়ান করলাম, দেখুন ভুল হয়ে গেছে, আমি জানতাম না এই সড়ক বন্ধ! ভদ্্রলোক বেশ ভদ্্রই বলা চলে, আমার সাথে তো নিজের মার্শাল আর্ট প্র্যাকটিস করেণ নি, তাই! অমুক ধারা তমুক ধারা বুঝিয়ে বল্লেন, আইন হবে, মামলা হবে, পেরেশানী, কোট কাছারী- নানান ঝামেলা। আমি গো-বেচারা মানুষ, পকেটে হাত ঢুকিয়ে শুনলাম। এক কাজ করুণ, হাজার খানেক টাকা ওর হাতে দিয়ে দিন, শুধু শুধু কী দরকার এতো ঝামেলাতে যাবার?
এবার আমার মাথায় ঠাটা পড়ার যোগার, এঁ্যা বলে কী, ঘুঁষ চায়? জীবনে প্রথম ঘুঁষ দেবার সুযোগ, মিস করবো? বেরসিক আমি বলে উঠলাম, এক কাজ করেণ ভাই, মামলাই করে দেন। কারণ আমি আপনাকে টাকা দেব না, ধন্যবাদ।

ঘটনা 3 : বহুদিন পর স্কুলের বন্ধুদের সাথে দেখা। সবাই কেমন বড় বড় ভাব দেখায়। তাদের দেখে আমার মাঝে হায় হায় ভাব, আমি শালার বড় হতে পারলাম না! হক মিয়ার আলু পুরির দোকান এখন অনেক উন্নত। ঢালিউডের নতুন তারকারা জ্বল জ্বল করছে চারদিকে। তাই দেখছিলাম আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারছিলাম। হঠাৎ একজন বলে উঠলো, অই অরে কামরুল ভাইয়ের লগে পরিচয় করাইছস? একজন কয় না, এহনো করাই নাই...। ব্যাস শুরু হয়ে গেল কামরুল ভাই পরিচয় অভিযান। কে এই বান্দা, সেটা উত্তর দেবার ফুরসত কারো নেই। সবাই তাদের বন্ধুকে কোন এক "হিরো" কামরুল ভাইয়ের সাথে পরিচয় করাতে ব্যস্ত। নিয়ে ঢুকলো স্থানীয় ফুলিশ ফাঁড়িতে, আমি মনে মনে বলি শালারা, এই ছিল তোদের মনে? ইস্কুলের বিটলামীর ঝাল এখন ফুলিশ দিয়ে পঁ্যাদিয়ে উসুল করবি? মন আমার কুৎ কুৎ করে!
পরিচিত হলাম, দাড়োগা কামরুলের সাথে। কোক খেলাম আর খুব ভালো করে পর্যবেক্ষন করলাম কামরুল ভাইকে। বয়স খুব বেশি না, পড়নে অরিজিনাল বস্ এর টি-শার্ট, হাতে Police ব্রান্ডের রোদ চশমা, গতর থেকে মূল্যবান সুগন্ধির ঘেরাণ, যার দাম কম করে হলেও 3 হাজার টাকা।

ঠিক তার পরদিন আবিস্কার করলাম ভদ্্রলোক থাকেন মাসিক 6 হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারিত সুরম্য ফ্ল্যাট বাড়িতে, একমাত্র ছেলেকে পড়াচ্ছেন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। আমার ছোট্ট মাথায় খেল্লো না, কত বেতন পান এই কামরুল ভদ্্রলোক?
ও একটা জিনিষ বলে রাখি, আমার স্কুলের বন্ধুরা সবাই মোটামুটি রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ছিল তখন। এলাকা থেকে বেশ ভালোই ইনকাম ছিলো তাদের, যাইহোক।


ঘটনা 4 : শাহ্বাগ মোড়। আমি রাত 10 টার দিকে রাস্তা পাড় হয়ে ভলভো বাস স্টপেজের দিকে যাচ্ছি। বারডেম এর কোনায় হঠাৎ একজনের সাথে আমার ব্যাগের ধাক্বা, পিছন ফিরে সরি বলতে গিয়ে ফেঁসে গেলাম। ছিঁচকে ছিনতাই কারী। অদূরেই দেখলাম টহলরত ঠোলা ভাইয়েরা। প্রদীপের নিচেই অাঁধার, এটাই স্বাভাবিক, মেনে নিলাম। হাতে কিছু ছিলনা যে তাদের জন্য রেখে আসবো। কোন মতে ছাড়া পেয়ে রাস্তার ওপারে গিয়ে দুজন ফুলিশের কাছে ঘটনাটা বর্ণনা করলাম, বুঝতে পারলাম ভুল জায়গায় চলে এসেছি। ওরা আমাকেই বরং সেই লুটেরাদের একজন বানানোর চেষ্টায় রত। ঘাট মেনে বন্ধুকে ফোন করলাম.... "দোস্ত বাঁচা"। ও এল, নিজের পরিচয়ে আমাকে বাঁচালো, খানিক গালাগাল করলো আমার গাধামীর (?) জন্য....।

ইচ্ছে ছিল আরো কিছু ঘটনা টানার। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া কিছু অনিয়ম, যার প্রায় অনেক গুলোর সাথেই আমরা কম বেশী সবাই পরিচিত দৈনিক পত্রিকা গুলোর সৌজন্যে। যাদের কে পোষার জন্য খেঁটে খাওয়া মানুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে, সেই তারাই যখন তখন রাবণ মূর্তি ধারণ করে রূদ্্র আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই অন্ন যোগানদাতাদের উপর। তাঁদের হিংস্র থাবা থেকে রেহাই পায় না ইয়াসমীন, সীমা রা, তাদের মতের বাইরে গেলেই মরতে হয় রুবেলদের। তাঁদের ঔধত্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে গেলে সাংবাদিকরা হয় বেধরক পিটুনির শিকার। সারা দেশ জুড়েই এরা আতংক হয়ে বিরাজ করে। আগের দিনে মায়ে সন্তানদের ঘুম পাড়াতেন ভূত-প্রেত আর ডাকাতের ভয় দেখিয়ে, আর এখনকার মায়েরা সন্তানদের এ.সি. আকরাম, আকবর, আনোয়ার, কামরুলদের হিংস্রতার গল্প বলেন।

একটা কৌতুক বলি-

একবার এক দীনহীনের ঘরে চুরি হলে বাঙলা সিনেমার মতোই ফুলিশ গিয়ে হাজির হলো সবার শেষে অনেক পরে, যখন চোর মহাশয় তল্পি-তল্পা সহ চম্পট। তো বেচারা ফুলিশ বলে কথা, কিছু তো একটা করতে হয়। ব্যাস আর যায় কোথায়। কোমড়ে দড়ি বেঁধে নিয়ে চললো সেই অসহায় গো-বেচারা দীনহীনকে। থানায় নিয়ে গেলে বড় কর্তা জিজ্ঞেস করলেন-

-: এটা কাকে ধরে নিয়ে এসেছো?

উত্তর এলো-

-: ওই যে, যেতের বাড়ি ছুরি হইলো, যেতের বেবাক কিছু খোয়া গেল, যেতে ফতের ফকির হইলো, তেরে হুজুর...।

-: ঠিক কামটাই করেছো, ভরো ব্যাটারে লক্-আপে।

কী হবে এই জটিল জীবদের গালি দিয়ে! কী হবে এদের উপেক্ষা করে, এরা যদি এতোটা বুঝতোই তাহলে তো আজকে আমাদের "ঠোলা ঠ্যালা দিবস" পালন করতে হতো না এই ব্লগ সাইটে!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন ভালো না

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



চোরাবালির মতো টেনে ধরা নিঃশব্দ বিকেলে,
অদৃশ্য কিছু হাত ছুঁয়ে যায় ভাঙা স্মৃতির ধূলি,
বেঁচে আছি এইটুক স্বীকারোক্তি,
তোমারে দেখিনা বহুদিন, তবু রয়ে যাও ভীষণ ভুলই।

সমুদ্র ডাকে দূর থেকে নোনা হাওয়ার ভাষায়,
অপেক্ষারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×