somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কতিপয় শিক্ষণীয় গল্প

২০ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি ছেলের গল্প বলা যাক।
ভারী সুন্দর গান করতো সে। তার মোহনীয় সুরে
থমকে যেত বাতাস। মেঘেরা কেঁপে উঠতো
অঝোরে ঝরবার এক অদম্য ইচ্ছায়। হঠাৎ একদিন,
গলির এক বড় ভাই এলো তার কাছে। তারপর দেখা গেল
একবার দু’বার করে হরদমই আসছে সে।
কি জানি, কি এক সখ্যতা গড়ে উঠলো তাদের মাঝে।
এভাবে পেরিয়ে গেল কয়েকটি মাস। এলো দৃশ্যপটে পরিবর্তন।
যে ছেলেটির কণ্ঠে ছিল জীবনের গান,
সে জীবন নিয়ে খেলতে শুরু করলো; হাতে মেশিনগান।



আরেকটি গল্প শুরু হোক।
গল্পটি এক ভদ্রলোকের। নিখুঁত নিপাট ভদ্রলোক।
হঠাৎ করেই তার হৃদপিণ্ড বিদ্রোহ করে বসলো।
প্রচন্ড কষ্ট বুকে নিয়ে তিনি রাস্তায় এসে দাঁড়ালেন;
একটা ট্যাক্সি অথবা রিক্সার আশায়। কিন্তু সেদিন
হরতাল ছিল। তাই দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ ভাড়াতেও
কোন রিক্সাওলার হৃদ্যতা কেনা যায়নি।
দিকে দিকে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, লকলকে আগুন
রিক্সাগুলোর যাত্রা রুদ্ধ করলেও হৃদযন্ত্রের নির্দয় দ্রোহ
থামাবার অধিকার সেদিন হরতালের ছিল না।
তাই একটা মানুষ না হয় চলেই গেল দেশের স্বার্থে।



শেষ গল্পটা পাড়ার রহমত মিয়ার।
পাড়ার গোড়া পত্তনের ইতিহাসটা ঠিক ঠিক মিলে যায়
তার চায়ের স্টলের সাথে। সবচে’ মুখর আড্ডাগুলো
দু’পুরুষ জমে উঠছে এই রহমত মিয়ার চা খেতে খেতে।
একদিন পাড়ায় কিছু বখাটে ছোকরার আবির্ভাব ঘটলো।
পার্টির কল্যানের খাতিরে তাকে মাসিক চাঁদার খাতায় নাম লেখাতে হলো।
কিছুদিন বাদেই গড়ে উঠলো আরো ক’টি কল্যানকামী দল।
অবশেষে অতিষ্ঠ হয়ে চাঁদা থেকে পরিত্রাণ চাইলো সে।
পার্টিগুলোও তাকে পরিত্রাণ দিল। তবে চাঁদার খাতা থেকে নয়;
চাঁদাবাজীতে নিঃশেষ হওয়া একটা জীবন থেকে।



এবার গল্পগুলোর জমিনে একসাথে প্রবেশ করি,
ঈশপের আদলে কোন উপদেশ নয় বরং তিন-তিনটে গল্পের শেষে
শুধুমাত্র একটা বিষয় শিখি-
আসুন আমরা কিছু মানুষকে ঘৃণা করতে শিখি।
অন্তত, তিনটে ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের খাতিরে।




-রুম্মান মাহমুদ
(৭ নভেম্বর, ২০০৬)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:৪৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×