
এখানে জীবন বড়ো নিস্তব্ধ।
নলিনীকান্তের ছবির মত।
নলিনীকান্তের ছবির হাটে কেউ যেতো না।
কঠিন চীবরে শূন্য পড়ে থাকতো সে মাঠ।
কত পাখির ডাক, কত স্বপ্নের দাগ নলিনীকান্ত এঁকে যেতো !
তবু প্রাণের ঢুঁও মিলতোনা।
আপন মনেই নিজের ছবির বনে ঘুরে বেড়াতো নলিনী।
পাখির মত এডাল থেকে ওডালে উড়ে বেড়াতো।
একবার ভীষন ঝড় এসেছিলো নলিনীর বনে।
সমস্ত ছবি উড়ে গিয়েছিলো অজানা কোথাও।
ভীষণ মন খারাপে সেবার প্রথম কেঁদেছিলো নলিনী।
যে মেঘের সাথে তার এতদিনের আনাগোনা, সুখ-দুঃখের সখ্য,
রাত বিরাতে যার ভেলায় চড়ে সে সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিতো,
সে এমন বিশ্বাসঘাতক হবে !
সেটা নলিনী তার ছবিঘুমের স্বপ্নেও ভাবেনি।
আজ চারপাশটা দেখে আমার বারবার নলিনীর কথাই মনে হচ্ছে।
হাঁড়ি-কুড়ী, বাসন-পেয়ালা দিয়ে যে ছবি আমি এঁকেছি সংসারে ;
তা যেনো নলিনীর হাটের মতই বিরান হয়ে আছে।
কত রন্ধন, কত ব্যঞ্জনের স্বাদ আমি এঁকে যাই,
গন্ধেও কেউ একবার উঁকি দেয়না।
আমি আপনমনেই বিছানা সাজাই, কারও জন্য স্নানের তোয়ালে ভেজাই,
ডাকছে ভেবে ছুটে যাই এঘর থেকে ওঘর।
একমাত্র সঙ্গি নিজের ছায়াকে বড়ো ভয় হয় আজকাল।
যে ছায়ার কাছে আমি রোজ গোপন কথা কই,
যারে আমি ভাসিয়ে দিতে পারি কল্পলোকে পঙ্খীরাজের পিঠে,
সে যদি কোনদিন নলিনীর মেঘ হয়ে যায় !
সে যদি আমার হাত দিয়ে আমারেই খুন করে বসে !
নলিনী তো তবু কেঁদেছিলো, আমি তো সে সুযোগও পাবো না !
তোকে বড় মনে পড়ছেরে নলিনী।
একা থাকার প্রতিজ্ঞা না করলেও কি দোকা হতে পারতাম ?
তোরা যে সেই দাঙ্গাতেই হারিয়ে গেলি !

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



