


আমি কুসংস্কার মানি না, কিন্তু সেদিন আক্রান্ত হয়েছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিল আমি যেতে দেরি করবো, যাওয়ার আগেই মোড়ক উন্মোচন এবং ছবি তোলা হয়ে যাবে। আবার মনে হচ্ছিল তারিখ অশুভ তের তাও সোমবার; না জানি কি ঘটে ! যদিও আমি স্বভাবতই ধীর স্থির প্রকৃতির তাই ভেতরের অস্থিরতা বাইরে খুব ঠাণ্ডা ভাবে রেখেই ‘দীপনপুর’ গেলাম ১০ মিনিট দেরীতে। না, শুরু হয়নি। দীপনপুরের যেখানে মঞ্চ তার নাম ‘দীপনতলা’। আমার খুব ভালো লাগলো পুরো পরিবেশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই লেখক, পাঠক, অতিথিরা সবাই চলে এলেন এবং শুরু হয়ে গেলো সাকিরা পারভিন সোমা আপুর দারুণ উপস্থাপনা। গান এবং চমৎকার কথা বলার ধরণ দিয়ে সোমা আপু পুরো অনুষ্ঠানটাই মনোমুগ্ধকর করে রেখেছিলেন। শুরুতে ছিল প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ-কে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে মুম ভাইয়ের লেখা একটি কবিতা আবৃতি। এরপর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। অতঃপর একে একে লেখকদের প্রায় সবাই মঞ্চে অনুভূতি ব্যক্ত করলেন, অতিথিরা বক্তব্য রাখলেন। ডঃ আহমেদ রেজা স্যারের বক্তব্য খুবই ভালো লাগলো। অনুষ্ঠান শেষে আমরা সোৎসাহে ‘ভূত’ রেস্তোরায় গেলাম। জম্পেশ আড্ডায় ভোজন শেষে প্রকাশক আবিদ এ আজাদ ভাই লেখকদের সবার হাতে একটি করে খাম তুলে দিলেন। জীবনে প্রথম লিখে সম্মানী পাওয়া ! বাসায় এসে মায়ের হাতে বইটি তুলে দিতে তর সইছিল না। আমার মা তাঁর স্বভাবজাত ধীরস্থির ভঙ্গিতে বইটি হাতে নিলেন। চেহারায়, কণ্ঠে কোন উত্তেজনা নেই। কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখলাম বইটি হাতে নিতেই তাঁর হাত সামান্য কেঁপে গেলো, পৃষ্ঠাগুলো উল্টানোর সময়ও আঙ্গুলগুলো সামান্য কাঁপছিল। আর ঠিক তখনই আমি এক অন্যরকম শান্তি পেলাম। কুসংস্কার কুসংস্কারেই পর্যবসিত হল। আমার লেখার বিষয়বস্তুও যে কুসংস্কারের যৌক্তিক সংস্কার করা মিসির আলি নামের অসাধারণ মানুষটিকে নিয়ে।




সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


