
একদিন আমি রবিবাবুর জঠরে ফুল হয়েছিলাম।
আমাকে প্রসব করার জন্য তিনি কেঁদেছিলেন , ব্যথায় কোঁকিয়েছিলেন।
জন্ম নিয়ে হাসিমুখে তাঁকে বলেছিলাম, ' স্লামালিকুম '।
তিনি হকচকিয়ে গিয়ে বলেছিলেন 'ভালবাসি '।
এরপর আমি নজরুলের কাছে যাই।
তাঁর চুল থেকে কিছু গোছা চাইতেই
তিনি গালি দিয়েছিলেন 'লালচুলো হারামজাদা' ।
হাসিমুখে চুল তুলে নিয়ে বলেছিলাম, ' চললাম দ্বিজেন্দ্রের বাড়ি '।
লাল রায়ের বাড়ি গিয়ে ওঁর মাকে ‘মা’ বলে ডেকেছিলাম।
বলেছিলাম 'প্রসব যন্ত্রণায় কাতর ছেলের শুশ্রূষা প্রয়োজন'।
ভালোবেসে তিনি আমাকে দুটো টকটকে লাল জামা দিয়েছিলেন।
অতঃপর এসব নিয়ে আমি হরিষপুর, হরিদাসপুর ও হরিশঙ্কর গিয়েছিলাম।
খবর পেয়ে মহারাজা হরি সিং তাঁর ত্রিশঙ্কু নাচিয়েছিলেন ।
ভুল হলে মার্জনা চেয়ে তাঁর পায়ের কাছে বসে পড়েছিলাম।
কাশ্মীরের কন্যাদের খোঁজখবর চেয়েছিলাম তাঁর কাছে।
বলেছিলাম, একদল মানুষের প্রসবের জন্য নিরাপদ আশ্রয় চাই।
শুধু আমার চোখের দিকে তাকিয়েই;
বিশাল সেই সাম্রাজ্যের সকল ফুল পেড়ে এনে
তিনি আমায় উপঢৌকন সাজিয়ে দিয়েছিলেন ।
চূড়ায় বসিয়ে দিয়েছিলেন রাজমনি।
সেখান থেকে আমি গিয়েছিলাম সুসজ্জিত সংগ্রামে সাতচল্লিশে।
এবং তার কিছু পরেই পৃথিবী পেয়েছে নতুন মানচিত্র।
এই সমস্ত পরিভ্রমণে আমি ছিলাম সূর্যের সন্তান,
অগণিত হাহাকার,
কুসুম পেরোবার এক নবযাত্রী।
এবার এই দ্বিখণ্ডিত ভূখণ্ডের উপর্যপুরি জবাব নিয়ে
আমি ফিরে যাব প্রান্তিক সীমানায়।
আমি আবার ‘আরও’ ফিরবো।
এবার লালন।
বলবো, চলুন যেখান থেকে এসেছি সেখানেই ফিরে যাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



