
কেন গুজব গুজব করছেন ???? একটা ঘটনাও কি কেউ চাইছে যে হোক ? এগুলো যে সম্পূর্ণ প্রভাবিত করার চেষ্টা, স্রোতটাকে ভেঙ্গে দেয়ার ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানোর চেষ্টা সেটা কেন বুঝতে পারছেন না। মানুষ আমীর খসরু ও নাওমির কথোপকথন শুনেছে, কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা ও ছাত্রদল নেতার কথোপকথন শোনেনি। যা কথা হয় তার খুব কমই মানুষ জানতে পারে। সমুদ্রের ঢেউ উঠেছিলো প্রতিবাদে। সেই ঢেউয়ের পানিকে ভীষণরকম কর্দমাক্ত করে স্রোতটাকে ভেঙ্গে দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং সাড়া দিয়ে অনেকেই চলে যাচ্ছে। যেকোন দেশে একটি বৃহৎ গণমানুষের আন্দোলনে রাজনীতি আসবেই, আসতে বাধ্য। কারণ আন্দোলন হয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে, কিছু সুনির্দিষ্ট দাবীতে এবং আরও নানা কারণে। আর এইসব আন্দোলনে তাদেরকেই সাড়া দিতে হয় যাদের হাতে ক্ষমতা আছে। কাজেই রাজনীতি আসবেই অবধারিতভাবে। আন্দোলনের বিষয় কতটা দলীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলো এবং কতটা তাদের স্থায়ী আবাসে ভূমিকম্প উঠালো তার উপর নির্ভর করে পাল্টা ক্যু চলে। এখানে দুই দলের স্পষ্ট মোটিভ আছে পুরো আন্দোলনটি নস্যাৎ করার। সরকারের দেয়া আশ্বাসগুলো যে মিথ্যা হয় সেসব সবাই দেখেছে। কাজেই এখন আশ্বাসে কাজ না হওয়াতে ফেঁপে ওঠা আন্দোলন দমাতে সাহসী ছাত্রদের উপর কাপুরুষ ছাত্র লীগ তাদের পেশী শক্তি দেখাতে শুরু করেছে। ছাত্র লীগের নৈতিকতার বিন্দুমাত্র কিছু নেই। এতটা খারাপ হতে পারে না, এমন কোন সীমাই ওদের নেই। একইভাবে যে কোন পরিস্থিতির সম্পূর্ণ সুযোগ নিতে চাইবে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবির। এই আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের দুর্দমনীয় সাহসকে ভয় পেয়ে ওরা সবাই একজোট হয়েছে। বিপক্ষ দল হলেও ভাবার কোন কারণ নেই, এখন ওরা পরস্পরের বিপক্ষ। কারণ ওদের চেয়ে অনেক বড় ন্যায্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সাধারণ ছাত্র সমাজ ও তাদের অভিভাবক বৃন্দ। আর এই আন্দোলন যদি বড় কোন অর্জনের মধ্য দিয়ে সফল হয় তাহলে দুই দলেরই দলীয় স্বার্থে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটবে। টালমাটাল হয়ে পড়বে তাদের সাজানো রাজনীতির সংসার। কাজেই ছাত্র লীগ, ছাত্র দল ও ছাত্র শিবির সবাই একজোট হয়েই পুলিশের প্রটেকশনে থেকে নিরীহ ছাত্রদের উপর হিংস্র আক্রমণ চালিয়েছে। আমাদের উচিত অবশ্যই উচিত- কে হামলা চালিয়েছে, কি উদ্দেশ্য, কোনটা গুজব এইসব কিছুকে এক পাল্লায় রেখে ক্রমাগতভাবে ছাত্রদের পাল্লায় উঠে তাদের ভার, শক্তি সবকিছু বহুগুণ বৃদ্ধি করা। আমাদের ছাত্ররা অদমনীয় সাহস নিয়ে, রক্ত দিয়ে বর্বরতার প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। তাদের সাথে যদি মিথ্যে পোশাক পরিহিত স্কুল ছাত্ররা থাকে তো থাকুক। যে কোন শক্তিশালী আন্দোলনকে নষ্ট করার জন্য এইরকম ষড়যন্ত্র সবসময় ঘটেছে, ঘটবে এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। আমাদের কোনভাবেই ভুলে গেলে চলবে না, এই রকম মহা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই আমাদের কিশোররা রাস্তায় নেমেছে এবং সত্যিকারের ছাত্ররা রাস্তায় আছে এখনো প্রচণ্ড বিপদ মাথায় নিয়ে। যতরকম প্রোপাগান্ডা হোক, তাদের পাশে থেকে অবশ্যই সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। পিস্তল, রামদা এবং লাঠি নিয়ে হামলা যে একদল চালিয়েছে এটাই জঘন্যতম কাজ। প্রকৃতপক্ষে কি কি ঘটেছে তার চেয়ে এই মুহূর্তে বড় ব্যাপার হল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো এবং আরও জোরালো প্রতিবাদ করা। আমাদের সাহসী কিশোররা সেটাই করার চেষ্টা করছে। তারা ভয় পেয়ে রাস্তা ছেড়ে উঠে যায়নি। রামদা’র বিপরীতে গাছের ডাল নিয়ে এগিয়ে গেছে। এখন দেশের সব সাধারণ মানুষের তাদের প্রতি সমর্থনে এই আন্দোলনে সামিল হতে হবে। জঘন্য যেসব পাপ ও অন্যায়ের কথা হচ্ছে সেইসবেরই প্রকৃত বিচার হবে আন্দোলন সফল হবার পরে। আর যদি এটাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় তাহলে কিছুই হবে না, কিছুই না। আপনারা অনেকেই মানছেন হামলা হয়েছে, কিন্তু কে হামলা করেছে, আসলে কি ঘটেছে, মিথ্যা স্কুল ড্রেস এইসব নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সত্য ছাত্ররা রাস্তায় না থাকলে তো এইসব ধাওয়া, ভাঙচুর কিছুই হতো না, কাজেই বিভ্রান্ত হয়ে ছাত্রদের পাল্লা হালকা না করে আরও তীব্রভাবে তাদের পাশে এসে দাঁড়ান। একটা অত্যন্ত শক্তিশালী অর্জন যেন এই আন্দোলন থেকে আসে। 'আমি পরশু দিন বিএনপি আছিলাম, এখন জয় বাংলা ।কিংবা আমি আগে লীগ করছি কিন্তু তাদের স্বৈরাচারীতা দেইখা এখন আমি জাতীয়তাবাদী'। এইভাবে ভোজবাজির মত দল পাল্টানো যায় মুখের কথাতেই। কাজেই এইসবে বিভ্রান্ত না হয়ে, একটা বড় ধরণের পরিবর্তন প্রয়োজন সেটা মাথায় রেখে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান।

[গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেটের লাইন পুরো নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। এই লেখাটা গত বৃহস্পতিবার লিখেছিলাম। গতকাল নিজের চোখে ছাত্রদের কাজ রাস্তায় দেখেছি। একটা গাড়ি ভাঙচুর করার মত অভিপ্রায় কারো দেখিনি। শুধু সব কাগজপত্র আর রাস্তার নিয়ম কানুন দেখছে। অথচ ভাংচুরের ভয়ে পরিবহণ মালিকরা গাড়ি ছাড়ছে না। আর এই পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি হলেন শাহজাহান খান। যিনি ২৫০০০ অবৈধ লাইসেন্স দিয়েছেন। আর বিএনপির আমলে নাকি দেয়া হয়েছিলো ৯০,০০০ অবৈধ লাইসেন্স। আপনারাই বুঝে নিন এদের কারো হাতে আমরা এতটুকু নিরাপদ কিনা। ]
পরিবহণ শ্রমিকরা তাদের শক্তি দেখাতে চাইছে ? কোন দুঃসাহসে ওরা শক্তি দেখাতে চাইছে?
শুধু স্কুল কলেজ নয়, দেশের সকল বিদ্যাপীঠের সকল ছাত্র সমাজ এবার আন্দোলনে নামবে। কয় লাখ পরিবহণ শ্রমিক আছে, আর কয় লাখ ছাত্র আছে ? ছাত্রদের সাথে তাদের সকল অভিভাবকও রাস্তায় নামবে। ভোগান্তি সহ্য করতে হবে তো করবে। যে দুঃসহ জীবন যাপন প্রতিদিন করতে হয় তার চেয়ে এই কিছুদিনের ভোগান্তি হাজার গুণ শ্রেয়। সাময়িক ক্ষতির পেছনে বিশাল অর্জনকে দেখতে ভুল করবেন না। দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করুণ। একাত্তরে যদি ছাত্রদের অভিভাবকরা ভাবতো তাদের এখন রাজপথে নয় পড়ার টেবিলে থাকার কথা তাহলে এই দেশ কখনোই স্বাধীন হতো না।
আর গাড়ি না চালিয়ে ওরাই বা কয়দিন টিকবে ? ওদের মালিকরা টাকা দিয়ে ওদেরকে রাস্তায় নামিয়েছে। কয়দিন টাকা দেবে সেসব বেঈমান হায়েনার দল ? পেটের দায়ে শ্রমিকদেরকেও ছাত্রদের সাথে রাস্তায় এসে নামতে হবে। সরকার তার শক্তি দেখাতে চাইছে পরিবহণ শ্রমিকদের দিয়ে ধর্মঘট করানোর মধ্য দিয়ে। বোকা শ্রমিকের দল টাকার জন্য সেই চালাকি ধরতে পারছে না। মন্ত্রীর সাথে বাস মালিকপক্ষের মিটিঙেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওদের প্ল্যান ছিল ওরা শুক্রবার থেকে ধর্মঘট দেবে। শক্তি দেখাবে। আর শ্রমিকরা তাদের মালিকদের হুকুম মত কাজ করছে। ভেবেছে এতে তাদের লাভ হবে। এখন যদি দেশের তাবৎ ছাত্রসমাজ এবং তাদের অভিভাবকগণ স্বাভাবিক জীবনকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়। গাড়ি চালাবি না, তো গাড়িতে চড়বো না। যতদিন আর যত কষ্ট হোক সুনির্দিষ্ট ফল না পেলে আন্দোলন থামবে না। বাধ্য হবে সরকার, বাধ্য হবে গোবর মন্ত্রীরা। সামনে ঈদ, এখন গাড়ি বন্ধ রাখলে পরিবহণ মালিক এবং শ্রমিকদেরই ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশী। লোকসানের মধ্যে উল্টো শ্রমিকদের আরও টাকা দিয়ে মালিকরা বেশিদিন এইসব শো ডাউন করতে পারবে না। অতএব তাদের এহেন ফালতু ক্যু-তে পিছিয়ে যাওয়া চলবে না কিছুতেই। একটুও ভড়কানো বা দ্বিধান্বিত হওয়া চলবে না। বরং আরও দ্বিগুণ বেগে সকল পর্যায়ের ছাত্র এবং অভিভাবকদের নেমে আসতে হবে রাস্তায়। এই আন্দোলন কোন টাকা খাওয়া বা ক্ষমতা দেখানোর আন্দোলন নয়। প্রাণের দাবী, স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। কোন অসৎ অনুপ্রবেশ এখানে করতে দেয়া যাবে না। কিন্তু আশ্বাসময় দাবীর বদলে ছাত্রদের একটি স্পষ্ট দৃশ্যমান শক্তিশালী দাবী নিয়ে পরিচালিত করতে হবে পেছনের অভিভাবক এবং শিক্ষকদের।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


