অসময়ে ফোনে শব্দে শ্রাবন্তীর অসম্ভব বিরক্তি হয় । ফোন 'না' ধরার এক্সপার্ট শ্রাবন্তীর মত কেউ আছে কি'না সন্দেহ । রিং টোনের সংখ্যা বেশী হলে হাতের কড়ে গুনে গুনে 9 বার পার হলে সেেেত্র ধরে ! সে রকম একটা ফোন বেজেই চলেছে ধরবে না চিন্তা করেও অবশেষে ফোন রিসিভ করে ।
অনিহা গলায় টেনে বলে "হ্যালো'' ।
-শ্রাবন্তী কেমন আছেন, ফোন কেন ধরছেন না ? বলুন তো ব্যাপারটা কি ? ফোনটা জরুরীও হতে পারে তো ?
কণ্ঠ'টা তেমন পরিচিত নয় তবে এই কণ্ঠ সে আরো দুই'তিন বার পেয়েছিল 6 তারিখে ? গত মাসের প্রথম সপ্তাহে ।
-আপনাকে চিনতে পারলাম না ? আপনার জরুরী কথা বলা কি শেষ হয়েছে ?
অপর প্রান্তের ব্যাক্তিটির কৌতুহল বেড়ে যায়। -আপনে কি সবার জন্য না হলেও কারো জন্য বিশেষভাবে মিষ্টি কণ্ঠে কথা বলেন না ?
সশব্দে ফোন রেখে দেয়। রাগে দপদপ করে অযথা ফোনে কেন যে এই বিরক্তি ?
কিছুণ পর আবারও ফোন বেজে ওঠে ধরেনা বরং কানেকশন খুলে রাখে।
শ্রাবন্তী ধীরে ধীরে নিজের কাজে মনোযোগ দেয়।
ফেস প্যাক লাগিয়ে 13 মিনিটের জন্য টান টান ভাবে শুয়ে পড়ে। ঘুম ঘুম লাগতেই উঠে মুখ ধূয়ে ফেলে গোছল করে তোয়ালেটা চুলে জড়িয়ে রুমে ঢুকতেই আবার ফোনের শব্দ ? ক্রিং ..ক্রিং....ক্রিং......
কি চায় অচেনা লোকটা ! কেনই বা শ্রাবন্তীকে বারে বারে বিরক্ত করছে ? কেনই বা ধীর গতিতে সুন্দর করে কথা বলে তার সময় অপচয় করে? আপন মনে শ্রাবন্তী ভাবে লোকটা কি বলতে চায় ! শুধু প্রান্তআপনাকে ফোন রাখবে। দীর্ঘ নিঃশ্বাসে লম্বা চুল মুছে ফেলে । সন্ধ্যা সাড়ে সাত'টার দিকে আবার ফোন. . .
-হ্যালো, শ্রাবন্তী কেমন আছ ? রেগে টেগে নেই তো আমার উপর!
-কেন রাগব আপনি আমার কে হন? আপনাকে আমি চিনিনা, আর আমার রাগ আপনি দেখার কে?
-শ্রাবন্তী'' তোমার নামটি কিন্তু সুন্দর সি্নগ্ধ, আর অত্যন্তবই প্রিয় মেয়ে তুমি ? আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ কবি! লাইনটা কেটে দিওনা শ্রাবন্তী প্লিজ, এক জোড়েই বলে ফেলে.....।
-আপনার সস্তা উপন্যাস সবাই পড়ে বলে আপনি আমাকে আপনার সস্তা উপন্যাসের নায়িকা ভেবে নিয়ে পরবর্তী উপন্যাস বের করবেন বুঝি?
-আমি শ্রাবন্তী সাধারন হয়ে আমাকে থাকতে দিন, যখন তখন ফোন করে ঘরের শান্তি নষ্ট করবেন না। আমি বিবাহিতা, স্বামী, সন্তান, ঘর সব আছে আমার। গুড বাই বলে ফোন কেটে দিল শ্রাবন্তী......
মানুষের সঙ্গে মানুষের চেহারার মিল থাকে শুনেছি কিন্তু সেই কণ্ঠ ভরাট অথচ কবিতার ছন্দের মত। লোকটাকে সে চিনে না অথচ শ্রাবন্তীর নাম জানে ফোন নাম্বার জানে বই প্রেমিক বলেও জানে কিন্তু কি ভাবে! নিজের পরিচয় বাংলাদেশের একজন কবি বলে দিল? যা হয় হ েব ভেবে লাভ কি ? বিবাহিতা আর সন্তানের জননীর সঙ্গে প্রেম করার সাধ নিশ্চয় হবেনা ?
শ্রাবন্তীর চোখের ঘুম রাত দুটোর পূর্বে আসেনা ? অন্য ফোন ধরতে বিরক্ত হলেও মনে মনে আশা থাকে কবি বুঝি আবার ফোন করবে? না আর কোন ফোন আসেনি, গত হয়েছে দু'তিন সপ্তাহ। বিবাহিতা শুনে ...প্রেম হারালো কবির ? মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা কেন জানি এ দুটো শ্রাবন্তীর রাত দিনের একটা হয়ে গেছে।
শ্রাবন্তীর সত্যিই বিয়ে হয়নি, পরিবারের সদস্যরা কেউ জোর করে কিছু করতে পারিনি। শ্রাবন্তী যাকে ভালোবাসত যার সাথে বিয়ে সেই কি'না সারা জীবনের জন্য পৃথিবী থেকে বিদায় নিল জ্বরে! পুরানো স্মৃতি রোমন্থনে চলে যায় কয়েক বছর পূর্বে। পার্থর স্মৃতি শ্রাবন্তী ভূলতে পারেনা? পার্থ ছাড়া শ্রাবন্তীর অন্য কারো সাথে ভালোবাসার সহজ সম্পর্ক তৈরী হয়নি।
দুটো পরিবার মেনে নিয়েছিল সুযোগ্য দুজনকে , শ্রাবন্তীর চোখ জলে ভিজে এলো।
"আজও বিশ্বাস করতে পারেনা শ্রাবন্তী পার্থ মারা গেছে? পার্থর সঙ্গে এখনো স্মৃতির সঙ্গায় সে কথা বলে।
পরিবারের শ্রাবন্তীই ছোট, সবার বিয়ে হয়ে গেছে; যে যার মত করে সংসার করছে। তবে মা বেঁচে আছে বাবা মারা গেল। পুরো বাড়িই এখন ফাঁকা, মাঝে মাঝে ঘরোয়া আর সামাজিক অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।
শ্রাবন্তী নিজের সাথেই নিজে কথা বলে। পার্থর সঙ্গে কথা বলে হাসে যেন বাস্তব জীবন কল্পনায় মিশে গেছে। আ েগ সে বাড়ি থে েক বের হতো এখন সেই ইচ্ছাও মরে গেছে।
তবে বই কিনতে মাসে দু'বার বের হবে, আর বই এর দোকানে যেন তন্য তন্য করে পার্থকে দেবার মত সেই বই গুলো খোঁজে। বই দোকানী কিছু মনেও করেনা অমন ফুলের মত সরল রুপসী মেয়ে দোকানে থাকলে বেঁচাকেনা বরং বেড়ে যায়, তাতে দোকানীরই লাভ হয়
( ( ( চলবে ) ) )
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




