
পথের ধারে রেখে এলাম
স্মৃতির পাহাড়,
মন চাইলে তাকিয়ে দেখো
সে-ই হাহাকার!
স্তুপের মতো জমিয়ে রাখা
শত দুঃখকথা,
জানান দেবে আমার যতো
স্মৃতিকাতরতা!
কী কথা যে বলতে গিয়েও
হয় নি প্রকাশ,
বাঁধ ভাঙা জোয়ার হয়েই
ফাটাবে আকাশ!
সারা জাহান তন্ময় হয়ে
শুনবে ভাষণ,
অদ্ভূত এক বিমুগ্ধতার
হবে আয়োজন!
পাষাণপুরীর জাগরনে
মাতাল পৃথিবী,
দূরাকাশের মেঘমালায়
তার প্রতিচ্ছবি!
সাক্ষী রইলো সবুজ পাতা,
বনের বিহঙ্গ;
অষ্টপ্রহর আমায় যারা
দিয়েছিলো সঙ্গ!
আরো সাক্ষী নদীর কিনার,
নৌকো বাঁধা ঘাট;
সর্ষেখেত, দিগন্তবিস্তৃত
ফসলের মাঠ-
যেখান দিয়ে গিয়েছি হেঁটে
দূর অজানায়,
দূর্বাঘাসের নিবিড় ছোঁয়া
লেগে আছে পায়।
ক্লান্ত হওয়ায় পা ছড়িয়ে
বসো যদি ঘাসে,
গন্ধরাজের মিষ্টি সুবাস
ছড়াবে বাতাসে।
উদাস হয়ে যখন তুমি
পেতে রবে কান,
হঠাৎ করে শুনতে পাবে
বিহঙ্গের গান;
যে গান শুনে আকাশ-নদী
উন্মাতাল হয়,
প্রকৃতিও যেন থেমে যায়-
চলনে বিস্ময়!
আমার বিয়োগ ব্যথা যদি
ভার করে মন,
আকাশ পানে তাকিয়ে থেকো
অল্প কিছুক্ষণ!
ছোট্ট এই জীবনে আমার
চাওয়াটা কম,
আমায় ভেবে নদীর জলে
ভাসিও কদম।
অদৃশ্য পানে ছড়িয়ে দিও
তোমার নিঃশ্বাস,
আমার কাছে আসবে তারা
সুদৃঢ় বিশ্বাস!
আমি ঠিক বুঝব তখন
তোমার মিনতি,
অতৃপ্ত এ মনটা আমার
পাবে পরিণতি!
ভুলে যাবে তোমার দেওয়া
বিরহ-যাতনা,
অগুনতি মানুষের ছোঁড়া
গাল-প্রবঞ্চনা;
যেসব শুনে বিষিয়ে উঠে-
ছিলো এ হৃদয়,
বেঁচে থাকার মনোবাসনা
তিরোহিত হয়!
২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
ভালুকা, ময়মনসিংহ।
ছবিঃ Google
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




