somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লক্ষ্যহীন জীবন গন্তব্যহীন জাহাজের মতো।

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লক্ষ্যহীন জীবন গন্তব্যহীন জাহাজের মতো।
ভালুকা হইতে গাজীপুর আসিয়াছি অদ্য পঞ্চম দিবস অতিক্রান্ত হইলো। ভালুকায় (সদরে) মোটামুটি চৌদ্দ মাস কাটিয়াছে, আর কিছুতেই মন টিকিতেছিলো না; পড়ালেখাও হইতেছিলো না। বিভিন্ন তিক্ত অভিজ্ঞতায় মন বিষণ্ন হইয়া উঠিয়াছিলো।
রওয়ানা দিয়াছিলাম বিকালের পূর্বেই, তথাপি আসিতে আসিতে রাত্তির; অকস্মাৎ যানজটের কবলে পড়ায় এমতাবস্থা!
নিম্নচাপের প্রভাবে পরবর্তীদিন হইতে বৃষ্টি শুরু; দুইদিন গৃহবন্দি। কাদা মাড়াইয়া বাহিরে আসার প্রবৃত্তি হইতেছিলো না। ভোজনপর্ব সম্পন্ন করিয়া কেবল নিদ্রা আর নিদ্রা। বহুদিন শান্তিমতো ঘুম হয় নাই।
ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া পরিশ্রান্ত হইয়া পড়িয়াছিলাম বেশ। তৃতীয়দিন গোধূলিলগ্নে বাহিরে আসিলাম। রাস্তায় জলাবদ্ধতা। প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত উঠাইয়া মোড় পর্যন্ত আসিলাম।
দুজন বালিকা কলেজ গেইটে দাঁড়াইয়া পরমানন্দে ফুচকা খাইতেছে। ফুচকা আমার একদমই ভালো লাগে না। সে-ই কবে খাইয়াছিলাম স্মরণে নাই। ভার্সিটিতে থাকিতে শুধু চটপটি খাইতাম। শেষদিকে হালিমের দিকে ঝুঁকিয়া পড়িলাম।
কয়েকজন বালক ঝালমুড়ি খাইতেছে; এইদিকে বেশ ভিড়। ভিড় ঠেলিয়া দক্ষিণপ্রান্তের এক হোটেলে ঢুকিলাম; সিঙ্গারা-পুরি ভাজা হইয়াছে। এইসব মুখরোচক খাবার আমাকে আবার খুব টানে। গ্যাস্ট্রিকে পেটের অবস্থা গুরুতর তথাপি লোভ সামলাইতে পারি না। হোটেল দেখিলেই ঢুকিয়া পড়ি।
সিঙ্গারা-সমুচা খাইতে খাইতে দুইখানি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দৃষ্টিগোচর হইলো, মোবাইলে ঠিকানা তুলিয়া লইলাম। অবশ্য কখনো যোগাযোগ করিবো কী না জানি না, যদিও কিছু করা আমার খুব প্রয়োজন।
পরদিন মনিরকে (নিকটবন্ধু) ফোন দিলাম দেখা-সাক্ষাৎ দিবে কী না তাহা জানিবার নিমিত্তে। সে জানাইলো বাড়িতে ধান কাটার কাজ শুরু হইয়াছে, আসিতে আসিতে পনেরো তারিখ। আমি যেন পিয়াসকে ফোন দিই (পিয়াস কলেজবন্ধু)। পিয়াসকে পাওয়া গেলো মোবাইলে। ঠিকানা ভুলিয়া গিয়াছিলাম, পুনরায় ঠিকানা লইয়া তাহার সঙ্গে দেখা করিতে গেলাম।
সে পড়ালেখা করিতেছিলো। টেবিল ভর্তি বই। আমার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিলো। মাস্টার্স শেষ হইয়াছে অথচ কোথাও আবেদন করি নাই জানিয়া সে খুব বিস্মিত হইলো, আরও বিস্মিত হইলো বিসিএস এর জন্যও আবেদন করি নাই জানিয়া। জানিতে চাহিলো বিডি জবস এ আমার কোন অ্যাকাউন্ট আছে কী না। ইজ্জত বাঁচাইতে বলিলাম, আছে। খানিকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করিয়াও কোন অ্যাকাউন্ট পাইলাম না, পাসওয়ার্ড ভুলিয়া গিয়াছি।
সে কিছু হিতোপদেশ দিলো। কোন ধরণের বই পড়া লাগিবে, কী করিতে হইবে, কী করিতে হইবে না। আমি শুধু "হুঁ" বলিলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম বাসায় গিয়া পড়ালেখা শুরু করিবো, যদ্যাপি আমি জানি ইহা আমার পক্ষে আর সম্ভব হইবে না। মাস্টার্স তো একদম না পড়িয়াই শেষ করিয়াছি; রেজাল্টের অবস্থা ভয়াবহ।

যাহার যাহা দেখানোর আছে; সে তো তাহা দেখাইবেই।
বিপিএলের ফাইনালে ঢাকা হারিলে জনৈকা মডেল ব্রা পরিয়া লাইভে আসিবে; এমন একখানি মুখরোচক খবরে ফেসবুক সরগরম। লোকজন নিন্দায় তাহার গোষ্ঠি উদ্ধার করিতেছে। আমি বুঝিতে পারিতেছি না; এইখানে নিন্দা করিবার কী আছে। স্বাধীন দেশে একজন মডেল কি ব্রা পরিয়া লাইভে আসিতে পারে না? সে তো দিগম্বর হইয়া আসিতে চাহে নাই; আসিলেই কাহার কী? যাহার যাহা দেখানোর আছে, সে তো তাহা দেখাইবেই।
আইনস্টাইন একবার তাঁহার এক সহকারীকে লইয়া ফ্রান্সের কোন এক শহরের রাস্তা দিয়া হাঁটিতেছিলেন; ঐ সময় জনৈকা বিখ্যাত মডেল অন্য রাস্তা দিয়া যাইতেছিলো, তাহার সুডৌল স্তন উন্মুক্ত ছিলো। লোকজন হাঁ করিয়া দেখিতেছিলো। আইনস্টাইনকে কেহ লক্ষ্যই করে নাই। সহকারী খুব দুঃখ করিতেছিলো, এই বলিয়া যে ফরাসীরা কতো মূর্খ; একজন মহাপুরুষের দিকে না তাকাইয়া সামান্য এক মডেলের পিছনে ছুটিতেছে।
আইনস্টাইন হাসিলেন; বলিলেন, যাহার যাহা আছে সে তো তাহা দেখাইবেই; আর লোকজন তো পছন্দের কিছুর পিছনেই ছুটিবে।

কাঠমোল্লাদের দৌরাত্ম্য।
বাজারের পূর্বপাশে মসজিদটির অবস্থান। একদা মসজিদের পাশের গলি দিয়া কোথাও যাইতেছিলাম, হঠাৎ উপরের দিকে একটা সাইনবোর্ডে দৃষ্টিগোচর হইলো; সেইখানে লিখা "মহিলাদের চলাচল নিষেধ"! মাঝেমাঝে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে লিখা থাকে "গরু চরানো নিষেধ", তো নারী চলাচল নিষেধ হওয়ার হেতু বুঝিতে পারিলাম না। পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না মনোযোগে বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কা?
গতকল্য খবরে পড়িলাম, কুষ্টিয়ার এক জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষ মহিলাদের মাঠে যাইতে বারণ করিয়াছে; এই কথা মাইকে ফলাও করিয়া প্রচারও করিয়াছে। কোন যুগে আসিয়া পড়িলাম? নারীরা ক্ষেতে গেলে ফসল বিনষ্ট হইয়া যাইবে? শেষ পর্যন্ত অবশ্য জানা গিয়াছে পুলিশ ফতোয়াবাজদিগকে গ্রেপ্তার করিয়াছে।
কিছুদিন পূর্বে শফি হুযুর বলিয়াছেন, ইহুদি-নাসারারা মুসলমানদিগকে বিপদগ্রস্ত করিতে মোবাইল ফোন আবিষ্কার করিয়াছে। মুসলমানদিগকে সতর্ক হইতে হইবে। হুযুর কি প্রস্তর যুগে ফিরিয়া যাইতে বলিয়াছিলেন?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:১৫
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×