somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুমায়ুন আহমেদের লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন

১৩ ই নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সমরেশ মজুমদার একবার হুমায়ুন আহমেদকে জনপ্রিয় লেখক সম্বোধন করে আলাপ করছিলেন। হুমায়ুন আহমেদ তো লজ্জায় কাঁচুমাচু। বিনয়ের সাথে যা বললেন, তার মানে দাঁড়ায়- দেশভাগের পর ভারত থেকে বই আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এদেশের পাঠকশ্রেণিতে একটা বিরাট শূন্যতা বিরাজ করে। হুমায়ুন পরবরর্তীতে এই শূন্যতাটা পূরণের চেষ্টা করেন। ওনি বলেন যে, ওনার লেখা পাতে তোলার মতো না।

সম্ভবত সৈয়দ শামসুল হক ওনার লেখা নিয়ে বিদ্রুপ করেছিলেন। ওনি না কি টাকার জন্য লেখেন। হুমায়ুন আহমেদ সহাস্যে বলেছিলেন, ওনি টাকার জন্যই লেখেন। সত্যিই লেখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকা অবস্থায় ওনার দিন ভালো যাচ্ছিল না। টানাপোড়েন লেগেই ছিল। তখন বিটিভির ধারাবাহিক লিখতে শুরু করেছিলেন। হুমায়ুন বলেছেন, সেই ধারাবাহিকের টাকা দিয়ে ওনি সন্তানদের জন্য বাসায় টিভি কিনেছিলেন।

হুমায়ুন আজাদ ওনার উপন্যাসকে অপন্যাস বলেছিলেন। বলেছিলেন, এতে শেখার কিছু নেই। হুমায়ুনও রসিক। বলেছিলেন, ওনি আসলে পাঠ্যবই লেখেন না। চিন্তা-ভাবনা বা মত প্রকাশে তিনি এমনই সৎ ছিলেন।

লেখালেখি করে সবাই যে বিখ্যাত হতে চায়- এমন না। কেউ কেউ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তৃপ্ত হন। হুমায়ুন পড়ুয়া পরিবার থেকে এসেছিলেন। ওনার মা-বাবা প্রচুর পড়াশোনা করতেন। সন্তানদেরও উৎসাহিত করতেন। ফলস্বরূপ তো বলা হয় বাংলাদেশের অর্ধেক সাহিত্য ওনাদের পরিবারের (হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল, আহসান হাবিব)।

ওনি বিখ্যাত হওয়ার অভিপ্রায়ে লেখালেখি করেছেন বলে মনে হয় না। কিন্তু পাঠক তার লেখা গ্রহণ করেছে। বিখ্যাত করে তুলেছে। ওনার কালজয়ী কিছু বই আছে যেমন (জোছনা ও জননীর গল্প, শঙ্খনীল কারাগার, নন্দিত নরকে, ১৯৭১, বাদশাহ নামদার, মধ্যাহ্ন) কিছু অহেতুক বইও আছে। সমালোচকরা যেগুলোকে ফরমায়েশি লেখা বলেন। শঙ্খ ঘোষকে একবার বলা হয়েছিল, আপনার কিছু কিছু লেখা একদম যায় না আপনার সাথে। ওনি জবাবে বলেছিলেন, আমরা সবসময় ভালোমন্দ খাই না। মাঝেমধ্যে মলমূত্রত্যাগও করি।

একজন লেখকের সব লেখাই ভালো হবে তা কিন্তু না। শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমরা বলতে পারি ওসব না লিখলেও চলত। অনেকে তো এক দুটো বই লিখেই বিখ্যাত হয়েছেন। যেমন অদ্বৈত মল্ল বর্মন শুধু একটা বই লিখে (তিতাস একটি নদীর নাম) বিখ্যাত। জীবিতদের মধ্যে হেলাল হাফিস ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ লিখে বিখ্যাত। এগুলো আমাদের মতামত, কিন্তু মতামত কি লেখকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারি?

তিন গোয়েন্দা বা অন্যান্য কিছু দিয়ে একটা প্রজন্ম বই পড়া শুরু করত। তারপর ধীরে ধীরে অন্যদের বই পড়ে। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে যে প্রজন্মটা বেড়ে উঠছে, এরা হুমায়ুন আহমেদের বই পড়েই বেড়ে উঠছে। তারপর একপর্যায়ে শরৎচন্দ্র পড়া শুরু করে। সুনীল, সমরেশ, শীর্ষেন্দু পড়া শুরু করে। তারও পর মানিক, বিভূতি, তারাশঙ্কর শুরু করে। তারপর ধীরে ধীরে বাইরের দেশের বইপড়া শুরু করে। তো এই যে প্রজন্ম তৈরি হয়েছে, এদের বই পড়ার গোড়াপত্তন করার কৃতিত্বটা কিন্তু হুমায়ুন আহমেদকে দিতে হবে।

এখন অবশ্য লোকজন বইপত্র কম পড়ে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের যুগে এত বই পড়ার সময় কোথায়? তাও যারা পড়ছে তাদের একাংশকে বইমুখী করার জন্য হুমায়ুন আহমেদ অবশ্যই প্রশংসিত হবেন৷ অবশ্য কেউ যদি এক হুমায়ুন আহমেদকে আঁকড়ে ধরে পড়ে থেকে নিজেকে সাহিত্যবোদ্ধা দাবি করে, তার দায় নিশ্চয়ই হুমায়ুন আহমেদের নয়?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১০:২১
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×