somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজে ভুক্তভোগী না হলে অন্যের দুঃখ অনুধাবন করা যায় না

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাজধানীর রামপুরায় একটা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ফুড আউটলেটে কিছুদিন কাজ করতে হয়েছিল। ঝাড়পোছ থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রি, যাকে বলে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ- সব কাজই করতে হতো। যেহেতু অন্য কোনো কর্মসংস্থান ছিল না, আর আমাকে ঢাকায় যেকোনোভাবে টিকে থাকতে হবে; সে কারণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি কাজটা ভালো মতো করতে।

যাহোক, ওখানে থেকে একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম যে, প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে করে নতুন নতুন খাবার আসে। আগের খাবারের সাথে নতুন খাবারগুলো সাজিয়ে রাখা হয়। যতগুলো চালানো সম্ভব চালানো হয় আর বাসি খাবারগুলো গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। তারপর সেগুলো ফেলে দেওয়া হয়।

আমার খুব অস্বস্তি লাগল যখন জানলাম এত দামি দামি খাবার ফেলে দেয়। পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগে এগুলো চাইলে টোকাইদের বা ফুটপাতে যারা রাত্রিযাপন করে, তাদের দিয়ে দেওয়া যায়। কেন তাদের দেওয়া হয় না?

আমি ম্যানেজারকে বলেছিলাম, এ খাবারগুলো কিন্তু অনাহারীদের দিয়ে দেওয়া যায়। উনি কথাটা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এমন নিয়ম নেই।

কোনো এক গবেষণায় পড়েছিলাম পৃথিবীর প্রায় ৮০ কোটি মানুষ না খেয়ে রাতে ঘুমোতে যায়। আফ্রিকা বা পৃথিবীর অনেক দেশেই দুর্ভিক্ষ লেগে থাকে। মানুষ খেতে পায় না। অথচ অনেক দেশে হাজার হাজার টন খাবার নষ্ট হয়। আমাদের দেশেই অনেক রেস্তোরাঁয় অনেক খাবার নষ্ট হয়। এগুলো অসহায়দের দিয়ে দিলে কী এমন ক্ষতি? যদিও অনেকে বিলিয়ে দেন। অনেকসময় বিয়েতে বেশি হওয়া খাবার ফকিরদের দিয়ে দেন। যা মনুষ্যত্বের পরিচয় বহন করে।

মালিবাগে যখন কাজ করতাম, আমাদের অফিসের পাশে ফুডপান্ডার অফিস ছিল। অনেক সময় অর্ডার ক্যানসেল হলে খাবার দিয়ে যেত। মাঝেমধ্যে অনেক খাবার আসত। আমি আর কেয়ারটেকার কিছু খেতাম আর বাকি খাবার ছিন্নমূলদের মাঝে বিতরণ করতাম। এত ভালো ভালো খাবার পেয়ে ওরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেত।



গ্রামেগঞ্জে ভিলেজ পলিটিক্স বলে একটা ব্যাপার আছে। কে কীভাবে অন্যের পেছনে লাগতে পারে, তার ভালো ভালো নজির আছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে খুনোখুনি। অনেক সময় জেদের বশবর্তী হয়ে বিষ ছিটিয়ে এ ওর পুকুরের মাছ নিধন করে, রাতের আঁধারে কলাগাছ, পেয়ারা গাছসহ অনেক গাছ কেটে রেখে যায় যেগুলো হয়তো ধারদেনা করে লাগানো হয়েছিল দুটো পয়সা উপার্জনের আশায়।

এই যে ক্ষয়ক্ষতি করা হয়, যারা এগুলো করে এতে তাদের লাভ হয় না কিছুই। অনেক সময় ধরা পড়লে শাস্তি হয়। তাও কেন এসব করে সেটা কেবল তাই জানে।

রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে অনেকসময় অন্যের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়। তাতে নিজেদের লাভ তো হয়ই না, উল্টে আরও ক্ষতি হয়। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হয়ে চরম প্রতিশোধ নেয়।



কেউ মারা গেলে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেকে খুব খুশি হয়। এবং নগ্নভাবে সেটা উপস্থাপনও করে। এরা ভাবে না এরা নিজেরা যখন মরবে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যরাও তো তেমনই খুশি হবে। সেটা দেখতে কেমন লাগবে? যদিও এ শ্রেণিই পরে জ্ঞান দান করবে, অন্যের দুঃখে হাসতে হয় না। এটাসেটা যুক্তি হাজির করবে। অথচ এরা নিজেরাই যদি অন্যের দুঃখে বাহাস না করত, তাহলে হয়তো প্রতিপক্ষও এমন বাহাস করত না।

নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরীক্ষা আর অন্যে ক্ষতিগ্রস্ত হলে গজব; এই তত্ত্বে বিশ্বাসীদের অবশ্য কিছু বোঝানো সম্ভব হয় না। এরা নিজেদের যুক্তিতে সবসময়ই অটল থাকে। যদিও একসময় ভুল ভাঙে, তবে ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়েই যায়।

ছবিঃ অন্তর্জাল
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১০:১৪
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইমাম মাহদী (আ.) আসার আগ পর্যন্ত মুসলিম জাতি কি করবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১১:১০



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ভাষার ত্রাতা গুরু মওলানা আকরম খাঁ সম্পর্কে ব্লগারদের ধারণা স্বচ্ছ নয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:০৭






ছবিঃ ১৯৭১ সালের ১৪ই ও ১৬ই মার্চ, দৈনিক আজাদ সম্পাদকীয়।

কয়েক দিন আগে ব্লগার গেছো দাদা তার একটি পোস্টে ভাষা শিল্পী মওলানা আকরম খাঁ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার বন্ধু রতন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৩:৫২


আমাদের বাড়ি থেকে এক বাড়ি পরেই রতনদের বাড়ি। সে আমার ছোটোবেলার বন্ধু। একসাথে প্রাইমেরি স্কুলে পড়ালেখা করেছি। সে ছিল আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। বিকেলে খেলাধুলা করতাম যেমন, দু'জন ভিসিআর দেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুক রিভিউ অথবা আমার চিন্তাব্যাখ্যার ব্যায়াম সিরিজঃ ১

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:০৮



বইয়ের নামঃ অহেতুক আলেবালে জলসেচনে ক্ষতি নাই
কবিঃ আদনান আলী
প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
প্রকাশকঃ চন্দ্রবিন্দু


‘বুক রিভিউ’ নামক শব্দ যুগলের পেছনে ছায়ার মত যে শরীরী চিত্রকল্প জেগে উঠতে পারে সেটাকে বাংলা ভাষার শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:১৯



১৯৭৫ সালে ১১ জানুয়ারি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান বলেনঃ বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশ সামরিক একাডেমীর অধ্যক্ষ ও আমার ক্যাডেট ভাইয়েরা, আপনারা সকলেই আমার আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×