somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক ধ্রুবতারার গল্প

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



"আপনি আমায় শিক্ষা দিলেন,আলো দিলেন হৃদয় জুড়ে..
যদি আবার ফিরে আসি,এই ভুবনে ফের জনমে..
আমি আপনার ছাত্র হবো,আপনি হবেন মাস্টার মশাই..
আমার প্রিয় মাস্টার মশাই.."।


আজ একজন শিক্ষাগুরুর কথা বলবো,যার কাছে আমি শিখেছি কিভাবে মানুষ হতে হয়।।আজ বলবো সেই শিক্ষাগুরুর কথা, যার সামনে আসলে শ্রদ্ধায় আপ্লুত আমার মাথা বিনয়ে নুয়ে আসতো।।আজ বলবো এমন একজন শিক্ষাগুরুর কথা, যার আশীর্বাদ আমার এই বড় হয়ে ওঠার পেছনে অনেক অবদান রাখে।।


এই শিক্ষাগুরুর কাছে আমি কোনোদিন পড়ি নি,আলাদা স্কুল ছিল তাই সেই ভাবে ক্লাস করা হয়ে উঠে নি।।ইচ্ছে ছিলো আমি চুপিসাড়ে যেয়ে একদিন ক্লাস করে আসবো ওই স্কুলে,কিন্তু সময় এর অভাবে এবং কেউ কিছু ভাববে সেই ভেবে আর কোনোদিন যাওয়া হয় নি।।আফসোস হয়,ওই স্কুলের বন্ধু দের মুখে শুনেছি উনি যখন ইতিহাস পড়াতেন ছাত্র ছাত্রীরা সব মন্ত্রমুগ্ধ এর মত শুনে যেতো।।ইতিহাস আমায় চিরকাল খুব কাছে টানতো,তার উপর কেউ যদি আবার গল্প এর ছলে ইতিহাস পড়াতেন,খুব খুব হিংসে হতো ওই স্কুলের ছাত্র দের উপর।।এই সেই শিক্ষাগুরু যখন কোনো ছাত্র হয়তো পয়সার অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শুনলে তার বাড়ি যেয়ে তাকে বলে আসতেন "তুই স্কুল চল,তোর লেখাপড়ার সব দায়িত্ব আমি নিলাম"।।এই সেই শিক্ষাগুরু যিনি ক্লাসে কোনো ছেলে পরীক্ষায় ফেল করলে,হয়তো সে আর পড়াশোনা টা চালিয়ে যেতে পারবে না,সেটা শুনে তার বাড়ি ছুটে চলে যেতেন।।আমার মনে আছে মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর যদি কোনো ছেলে স্কুল না আসতো হয়তো সেই ছেলে স্কুল আসার থেকে বাড়িতে বাবাকে চাষ সাহায্য করছে শুনলে সটান তার বাড়ি হাজির কান ধরে তাকে ভালোবেসে স্কুল নিয়ে আসতেন।।এই সেই শিক্ষাগুরু যিনি জীবনের অনেক টা সময় স্কুল এর কি করলে ভালো হবে সেটা নিয়ে ভাবতেন,আজকাল এর যুগে এই রকম শিক্ষাগুরু পাওয়া যায় না বলতে গেলেই চলে।।সেই শিক্ষাগুরুর নাম আজো আমাদের মনের মণিকোঠায় রয়ে যায়,দেশ বিদেশের অসংখ্য অগুনতি ছাত্র ছাত্রীরা এখনো বলে উঠে আমরা "সাধন বাবুর" স্কুল এর ছাত্র বা ছাত্রী।


শিক্ষার জগৎ এর বাইরে উনার একটা মানবিক দিক ছিল,ভাবতেন নিজের মতো করে কিভাবে এই অজ পাড়া গ্রামে মানুষের উন্নয়ন করা যায়।।নিজের মস্তিক প্রসূত এক গাছ এর বাগান তৈরি করেছিলেন,অনেক প্রান্তিক মানুষ এর রুটি রোজগার এর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।।আমার বাড়ির সাথে সু সম্পর্ক এর দরুন আমি জেঠু বলতাম,অনেক বার জেঠুর কাছে উনার বাগান বাড়ি গেছি,হাতে করে আমায় এবং আমার বন্ধুদের গাছ চিনিয়ে ছিলো।।


ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গেলে জেঠু আমায় খুব ভালোবাসতো,ছোট থেকেই দেখে আসছে।।আমি অন্য স্কুলে পড়তাম,আমি জীবনে আমার ক্লাসে কোনোদিন ফার্স্ট হতে পারি নি,সব সময় থার্ড হতাম,একটা ঘটনার কথা মনে আছে আমি তখন ক্লাস ৮ এ পড়ি,স্কুলে রেজাল্ট বেরিয়েছে আমি যথারীতি থার্ড হয়েছি(আমাদের ক্লাসে তখন ভালো কমপিটিশন হতো),আমি রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি আসবো বলে বেড়িয়েছি জেঠু কোনো এক কারণে সেই দিন আমাদের স্কুলে গিয়েছিলো,আমায় দেখতে পেয়ে দূর থেকে ডাকলো বললো রেজাল্ট কি হয়েছে,বললাম মার্কশিট দেখলো,পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলেছিল সাবাস "অমর বাবু(আমার মামা দাদু)র নাম রেখেছিস" বলে একটা মিষ্টির প্যাকেট বের করে দিয়েছিলো এবং বলেছিল এটা তোর ভালো রেজাল্ট এর গিফট।।মাধ্যমিক এর টেস্ট এর পরে আমার ইতিহাস আর ভূগোল এর টেস্ট পেপার এর খাতা আমি করে পাঠাতাম জেঠু চেক করে ঠিক আমার বাড়ি পাঠিয়ে দিতো।।রাস্তায় দেখা হলেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে ঠিক খবর নিতো আমার পড়াশোনার।।


ক্লাস 11 এ পড়ি তখন,আমি মামাবাড়িতে গাজন দেখতে গেছি হটাৎ করে খবর আসে জেঠু আর নেই।।চোখের সামনে আকাশ ভেঙে পড়ার মত অবস্থা হয়েছিল আমার,এক ছুটে সাইকেল নিয়ে চলে গিয়েছিলাম জেঠুর বাড়ি।।মন ভারাক্রান্ত অবস্থায় সেদিন বাড়ি এসেছিলাম।।জানি আমার সেই শিক্ষাগুরু,আমার সেই প্রিয় জেঠু আর হয়তো ফিরবেন না আমাদের মাঝে,মানুষের মাঝে।।জেঠুর আদর্শ কে জীবনে পাথেয় করে যদি চলতে পারি,সেটাই আমার কাছে বড় পাওনা।।এখন ভেসে আসে কানে সেই নম্রতা মাখা স্বর,যে পথ আপনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন সেই পথের দিকেই চলছি অবিরাম ভাবে চলবো আপনার দেখানো পথে,যেই খানেই থাকুন আপনি ভালো থাকুন,সেই খান থেকেই স্নেহ মাখা হাত নিয়ে আশীর্বাদ করে বলে উঠুন "বড় হ তোরা,মানুষের মত মানুষ হ"।।


পুনশ্চ:-আজ শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আমার প্রিয় শিক্ষক এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৩৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×