somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন টাকা কামাবার মেশিন বানাই....

১৯ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনার ছেলে অথবা মেয়েকে কিভাবে মানুষ করছেন? বড় হয়ে সে কি ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,সিএ অথবা বড় কোন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা হতে পারবে? অথবা এই নোংরা রাজনীতি পূর্ণ দেশে অনার্স না পড়িয়ে বাইরের কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভাবছেন।

নিশ্চয় আপনার সন্তানকে সবসময় বেশি করে ভাল করে পড়াশুনা করার কথা বলে থাকেন।এমনকি খেলাধুলা করে সময় নষ্ট করার কোন মানে দেখতে পান না।টিভি দেখা নেট চালানো কম্পিউটার গেইম কি আপনার কাছে অপরাধ বলে মনে হয়??এবং সন্তানের পেছনে সবসময় লেগে থাজেন কখন কি করছে কখন কোথায় যাচ্ছে,কখন পড়ছে কখন পড়ছে না? তাহলে আপনি একজন সফল অভিভাবক।এই ভেবে যদি আপনি আত্বতৃপ্ত হন আমার মনে হয় তাহলে আপনি ভূল করছেন!

কিছুদিন আগে আমার একজন সিনিয়র স্যারের বাসায় গিয়েছিলাম (যাত্রাবাড়ী) একটু পড়াশুনার বিষয়ে।আমাদের কাজ শেষ হবার পর এটা সেটা নিয়ে গল্পে জানলাম স্যার ওনার ছোট ভাইদের স্হানীয় একটা স্কুলে ভর্তি করেছেন তাই সেখানে বাসা নিয়ে থাকা।স্যার জানাল ওনার ছোট ভাই দুজন জেলা শহরের সরকারি স্কুলে সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু স্যার ওই সরকারি স্কুলে ভর্তি না করে ডেমরার একটি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করেছেন।

কথাটা শুনে একটু নড়েচড়ে বসলাম।আমার কৌতুহলের জবাব স্যার নিজের মুখে খুব আনন্দের সাথেই দিলেন।

তুমি বিশ্বাস করবানা রিজভী স্কুল থেকে যে রুটিন দিয়েছে সেটাতে খেলার সময় নাই(স্যারের বিস্ফোরিত চোখে,ঠোটে তৃপ্তিকর মিষ্টি হাসি)

জেলা শহরের সরকারি স্কুলে পড়া এই আমার রুটিন বলতে পরীক্ষার রুটিন বুঝি।কিন্তু স্যার সেই স্কুলের যে রুটিন এনে আমাকে দেখালেন,আমি অাৎকে উঠলাম!ঘুম থেকে ওঠা এবং আবার ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত রুটিন,কোন সাবযেক্ট কত ঘন্টা পড়বে এবং খাবার কখন খাবে তার বিস্তারিত বর্ননা!এবং অবাক হয়ে লক্ষ করলাম আসলেই খেলার জন্য কোন সময় নেই!রুটিন দেখে আমার মাথা ঘোরাতে লাগল।

স্যার তৃপ্তি নিয়ে একের পর এক গুন কৃর্তন করেই যাচ্ছেন,আমি শুনে আৎকে আৎকে উঠছি আর ক্রমাগত মাথা ঘুরিয়েই যাচ্ছে....

স্যার স্বপ্ন দেখেন এক ভাইকে বুয়েটে আর একজন কে মেডিকেলে(সম্ভবত ঢাকা মেডিকেল) পড়াবেন।আমি কোনমত সেদিন স্যারের সামনে থেকে পালিয়ে এসেছিলাম।জেলা শহরে বড় হওয়া এই আমি স্কুল বলতে অন্য জিনিস বুঝি।তাই এত র আইটেম নিতে পারি নাই।

এজন্যই হয়ত আমি ডাক্তার, প্রকৌশলী, কর্পোরেট বড় কোন কর্মকর্তা হতে পারি নাই।বিসিএসে টিকে প্রথম শ্রেণির কোন ক্যাডারও হতে পারি নাই।না হতে পেরেছি সরকারি বড় কোন কর্তা।ছোটখাটো একটা জব করে দিন আনি দিন খাই বাবা মায়ের সাথে।আমার নিজের কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই,মায়ের সাথে একটা জয়েন্ট একাউন্ট খুলেছি।আর বাবার একাউন্ট।বাবা মা আমার জান।তাদের উপর কিছু কারনে আমি খুবই দূর্বল।ওনারা আমাকে পড়াশোনার জন্য কখনও চাপ দেন নি,রেজাল্ট খারাপ হলে কখনও বকা দেন নি,কোথাও ঘুরতে যাওয়া /খেলতে যাওয়া ছিল ফ্রি,কোন বিষয়ে পড়তে চাইলে কখনও না করেন নি,সীমাহীন আড্ডাদিয়ে জীবন কাটিয়েছি।শাসন করতেন না তা ঠিক না,তবে শিক্ষা দিতেন বেশি।

এগুলো দিয়ে তো আর জীবন চলে না,আসুন আমাদের সন্তানকে আমরা কঠিন নিয়ম কানুনওয়ালা স্কুলে পড়াই,ক্যাডেট কলেজে পড়াই।ডাক্তার প্রকৌশলী, বিসিএস ক্যাডার হিসেবে তাদের গড়ে তুলি।আমরা সার্থক হই।।

(স্যার যদি লেখাটি আপনার দৃষ্টগোচর হয় আমাকে ক্ষমা করবেন)

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ২:২১
৪টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা আসলে কত দিনের?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

একটি ১২ ঘণ্টার প্যারোল, একটি শেষ বিদায় এবং ক্ষমতার অনিত্যতার নির্মম শিক্ষা

“পুলিশ ভাই, আমাকে তো এখনই নিয়ে যাবেন, আমি দুই মিনিট ফ্যামিলির সঙ্গে কথা বলি?”

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×