somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুগল্প: রফিক এবং একতারা..

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একতারার শব্দে রফিকের বুকের ভেতর ক্যামন জানি করে।রফিক ঠিক বুঝতে পারে না।কোন কিছু দম ধরে গলা বেয়ে বেরিয়ে আসতে চায়।সব সময় এমন হয় না, কিছু কিছু সময় হয়।রফিকের একতারা শোনার সৌভাগ্য সব সময় হয় না।মাঝে মাঝে হাটের দিন গাতক আসে একতারা হাতে।গান শুনে মানুষ খুশি হয়ে দু-চার টাকা দেয়।রফিক গান ভালবাসে।হাটবার গতকাল শেষ হয়েছে।গাতক আসে নাই।হাটে টিভি ভিসিডি ভরা।মোবাইলে মানুষ গান শোনে ছবি দেখে।রফিকদের বড়িতে কিছু নাই।হাট বাজারের চায়ের দোকান ভরসা।পাশের বাড়ির রহিমা দের টিভি আছে।কিন্তু রফিক কখনও রহিমা দের ঘরে টিভি দেখতে যায় না।রহিমা রফিকের সাথে একই স্কুলে ক্লাশ সেভেনে পড়ে।রহিমা কে নিয়ে রফিকের একটা খুব অস্বাভাবিক ব্যাপার আছে।রফিক সেটা কখনই কাউকে বলবে না,বলতে পারবে না।সেটা হলো রহিমা যদি রফিকের দিকে তাকায় তাহলে রফিকের একতারার সেই অনুভূতি হয়।কিছু একটা বুক থেকে দলা পাকিয়ে গলা বেয়ে উঠে আসতে চায়।রফিক ভেবে রেখেছে রহিমা যদি কখনও তাকে টিভি দেখতে ডাকে তাহলেই সে যাবে,অন্যথায় নয়।কিন্তু রহিমা তাকে কখনই ডাকে না।রফিক জানে কখনও ডাকবেও না।রফিকের বাবা দিনমজুর।অথচ রহিমারা অনেক বড়লোক।কত জমি।রফিক মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।

পরদিন স্কুল থেকে বাড়ি আসার সময়,রফিক কৌশলে একটু তারাতারি হেটে রহিমার পাশে এসে পড়ে।
"এ রহিমা তুই কি ছয় নম্বর অধ্যায়ের সবগুলো অঙ্ক করিছিস?"
রহিমা বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুচকে তাকায়।"ক্যান?"
রফিক দমে যায়।মিনমিন করে বলে" খাতাটা যদি দিতি,একটু টুকে নিতাম"

"পারুম না,যাহ" বলে রহিমা হন হন করে হাটতে থাকে।রফিক সরে পড়ে।বাসায় ফিরে ভাত খেয়ে জাম তলার মাচায় বসে ভাবে পৃথীবি কি অদ্ভুত।একজন খায় ইলিশ মাছ একজন খায় শুধু বেগুন ভর্তা।জাম গাছের ছায়ায় মাচায় রফিকের নিদ্রা ছন্ন ভাব হয়।

দুপুর।বৃষ্টি আসবে আসবে ভাব।আকাশের এক কোনে কালো মেঘের ঘনঘটা।পেছন থেকে' এই রফিক এই রফিক' ডাক শুনে রফিক ঘুরে তাকিয়ে দেখে রহিমা।রফিক নিজের কান চোখ কোনটাই বিশ্বাস করতে পারছে না।স্তব্দ হয়ে আছে।বাকরুদ্ধ। রহিমা আবারো ডাকলো'এই রফিক......

চোখ মেলে দেখে রফিক মাচায়,জামতলার মাচায়।ঠান্ডা বাতাস গায়ে হিম ধরাচ্ছে।রফিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে এই জামতলার মাচা টাও রহিমা দের।

'এ রফিক...এ রফিক"
রফিক পেছনে তাকিয়ে দেখে রহিমাদের বাসায় কাজ করা খালা তাকে ডাকছে।রফিক বুঝতে পারে এজন্যই স্বপ্নে সে রহিমার ডাক শুনছিলো।
"তারাতাড়ি স্কুলে যা,দেক তো রহিমার কি জানি হয়চে,সবাই স্কুল পানি গেল"
রফিক ধরমর করে লাফিয়ে উঠে।"কি হয়চে খালা?"
উত্তরের অপেক্ষা না করে রফিক দৌড়ে বাসায় ঢোকে।কোন মতে শার্ট নিয়ে খালি পায়ে স্কুলের দিকে দৌড়ায়।

স্কুল মাঠ লোকে লোকারন্য।ভীর ঠেলে সমানে যায় রফিক।দেখে ওদের ক্লাশের সুমন কে পিছমোড়া করে বেধে মাঠে বসিয়ে রাখা।রফিক কিছুই বুঝতে পারে না।সুমনের সাথে আরে চারজন কাউকেই রফিক চিনে না। সবাই বয়সে বড়।সবাইকে এক সাথে বেধেরাখা হয়েছে।রফিকের ক্লাশমেট আজাদের সাথে রফিকের দেখা হয়।রফিক আজাদকে ধরে।
"ঐ সুমন ডাকিছিলো,কইছিলো জরুরি কথা আছে।রহিমা বাড়ি না গিয়ি সুমনের সাথে কতা কচ্চিলো।স্কুল ফাকা ছিলো,সুমন এরা মিলি কাম কইরে দেছে।"

বিকেল নামার ক্ষনে রফিকের কাছে পৃথিবীটা অন্ধকার লাগে।মনে হয় কেউ রফিকের কানের খুব কাছে একতারা নিয়ে শব্দের ঢেউ খেলছে।ঝিঁ ঝিঁ পোকার একটানা বিরক্তি কর শব্দও কানে আসে।পানি পিপাসায় বুক ফাটে।রফিক স্কুলের চাপ কলে মুখলাগিয়ে পেট ভরে পানি খায়।কানে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক বন্ধ হয়।একতারার আওয়াজ ও এখন কম শোনা যায়।সবকিছু আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসে........
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:১৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×