
পাবনা শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে দোগাছি ইউনিয়ন এর বলরামপুর গ্রাম। কিছুদিন আগেও ছিল মাদকের স্বর্গরাজ্য। ইয়াবা, ফেনসিডিল,গাজা,হেরইন সহ হেন মাদক নেই যা এই এলাকায় পাওয়া যেত না।প্রায় সারাদিন এবং রাতের বেলায় প্রচুর পরিমানে মাদক সেবনকারীর আনাগোনা শুরু হত। নব্য মাদক ব্যাবসায়ীদের কাঁচা টাকার গরমে যখন এলাকার মানুষেরা কোনঠাসা হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে,ঠিক তখনই এলাকার তিন জন দিনমজুর জীবনের ঝুকি নিয়ে মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়।
এর পরই ঘটে সবচেয়ে আশ্চর্য ঘটনা।এলাকার নারী-পুরুষ,কিশোর-যুবক,বৃদ্ধ সকলে দলে দলে এই দিনমজুরদের সাথে যোগ দেন।
সেই তিনজন দিনমজুরের মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা প্রতিরোধ এক মহীরুহতে রুপান্তরিত হয়।মাদক বিক্রয় এবং সেবন প্রতিরোধের জন্য তারা একটি কমিটি গঠন করেছে। বলরামপুর গ্রামের সেই মাদক বিরোধী কমিটি সভা-সমাবেশ,মিটিং-মিছিল এর মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই নিজেদের উজ্জীবিত করে থাকেন।
পাবনা শহরের স্হানীয় সাংবাদিক এবং আমার স্নেহের ছোট ভাই "রনি ইমরানের" সাথে এই প্রতিবেদন তৈরী করার কাজে আমি সশরীরে ঐ গ্রামে উপস্হিত ছিলাম।মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্যগন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন,কারন যখন রমরমা মাদক মানিজ্য চলত তখন পুলিশ নিয়মিত টহল দিলেও মাদক ব্যাবসায়ী দের নিবৃত করতে অথবা ধরতে পারে নাই।এই মুহুর্তে প্রশাসনের সাহায্য এলাকাবাসীর খুবই প্রয়োজন।আশা করছি, পাবনা পুলিশ সুপার এবং ডিসি ব্যাপারটি দেখবেন।
সালাম জানাই সেইসব দিনমজুরকে, যাদের প্রতিরোধে একটি ঘৃন্য অপচেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সরকারের কাছে আবেদন জানাই,এই পাবনা শহরের দোগাছি ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামকে বাংলাদেশের "মাদক বানিজ্য এবং সেবন প্রতিরোধ" মডেল গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করুক।এবং এলাকার সেই দিনমজুর দের পুরুষ্কৃত করত সকল প্রকার প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।
খবরের লিঙ্ক Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


