somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অল্প স্বল্প গল্প :)

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৩-১২-২০১১ সন্ধ্যা ৭টা

:| সন্ধ্যা বেলা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ভাপা পিঠা খাচ্ছি। চোখে পানি চলে আসছে! এখন আর সেই দিন নেই যে চুলার পাশে বসে দাদীর হাতের বানানো গরম ভাপা পিঠা খেতে পারব! হুঁশ করে ধুলা উড়িয়ে একটা গাড়ি চলে গেল পাশ দিয়ে। বাকি পিঠার সাথে কিছু ধুলাও খেতে হলো। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানো একেই বলে হয়ত।

—-

:) কত মানুষের কত শখ না থাকে! তেমনই শুনলাম, একজন তার বাড়িতে অনেক গাছের সাথে তাল গাছ লাগিয়েছে। তার শেষ ইচ্ছে কোন একদিন এক বাবুই পাখি এসে ঐ তাল গাছে বাসা বাঁধবে।

এখন তো গ্রামেও বাবুই পাখি দেখা যায় না। হারিয়ে যেতে যেতে একেবারেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তার যে মিষ্টি একটা ইচ্ছে , আমার মন ভালো করে দিয়েছে অনেক। আমি না দেখতে পেলেও আশা করে থাকব একদিন বাবুই পাখি সত্যি বাসা বানাবে।

—-

:( বাসার সবাই চিটাগাং যাবে বিয়ে খেতে আর আমি যেতে পারছি না কারন আমার পরীক্ষা আছে । চোখের পানি ছাড়া কান্না, রাগ আর সাথে অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে যার নাম আমার জানা নেই! দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে আমার এত ভালো লাগে! সামনে দিয়ে সেই সুযোগ চলে যাচ্ছে কিন্তু আমি যেতে পারছি না! কেমন লাগে!!!!!!

---------

১৫/১১/২০১১ সকাল ১০:৪৭

:-/ নতুন একটা ডিজিটাল(!) ঘড়ি লাগিয়েছি রুমের দেয়ালে। যেখানে টেম্পারেচার দেখা যায়। আমি একটু পর পর সেটা দেখছি আর শীত বেশী কম তুলনা করার চেষ্টা করছি। সেখানে এখন দেখাচ্ছে ১৪° সেলসিয়াস! হায় আল্লাহ! এত শীত! অবশ্য আমার শীত খুব ভালো লাগে।

------

২৮/১২/২০১১ বিকেল ৪:৩০

:(( সকালে ভোরে হাঁটার খুব ইচ্ছে থাকলেও পারি না আমার কুম্ভকর্ণের মত ঘুমের জন্য।
তাই বিকেলে হাঁটতে বের হই। একাই আশে পাশে হাঁটি। নতুন নতুন রাস্তা চেনা হচ্ছে। কোথায় কি আছে জেনে রাখছি। মজাই লাগে। আজতো সেই পুরনো দিনের মত রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ভেল পুরি খেয়েছি! :| কে জানে! কে দেখে কি আবার ভাবলা!

মজার ব্যাপার হচ্ছে, শীতকালে যেটা সবসময় দেখা যায়। রাস্তা বা বড় মাঠ, বা খালি জায়গা পেলেই বাচ্চারা দাগ কেটে, নেট লাগিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা চলে। এত দিন কলোনিতে ছিলাম বলে আমরাও ব্যাডমিন্টন খেলার সুযোগ পেয়েছি ছোট বেলায়।
হাঁটতে গিয়ে সেটাই দেখলাম যত ফাকা জায়গা আছে সব পিচ্চিদের দখলে। তখনি চট করে একটা ইচ্ছে হল, যেয়ে কোন এক পিচ্চিকে বলি, "ভাইয়া, আমাকেও দলে নাও। আমিও তোমাদের সাথে একটু খেলব" !
কিন্তু অন্য সব এমনি পাগলাটে ইচ্ছের মত এটাও ভুলে গিয়ে কিছু না বলেই হাঁটা চালিয়ে গেলাম। :( বাচ্চাগুলো বিরক্ত হয় কিনা! আবার আপদ না ভেবে বসে! কিন্তু খেলতে খুব ইচ্ছে করছিল।


--------

ঠিক এক বছর আগে আমি একটা ছোট চাকরী পেয়েছিলাম টাঙ্গাইলে। সেখানে থেকেছি ৪ মাস প্রায়। জীবনে এক বার হলেও ট্রেনে চড়ার শখ, বাসে করে দূরের পথে যাওয়া, কচি ধান গাছ থেকে সোনালী হয়ে বেড়ে উঠা, রাস্তার দুপাশের মাঠের পর মাঠ হলুদ সর্ষে ক্ষেত-এর মত অনেক কিছু দেখার ইচ্ছে আমার পূর্ণ হয়েছিল এ সময়।

শীতের ঠান্ডা বাতাসের সাথে দমকা হাওয়ায় গাছের পাতা ঝরে পরার দৃশ্য তো ভুলে যাবার মত না। আমি শুধু থমকে দাড়িয়ে গিয়েছিলাম কয়েক সেকেন্ডের জন্য। নিজেই অবাক যে, কি দেখলাম এটা! এত সুন্দর দৃশ্য দেখার ভাগ্য আমার ছিল!

——–

৭১ এর কথা এত শুনেছি এত পড়েছি, আমার খুব খুব ইচ্ছে ছিল খুব কাছ থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেখব, তার কথা শুনব, তার সেই যুদ্ধের দিন গুলোর ঘটনা শুনব

টাঙ্গাইলে আমার সেই সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়েছে যা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে খুব কাছ থেকে দেখছি। শুধু দুর্ভাগ্য যে তার বর্ণনায় সেই দিন গুলোর কথা শুনতে পারিনি। ইনি ছিলেন আমার স্যার, ইনস্টিটিউট এর এ.ডি., নাম "বিমল চন্দ্র সাহা"। এমন সাদা মনের মানুষ আমি কখন দেখিনি। উনার সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। কি না করেছেন তিনি সবার জন্য! এখনো সেই একই রকম ভাবে কাজ করছেন অবিরাম। শুধু এত টুকুই কষ্ট থাকবে আমি সেই কথা গুলো শুনতে পারলাম না। স্যার আমি মন থেকে আপনার জন্য সব সময় দোয়া করি, আপনি ভালো থাকুন, সুন্থ থাকুন, সৃষ্টিকর্তা আপনার সাথে যেন সবসময় থাকেন।


-------



উপরের ছোট লেখাগুলো আমার নানা সময়ের নানা রকম চিন্তা ভাবনা যা আমাকে নাড়া দেয় খুব এবং তার যেগুলো মনে থাকে সেগুলো ধরে রাখার চেষ্টা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:১৬
৫৫টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বইমেলার কবিতার বই: পাঁচ বছরে বাজারে এসেছে প্রায় ছয় হাজার, মান নিয়ে বিতর্ক

লিখেছেন এম ডি মুসা, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ সকাল ১১:৫২

তবে কবিতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গবেষণারাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী বলেন,হ্যাঁ, কবিতার মান ঠিক নেই। কিন্তু এখন মান দেখার তো লোক নেই। যার যেমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআনের যে দ্বন্দ্বগুলোর সমাধান নেই।

লিখেছেন কবি হাফেজ আহমেদ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:০১

এসবের উত্তরে গোজামিল দিয়েছেন খোদ খলিফা আলী নিজে।


কোরআনের সূরা আল-নিসার ১১-১২ নাম্বার আয়াত অনুসারে কেনো সম্পত্তির সুষ্ঠু বন্টন করা সম্ভব হয় না? [যখন একজন ব্যাক্তি শুধুমাত্র ৩ বা ততোধিক কন্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি -ঈষৎ সংশোধিত পুনঃপোস্ট

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৩

পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি

ছবিঃ অন্তর্জাল হতে সংগৃহিত।

প্রাককথনঃ

দেখতে দেখতে পবিত্র মাহে রমজান-২০২৪ আমাদের দোড়গোড়ায় এসে উপস্থিত। রমজান, মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠতম আনন্দের ক্ষণ, অফুরন্ত প্রাপ্তির মাস, অকল্পনীয় রহমতলাভের নৈস্বর্গিক মুহূর্তরাজি। রমজান... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাপ-মেয়ের দ্বৈরথ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৫৩


আমার দাদির ঝগড়াঝাঁটির স্বভাব কিংবদন্তিতুল্য ছিল। মা-চাচীদের কাছ থেকে শোনা কষ্ট করে রান্নাবান্না করলেও তারা নাকি নিজে থেকে কখনও মাছ-মাংস পাতে তুলে খেতে পারতেন না। দাদি বেছে বেছে দিতেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টি খাতুনই অভিশ্রুতি, এনআইডিতে নাম সংশোধনের আবেদন করেছিল। ধর্মান্তরিত হওয়ার পিছনে দায়ী কে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ রাত ৮:৩৩





বেইলি রোডের সেইদিনের অগ্নিকাণ্ডে নিহত অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর প্রকৃত নাম বৃষ্টি খাতুন। অভিশ্রুতি ও বৃষ্টি খাতুন নামে দুইজন একই ব্যক্তি বলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ সূত্রে নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×