somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোল ফ্রেমের চশমা

০৮ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাফির আজ মন খারাপ। অসম্ভব রকম খারাপ। মন খারাপ মাপার কোনো মিটার আবিষ্কার হয়নি। থার্মোমিটারে জ্বর মাপা যায়, থার্মোমিটার এর মাপের সীমানা সাধারনত ১০৮ ডিগ্রী পর্যন্ত হয়। রাফির ধারণা, মন খারাপ মাপার মিটার থাকলে তার মন খারাপের পরিমান মিটারের সীমা অতিক্রম করে যেত। ঠিক ১০ বছর আগে তার একবার এমন মন খারাপ হয়েছিল, যেদিন রিতিশার বাবার বদলি হয়ে যাবার কথা জানতে পারল সে। রিতিশা তার খেলার সাথী ছিল। একসাথে খেলাধুলা করতে করতে ছোট থেকে বড় হয়েছে তারা। রিতিশা রাফির চেয়ে ৩ বছরের ছোট ছিল। যেদিন এই গোল গোল ফ্রেমের চশমা পরা কিউট পিচ্চিটা এসে তাকে বলল, "রাফি ভাইয়া জানো, আব্বুকে না বস আঙ্কেল দিনাজপুরে পাঠিয়ে দেবে আগামী মাস থেকে। আমরা ওখানে এত্ত বড় একটা বাসায় থাকব", সেদিন রিতিশা না বুঝলেও রাফি বুঝেছিল, প্রিয় খেলার সাথীটিকে হারাতে বসছে সে।

আজ ১০ বছর পরও তার ঠিক এতটাই মন খারাপ হলো, আর আজকেও তার মন খারাপের কারণ রিতিশা।একটু আগে যখন ধানমন্ডি লেকের কিনারে বসে চা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসেছিল, পাশ থেকে একটা বাক্য শুনে তার ধ্যান ভাঙ্গলো, "...পাইনি। আবার যদি কখনো রাফি ভাইয়াকে হাতের কাছে পাই, ওর পাওনা ৫ টা কিল. আর ৩ টা চিমটি দিয়ে দেব। "
হুম, মেয়েটা অনেক বদলে গেছে। কিউট পিচ্চির বদলে সামনে অপরুপা সুন্দরী রিতিশাকে দেখে রাফির তাই মনে হলো। শুধু বদলায়নি মেয়েটার চশমা, এখনো পিচ্চিকালের মতই গোল ফ্রেমের চশমা পরে ও।
-রিতিশা।.!! অস্ফুট চিত্কার বের হয়ে আসে রাফির মুখ থেকে। রিতিশা পিছনে তাকায়, রফিকে দেখেই চিনে ফেলে।
-আরে, রাফি ভাইয়া!! তুমি এখানে? জানো, তোমাকে কত খুজেছি তোমার গিয়ে?
-আসলে বাবা মারা যাবার পর মাকে গ্রামে রেখে এসে পরেছিলাম। এখন..এইতো, এদিকেই থাকি।
-হুম, তো বিয়ে করনি? ভাবি কই?
-কপালে এখনো মেয়ে জুটে নাই রে!!
-হেহেহেহে তুমি যে কি বল না রাফি ভাইয়া!!
রিতিশা হাসছে, সেই ছোট্টবেলার মতই নিষ্পাপ হাসি।রাফি তাকিয়ে দেখছে। এমন সময়,
-রিতিশা, তুমি এইখানে? আমি তোমাকে ঐদিকে খুজছিলাম।
রাফি তাকাতেই তার শ্বাস আটকে গেল। তার অফিসে তারই অধীনে কাজ করা মিজান সাহেব এসে দাড়িয়েছে রিতিশার পাশে। রাফিকে দেখে চমকে বলে উঠলো," স্যার আপনি এইখানে?"

-ওহ!! হ্যা, এমনি ঘুরতে এসেছিলাম।
যা বুঝার বুঝে নিল রাফি।রিতিশা অন্য কারো হয়ে গিয়েছে। ছোটবেলার খেলার সাথী রিতিশা ঠিক যেইভাবে গোল্লাছুটের ঘর আকার চকগুলো সুনিপুন দক্ষতার সাথে হিসেব করে যত্নে রাখত, সেই রিতিশা আজ নিজের জীবনের সমীকরণ মিলিয়ে নিয়েছে। রাফি চোখের পানি লুকাতে লেকের পাশ দিয়ে হাটতে লাগলো, গন্তব্য তার অজানা।

-রাফি, এই রাফি!! কি হলো??
চোখ খুলেই রাফি গোল ফ্রেমের চশমা পরা এক জোড়া চোখ দেখতে পেল। তার উপর ঝুকে আছে। উঠে বসে চোখ মুছে ব্যাপারটা বুঝতে তার কিছু সময় লাগলো, তারপর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস।
- কি হয়েছে তোমার?
- সেই স্বপ্নটা আবার দেখেছি। ওই যে, মিজান সাহেবকে নিয়ে তুমি....
-রাফি, উঠ তো, অফিসে কি ঝামেলা হয় উনার সাথে, আর তুমি সেসব ভেবে রাতে হাবিজাবি স্বপ্ন দেখো!! এখন যাও, দেখো, তোমার তুলতুলি বেগম নাস্তা করবে না, তোমার হাতে খাবে বলে জিদ ধরে বসে আছে।

ঐদিন রাফি রিতিশাকে মিজান সাহেবের সাথে দেখেছিল বটে, তবে উনার সাথে রিতিশা দেখা করতে গিয়েছিল উনার আর উনার বৌএর ঝগড়া মিটানোর উদ্দেশ্যে। উনার বউ আবার রিতিশার বেস্ট ফ্রেন্ড কিনা, তাই। আর তারপর পরই রাফি রিতিশাকে প্রপোজ করে বসে, রিতিশা ও না করেনি। পারিবারিকভাবেই বিয়েটা হয়ে যায়। আর তাদের একমাত্র মেয়ে আরিশা, যাকে রাফি আদর করে তুলতুলি বেগম ডাকে। রাফির মনে না থাকলেও রিতিশা আর ৪ বছর বয়সী আরিশার ঠিকই মনে আছে, তাই তো আজ বাবাকে সে ঘুম থেকে জাগায়নি গাল টেনে!!

রাফি হাতমুখ ধুয়ে পাশের ঘরে রওনা দিল, তুলতুলিকে খাওয়াবে বলে, রিতিশা বিছানায় বসে মুচকি হাসছে। একটুপর পাশের ঘরে গিয়ে দেখে রাফি আরিশাকে কলে নিয়ে ঘরভরা বেলুনের মধ্যে হাসছে। রিতিশাকে দেখে ইশারায় চত্ব করে বলল, থ্যাঙ্কস। রিতিশা রাফির পাশে গিয়ে দাড়াতেই দুম করে একটা চুমু খেয়ে বসলো রাফি তার গালে। আর তার পরেই,
-বাবা, আমি কিন্তু দেখে ফেলেছি, তুমি মাকে পাপ্পি দিয়েছ!!
-তাই বুঝি? দুষ্ট বুড়ি, একেবারে মায়ের পাকনা হয়েছ? দাড়াও, তোমারে আজকে পিট্টি দিব।
-ইহ! তুমি আমাকে ধরতে পারবে না!!
-দাড়াও, দুষ্ট মেয়ে কোথাকার!!

রাফি আরিশার পিছন পিছন পুরো ঘর দৌড়াতে দৌড়াতে রিতিশাকে হাসতে দেখে, আর ভাবে, দৌড়ের উপর থাকলেই বা কি!! জীবনটা আসলেই মন্দ নাহ!!


১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×