কিভাবে যে আমার ক্ষুদ্র লেখা শুরু করবো আমি বুঝতে পারছিনা। শুধু এইটুকু বুঝতে পারছি,আমি আমার বিবেকের কাছে ধবংশিত হচ্ছি দিনরাত অনবরত। কারন আমার দেশ বাংলাদেশ। আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের এ কেমন নিস্তব্ধতা, এ কেমন অদ্ভূত আচরণ। তার পায়ে আছড়ে পড়া নাফ নদীর রক্তস্নাত ঢেউ ভাংগন ধরাতে পারছেনা তার বুকের পাথর কঠিন হৃদয়ে। কিভাবে সে উপেক্ষা করে যায় শত সহস্র অসহায় নারী-শিশুর-বয়োবৃদ্ধের ক্রন্দনরোল। ওরা হয়তো বাংলাদেশী নয় কিন্তু এথনিক্যালী ওরা বাংগালী,ওরা মুসলীম, সবচেয়ে বড়কথা ওরা মানুষ। চট্টগ্রামের আন্চলিক ভাষায় কথা বলা ঐ রোহিঙ্গারা আমাদেরই লোক, ওদের আর আমাদের শরীরের রক্ত একই।এটাই ঐতিহাসিক সত্য।অতীত রাষ্ট্র দখলের জবরদস্ত রাজনৈতিক সীমারেখার গ্যাড়াকলে পড়ে নিজ আবাসভূমে তারা সংখ্যালঘু, রাষ্ট্রীয় পরিচয়হীন।অত্যাচারী বর্মী সামরিক জান্তার সুদীর্ঘ শাসনে নিষ্পেষিত, ভন্ড বুড্ডিস্ট ভিক্ষু আর রাখাইনদের হাতে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত, রক্তাক্ত,ধর্ষিত,গৃহহারা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এভাবে হয়তো নিশ্চিন্ন হয়ে যাবে একদিন। আমরা ভুলে গেছি অতীত। এদেশের মানুষও হয়েছিল অত্যাচারিত-নিগৃহীত-ধর্ষিত, নয় মাস অশ্রিত ছিল পাশের দেশে। আমাদের স্বার্থান্বেষী রাজনীতিবিদগন কিংবা বেহেস্ত প্রত্যাসী রাজনৈতিক হুজুরগন কিভাবে চক্ষুমুদে থাকেন।জননেত্রীতো শুধু সীমান্ত সীল করে দিয়েই ক্ষ্যান্ত থাকেন না বরং মাঝে মধ্যে রোহীংগাদের আশ্রয়প্রদানকারী সহানুভূতিশীল স্থানীয় লোকদের উপরও চড়াও হন। কি নিষ্ঠুরতা, কি বর্বতা, কি অমানবিক। আমরাও ওপারের হত্যাকারীদের চেয়ে কম কিসে?! নির্যাতিত প্রতিবেশীর প্রতি অসহানুভুতি আর দুরের ফিলিস্তিনী, কাশ্মীরিদের জন্য আমাদের সিজনাল উম্মত্ত্বতা বা আমাদের রাষ্ট্রীয় সহানুভুতি যেন জাতিসংঘের লোক দেখানো ভূমিকার মতোই ভন্ডামী মাত্র।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



