প্রথম বারে যাওয়ার সময় ভাল ভাবেই গেলাম।সমস্যা হল আসার সময়।যে কোন কারণেই হোক বাসে আমার বসা লেগেছিল দুই সিটের মাঝখানে খালি যে জায়গা টা থাকে তার মাঝে ব্যাগের উপর।আমার প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল যত টুকু না শরীরের উপর তার থেকে বেশি আমার মনের উপরে।মেনে নিতেই পারছিলাম না ব্যাপার টা।আমার সহ্য ক্ষমতার এক কঠিন পরীক্ষা দেওয়া লাগল।একটা কাজে গিয়েছিলাম।(বাসের প্রায় সবাই মোটামুটি আমার পরিচিত ছিল---কেন বাস থেকে নেমে গেলাম না,কেন এইভাবে আসা লাগল,তা না হয় আর এক দিন, অন্য কোন পোস্ট এ আলোচনা হবে।)
এর কয়েক মাস পরেই আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ বললেন উনি একা একা ঢাকা যাবেন নতুন মাইক্রো বাস নিয়ে....উনি আমাকে নিয়েও যাবেন আবার নিয়েও আসবেন।এই বারের ভ্রমণ ছিল খুব আরামের।বলা যায় নিজের ইচ্ছেমত গেলাম আর আসলাম।যখন যে গান শুনতে ইচ্ছে করল তা শুনলাম এসি'র মধ্যে বসে বসে।এই বারের ভ্রমণে আমার যাওয়ার কোন প্রস্তুতিই ছিল না।
পরে চিন্তা করছিলাম..... প্রথমবার নিজে খরচ করে ভাল ভাবে আসতে চাইলাম,কিন্তু আসা লাগল খুব কষ্ট করে।আর পরের বার আমার কোন প্রস্তুতি ছিল না,কিন্তু বেশ ভালবাবেই গেলাম আর আসলাম।
এই তো জীবন।হয়ত এভাবে ,না হয় ওভাবে হবে.....
জীবনে চলার পথে এমন সময় হয়ত আসে.... মনে হয় বিড়াট একটা পাহাড় ,প্রচন্ড রোদ,আর চলতে পারছি না,পা অবশ হয়ে আসছে ....
আবার হয়ত বা জীবন নামের নদী তে স্রোতের বপিরীতে সাঁতার কাটতে কাটতে মনে হয় শরীরের সমস্ত শক্তি শেষ,আর হাত চলছে না.....
তখনি দেখতে পেয়েছি...সমতল রাস্তা,মেঘের ছায়া আর প্রাণ জুড়ানো বাতাসের।তখনি পেয়েছি স্রোতের অনুকূল,আর তীরের দেখা।পেয়েছি ভরসা।
বেশ ভালই তো আছি।প্রতিদিন জীবন কে নতুন ভাবে দেখছি,নতুন ভাবে শিখছি......
-----------
কত টুকুই বা আর দেখা হল এই বয়সে??
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






