
বড় একটা কাঁথা বিছানো, তার উপর রাখা আছে কিছু মোমবাতি আর আগরবাতি, একটা তসবিহ, কয়েকটি ১০/২০ টাকার নোট আর রয়েছে স্বর্পিল আকারের আঁকাবাকা একটা লাঠি। কাঁথায় অর্ধ শায়িত মাঝ বয়সী লোকটা বেশ হৃষ্টপুষ্ট, দুই হাতে অনেকগুলো লোহার বালা। বুকে পিঠে পেচানো অনেকগুলো লোহার শেকল যার মাঝে মাঝে ঝুলছে কয়েকটা তালা। সত্যিই বেশ বৈচিত্রময় পাবলিক তিনি। তার নাম শেকল বাবা। মুখে কোন কথা বলেন না, সবই ইশারায়।

লেমিনেটিং করা কয়েকটি কাগজে লিখা আছে তার বায়োডাটা, যা পড়ে সত্যিই আমি চমৎকৃত হলাম। আপনারাও মনে হয় চমৎকৃত হবেন। তো আসুন দেখি ওখানে কি লিখা আছে।
(১) চিশতিয়া আল কাদেরিয়া তরীকা পীরের আদেশে ৩৬ বছরের জন্য কথা বন্ধ থাকিবে। ২৮ বছর চলিয়া গিয়াছে (এখন ২৯ বছর চলিয়া গিয়াছে, কারণ আমার সাথে ওনার দেখা ১০/০৮/২০১৪ তে)।
(২) কাহারো বাড়িতে যাইতে পারিবে না।
(৩) কাহারো কাছে কিছু চাহিয়া খাইতে পারিবে না।
(৪) শীতের কোন পোষাক পরিতে পারিবে না।
(৫) ৭ দিনে ১ দিন গোসল করিতে পারিবে।
(৬) ভক্ত বৃন্দের বাড়িতে যাইতে পারিবে।
(৭) ছিকল এর ওজন ৫৬ কেজি।
(৮) সপ্তাহে ৩ দিন ভাত খাওয়া বন্ধ।
(৯) ৩ দিন দুধ বা ফল খাইতে পারিবে।
(১০) পীরের নান নজরুল ইসলাম (ননী মিয়া) তাহার শিষ্য ছিকল বাবা।

এই শেকল বাবা তার ৭ পীরের নাম ও অন্য একটা লেমিনেটিং করা কাগজে লিখে রেখেছে, সেটা নিম্নরূপঃ
(১) পীরে কেবলা হয়রত সাহজালাল
(২) তার শিষ্য হযরত বন্দু শাহ
(৩) তার শিষ্য হযরত আফাজ শাহ
(৪) তার শিষ্য হযরত ইলিয়াস শাহ
(৫) তার শিষ্য হযরত মফিজ উদ্দিন শাহ
(৬) তার শিষ্য হযরত নজরুল ইসলাম (ননী মিয়া)
(৭) তার শিষ্য হযরত মঙ্গল (ছিকল মিয়া, পাগলা)
বিঃ দ্রঃ এই শেকল বাবার সন্ধান আমি পেয়েছিলাম আখাউড়া শহীদ কল্লা শাহ এর মাঝারে গিয়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


