somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেড়াদ্বীপ-বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ বিন্দু

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নীল সমুদ্রের বুকে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিনের সর্ব দক্ষিণ বিন্দু তথা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ বিন্দুর নামই ছেড়াদিয়া বা ছেড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ৫ কি: মিটার দক্ষিণে এ দ্বীপটির অবস্থান। ছেড়া দ্বীপের আয়তন তিন বর্গ কিলোমিটার। ২০০০ সালের শেষের দিকে এই দ্বীপটির সন্ধান পাওয়া যায়, ছেড়া দ্বীপ জোয়ারের সময় অনেকাংশে ডুবে যায়।

প্রচুর প্রবাল, পাথর, স্বচ্ছ পানিতে নানান জীব বৈচিত্র দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ঘুরে আসতে হবে ছেড়া দ্বীপ। সেন্ট মার্টিন থেকে ট্রলারে মাত্র ২০/২৫ মিনিট লাগবে ছেড়া দ্বীপ পৌঁছতে। ভাটার সময় সেন্ট মার্টিন থেকে হেটেও ছেড়া দ্বীপ যাওয়া যায়।


(২) সেন্টমার্টিন থেকে এমন সব ট্রলারে চড়েই যেতে হয় ছেড়াদ্বীপে, অবশ্য কিছু স্পীডবোটও ওখানে যাতায়াত করে।


(৩) ট্রলারে চড়ে ছেড়াদ্বীপে যাওয়ার সময় সেন্টমার্টিনের পুরো পূর্ব পাশটায় নজর বুলিয়ে নেওয়া যায়। সমুদ্রের নীল জলরাশির ভেতর নারকেল গাছ বেষ্টিত সেন্ট মার্টিনের এই রূপ দেখার জন্য বার বার এখানে আসতে ইচ্ছে করবে এটা নিশ্চিৎ।


(৪) ইদানিং সেন্টমার্টিনে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়, অনেকে এ্যডভেঞ্চার করার জন্য ভাটার সময় ভাড়া সাইকেল নিয়ে ওখানে চলে যায়। সাইকেল নিয়ে যাওয়া একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেমন লাগলো, সে বলছে জীবন শেষ। আমাদের সাথের অনেকে হেটেও ছেড়া দ্বীপে গিয়েছে। আমি মনে করি এই বালিয়ারি ধরে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার চাইতে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটা অনেক সহজ।


(৫) ট্রলার ছেড়াদ্বীপের পাশে ভেড়ানো যায় না, ওখানের ধারালো প্রবালে ট্রলার ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা থাকে প্রবল। তাই ট্রলার দ্বীপ থেকে বেশ কিছুটা দূরে নোঙ্গর ফেলে। তারপর ছোট ডিঙ্গি নৌকাগুলো দিয়ে ছেড়াদ্বীপে গিয়ে নামতে হয়। সামনেই দেখা যাচ্ছে পাথুরে ছেড়াদ্বীপের একটা অংশ যেখানে কেয়া পাতার ছাওনি দেওয়া দুটি ঘর।এখান দিয়েই ছেড়াদ্বীপে যাতায়াত করতে হয়।


(৬) ছেড়াদ্বীপে নেমে কেয়া বন আর বালির উপর বিছিয়ে থাকা লতানো গাছগুলোর বেগুনী ফুল দেখে ইচ্ছে করবে যে, একটা জীবন এখানেই কাটিয়ে দিলে মন্দ কি?


(৭/৮) কিছু বালু ছাড়া এই দ্বীপের পুরোটাই প্রবাল, সাদা, কালো হরেক রং হরেক ডিজাইন। সাদা প্রবালগুলোর প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বেশী বলে একজন স্থানীয় বাসিন্দা ছোট সাদা প্রবালগুলো ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে বিক্রি করার জন্য।




(৯) উপরে নীল আকাশ, আর নীচের ফেনীল সমুদ্র নিরন্তর প্রবালের উপর আছড়ে পড়ছে, এমন দৃশ্য দেখলে চক্ষু পবিত্র হয়।


(১০) ধারালো প্রবালের উপর দিয়ে সাগরে নামা কঠিন, তবু পর্যটকদের সেই দিকে কোন ভ্রক্ষেপ নেই।


(১১/১২) যেদিকে তাকানো যায় এমন পোকায় খাওয়া পাথর, যার নাম প্রবাল।




(১৩) তবে বিশালার এমন সাদা প্রবালগুলো আলাদাভাবে সবার দৃষ্টি কারে।


(১৪) এই ফলের নাম কেয়া, সেন্ট মার্টিন আর ছেড়াদ্বীপ ছাড়া অন্য কোথাও এই গাছ আর ফল দেখিনি।


(১৫) জোয়ারের সময় এখানে এসে ভাটার সময় স্বল্প পানিতে আটকে পড়া মাছ।


(১৬) দ্বীপের ভেতর কেয়া পাতার চালা দেওয়া এমন কিছু দোকান আছে, যেখানে সামুদ্রিক মাছ, কাকড়া, ডাব ও পানি বিক্রি হয়।


(১৭/১৮) বালতিতে রাখা কাকড়া, যা দামদর করার পর প্লেটে এমন ভাবে চলে আসে।




(১৯) পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ট্রলারগুলো ওই দূরে দাঁড়িয়ে আছে।


(২০) পর্যটকরা ছোট নৌকায় করে ফিরে যাচ্ছে বড় ট্রলারগুলোতে, ট্রলারগুলো সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেন্টমার্টিনের মূল দ্বীপে।

তিনবার ছেড়াদ্বীপে গিয়েও কোন চাঁদনী রাতে ওখানে থাকার সুযোগ হয়নি, অবশ্য ওখানে থাকাটা বেআইনী। তবু আমার কিছু বন্ধু বান্ধব ওখানে চাঁদনী রাতে তাবুতে থেকেছিলো। তাদের ভাষায় ওটা ছিল একটা স্বর্গীয় রাত। তেমন একটা স্বর্গীয় রাতের অপেক্ষায় আছি আমিও।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮
৩৭টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×