
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে কার না ভালো লাগে? পাভেল, অভি, লিমন, তুষার, আবিদ, মেহেদী ছাড়াও তাদের খুব কাছের বেশ কিছু বন্ধু রয়েছে। ওরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকলে তারা আশেপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়াতো নিয়মিত। আজকে পাহাড়ে তো পরের দিন নদীর ধারে এমনি ভাবে ওদের দূর্দান্ত কৈশোরটা পার করছিলো। ১৭ আগষ্ট প্রগতি স্মরণীতে (মুরাপাড়া থেকে কুরিল বিশ্বরোড পর্যন্ত রাস্তা, যাকে আমরা তিনশত ফিট রাস্তা বলে থাকি) ওদের আড্ডাবাজিতে জমায়েত হওয়ার কথা।
যথারীতি নরসিংদীর মাধবদী থেকে ওরা দুটি গাড়ি নিয়ে রওয়ানা হলো। ওদের গাড়িগুলো ওরা নিজেরাই ড্রাইভ করছিলো। একটু পরেই মেহেদীর গাড়িতে থাকা তুষার বললো আমি পাভেল এর গাড়ি দিয়ে যাবো (মেহেদী তার নিজের গাড়ি ড্রাইভ করছিলো, পাবেল তার নিজের গাড়ি রেখে তার চাচার নতুন কেনা CRV গাড়িটা চালাচ্ছিলো)। তুষারের আবদার রক্ষায় মোবাইলে কথা বলে দুটি গাড়ি থামাল। মেহেদীর গাড়ি থেকে তুষার নেমে পাবেল এর গাড়িতে আর আবিদ পাবেল এর গাড়ি থেকে নেমে মেহেদীর গাড়িতে চড়ে ওরা ছুটে চললো প্রগতি স্মরণীর দিকে।
কয়েক মিনিট পরেই পাবেল গাড়ির সামনে দিয়ে হঠাৎ একটা বাচ্চা মেয়ে রাস্তা পার হওয়ার জন্য দৌড় দিলো, মেয়েটিকে বাঁচাতে পাবেল তার গাড়িকে রাস্তার উল্টা পাশে নিয়ে গেলো, মেয়েটি সামান্য আহত হলেও বেঁচে গেলো। কিন্তু ততোক্ষণে পাবেলের গাড়ি খুবই ঝুঁকি পূর্ণভাবে একটা গভীর জলাশয়ের কাছে চলে এলো। পাবেল সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করলো গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে, কিন্তু না গাড়ি ততোক্ষণে খাদের কিনারায়। CRV কয়েকবার উল্টাপাল্টা হলো, তারপর সোজা নেমে গেলো গভীর পানির তলায়। পানির গভীরতা বেশি থাকায় তাদের বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা যায়নি, প্রায় ৩০ মিনিট পর ওদের উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে গেলে ডাক্তাররা ওদের মৃত ঘোষণা করে। তুষার গাড়ি বদল করে আবিদকে বাঁচিয়ে নিজেই যেন মৃত্যু বদল করে নিয়েছিলেন।

***পাভেল, অভি, লিমন তনজনই আমার নিকটাত্মীয়, তুষার তাদের বন্ধু।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
