somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিমছড়ির বাঁকে

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশটা যে আসলে কত সুন্দর তা চার দেয়ালের মধ্যে থেকে কখনোই বোঝা যাবে না। বেরিয়ে পড়তে হবে দিক থেকে দিগন্তে। মিলিয়ে যেত হবে আদি থেকে অনন্তে। তবেই না মনের খিদে মিটবে। এমন অনেকেই আছেন যারা প্রায়ই কারণে অকারণে বলতে পছন্দ করেন-'এদেশে কিচ্ছু নেই। এখানে আবার হানিমুন করার জায়গা কোথায়! ঘুরতে হলে যাব প্যারিস, দুবাই কিংবা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া!' সত্যিই কি এদেশে কিচ্ছু নেই? আসলে দেখার মত চোখ থাকতে হয়, বোঝার মত অন্তর থাকতে হয়। কবি তো আর শুধু শুধু বলেননি-দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া, একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু। কবির কথার সত্যতা খুঁজতে চলে গিয়েছিলাম হিমছড়িতে- কক্সবাজারের হিমছড়িতে। আজ আমি আপনাদের সেই হিমছড়ির গল্পই বলব।

কক্সবাজার যে হোটেলে ছিলাম সেটি ছিল একদম সাগরের কোল ঘেষে। ওখান থেকে হিমছড়ির দূরত্ব 12 কিলোমিটার। যাবার উপায় অনেক। হিমছড়ির রাস্তা দারুণ ঝকঝকে, তকতকে। বাস, টেম্পু, মোটরসাইকেল ইত্যাদি যেকোন কিছুতে চড়েই আপনি ওখানে যেতে পারেন। আমরা চারজন মিলে একটা বেবিট্যাক্সি নিলাম। যাওয়া আসা এবং ওখানে ঘন্টাখানেক থাকা বাবদ ভাড়া ঠিক হল 200 টাকা। দিনটি ছিল 9 সেপ্টেম্বর, শনিবার। আমরা বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হিমছড়ির পথে যাত্রা শুরু করলাম।

হিমছড়ির রাস্তাটা অদ্ভুত সুন্দর। একপাশে উচুঁ পাহাড়, অন্যপাশে দিগন্তপ্রসারি উত্তাল সমুদ্র। মাঝখানে অাঁকাবাঁকা পিচঢালা পথ। পাহাড়ের গায়ে সবুজ চাদরের মত নানান গাছগাছালি জড়িয়ে আছে। দূর সমুদ্রে যত দূর দৃষ্টি যায় আকাশের নীলের বুকে সাগরের উত্তালতা যেন বিলীন হয়ে গেছে। রাস্তায় দেখলাম সেনাবাহিনী কাজ করছে। হঠাৎ মাঝপথে একটা বড় ঝরনা চোখে পড়ল _ পাহাড়ের বুক চিরে অবিরত বয়ে চলা। ইচ্ছে হল ওখানে গোসল করি। কিন্তু ইচ্ছে পূরণ হল না।

হিমছড়ির মূল আকর্ষণ হচ্ছে ঝরনা। প্রায়ই দেশ বিদেশের অনেক পর্যটক এখানে আসেন। ওখানে পেঁৗছে জানলাম ভিতরে ঢুকতে হলে প্রতিজন দশ টাকা করে লাগবে। কি আর করা! এত দূর এসেছি, ঝরনা দেখতেই হবে। টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকলাম। এখানে টিলার একদম উপরে ওঠার ব্যবস্থা আছে। নিচ থেকে উপর পর্যন্ত পাকা সিড়ি। 243 ধাপের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে যেয়ে দেখলাম মাঝপথে বসে অনেকেই হাঁপাচ্ছে। সত্যি বলতে কি কিছু দূর উঠার পর আমিও হাঁপিয়ে গিয়েছিলাম। এত ধাপের সিড়ি একবারে উঠা_একটু কঠিনই ছিল। টিলার উপরে উঠে মনে হচ্ছিল আমি যেন এভারেস্টের শীর্ষে উঠে গেছি! নিচের মানুষ, ঘরবাড়ি, যানবাহন_ সবকিছু কেমন যেন বিন্দু বিন্দু মনে হচ্ছিল। সবচেয়ে ভাল লাগছিল দূরে সাগর আর আকাশের মিলনে পড়ন্ত বিকেলের সূর্যের অম্লান হাসি। একদিকে টিলার গায়ে গায়ে সবুজের সমারোহ, অন্যদিকে প্রকৃতির নীলের বিশালতা_মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না।

এবার সেই কাঙ্খিত ঝরনা দেখার পালা। ঝরনা দেখার জন্য আমাদের টিলা থেকে নেমে বাদিকে যেত হল। একটু দূর যেতেই পানির চিকন ধারা চোখে পড়ল। বুঝলাম ওটা ঝরনা থেকেই এসেছে। ঝরনার কাছাকাছি যেয়ে দেখলাম ওখানকার রাস্তা খুবই সরু, একসাথে তিন-চারজনের বেশি যাওয়া যায় না। আমরাও এর বেশি যেতে পারলাম না। পাহাড়ের শরীর ছুয়ে চলা অনবরত সে পানির ধারায় গিয়ে অনেকেই যেন আনন্দে পাগল হয়ে উঠে। আসলেই ঝরনার পানিতে লাফালাফি, মাতামাতি করার লোভ সামলে আছে_এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া সত্যিই মুশকিল। আমাদের কেউ কেউ গোসল করল। পাশাপাশি পানি ছোড়াছুড়ি, কাদা মারামারি তো ছিলই।

আধা ঘন্টার মত আমরা ওখানে ছিলাম। তারপর ফেরার পথ ধরলাম। ফেরার পথে জেমসের একটা গান কেন যেন বার বার মনে হচ্ছিল- 'ঐ দূর পাহাড়ে লোকালয় ছেড়ে দূরে হিমছড়ির বাঁকে, মন কেড়েছিল এক দূরন্ত মেয়ে'...মন তো সে সেই কবে কেড়ে নিয়েছে। আজ কাছে থাকলে আনন্দটা হয়ত আরও বেশি হত। সাথের সবাইকে দেখলাম কেমন যেন চুপচাপ...কি যেন ভাবছে। তাহলে তখন সবাই কি আমার মতই দূরন্ত মেয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল?

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আছছে পিনু ভাই

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০২


ঘরের ছোল নাকি ঘরত আছছে
পুটি, বওল, টেংরা মাছ কুটিরে?
পাতিলত ভরে পুরপুরি ছালুনের
বাসনা যেনো আকাশত উরে-
কি সখ ছোলপল নিয়ে হামি এনা
যমুনাত যামু গাওধুমি, সাতরামু;
কে বারে শুন শুন হামাগিরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২০



নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

এখানে ছবি আছে ক্লি করে দেখতে হবে, যেহেতু আমাকে ছবি আপলোডে ব্লক করেছে এডমিন।

দেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে- জনগণের বাস্তব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩



আপনারা কেমন আছেন?
আমি কেমন আছি, বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে কোনো অলৌকিক কিছু যেন জেনে ফেলেছি। না জানলেই বুঝি ভালো হতো। দুনিয়াতে যে যত কম জানে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সাথে আমার দিদার কেমন ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১২



আমি বিশ্বাসী মানুষ। আমার আল্লাহর দিদারে বিশ্বাস আছে। আল্লাহর সাথে আমার দিদার হয়েছে চার বার। প্রথমবার আমি স্বপ্নে দেখলাম হাসরের মাঠ। পূর্বে জাহান্নামের গভীর খাদ। খাদের উত্তর পাড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×