somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে প্রতিদিন।

০৬ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়ায় এলাংজানী নদীর উপর ব্রিজ নির্মান না হওয়ায় প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে একটি ব্রিজের জন্য প্রহর গুনছে এলাকাবাসী। দুই যুগ ধরে এই ব্রিজের নির্মান প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ভোটের বৈতরনী পার হওয়ার জন্য অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর ভুলে গেছেন এই ব্রিজটির কথা।
স্থানীয় এমপি খন্দকার আব্দুল বাতেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তিনি ব্রিজটি নির্মান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পাঁচ বছর চলে গেলেও কোন কাজ হয়নি। বিগত নির্বাচনে তিনি আবারও এমপি হয়েছেন। বাঁশের সাকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে স্কুল, কলেজের ছাত্র, ছাত্রী ও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।


ব্রিজটির কারনে দেলদুয়ার পশ্চিমাঞ্চলের সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পশ্চিমে এলাসিন, দেউলি ও আটিয়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার লোকজনকে উপজেলা সদরে আসতে হলে টাঙ্গাইল সদর হয়ে ২০/২৫ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। এতে যেমন অর্থের অপচয় হয় তেমনি সময়ও লাগে বেশী।
সড়ক ও জনপথ সুত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৯৮৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর ব্রীজটি নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করে। ইউনিয়ন বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রীজটি নির্মানের দায়িত্ব পায়। দরপত্রের চুক্তি অনুযায়ী ব্রীজের পিলার নির্মান না করার কারনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় নির্মান কাজ।
পরে ১০% জরিমানা করে ওই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহবান করা হয়। কিন্তু উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করায় আবারও বন্ধ হয়ে যায় নির্মান কাজ। মামলা সংক্রান্ত জটিলতা শেষ করে ২০০৬ সালে ৫ কোটি ২৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকায় অন্য একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ব্রীজটি নির্মানের দায়িত্ব দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু ডিপিপি অনুমোদন হয়ে না আসায় নির্মান কাজ বন্ধ থাকে।


মুশুরিয়া, এলাসিন, আটিয়া এলাকাবাসী বলেন, দেলদুয়ার টাঙ্গাইলের সাথে সংযুক্ত থাকায় সদর আসন থেকে কোন এমপি হয়ে এদিকে তাকাননি। এবার এলাকার লোক এমপি হয়েও ব্রিজ নির্মানে কোনো আগ্রহ দেখাননি। নদীর উপর কোন ব্রীজ না থাকায় আমরা কোন রোগী নিয়ে উপজেলা সদরে যেতে পারিনা। দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আমাদের খুব কাছাকাছি হওয়া সত্বেও রোগী নিয়ে দেলদুয়ারের পরিবর্তে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে যেতে হয়। এতে যেমন অর্থের অপচয় হয় তেমনি প্রানহানির আশংকাও থাকে।
নাগরপুরের সাথে দেলদুয়ারের কোন সড়ক যোগাযোগ নেই। এলাংজানি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন রয়েছে এ দুই উপজেলা।
ব্রীজটি নির্মিত হলে দেলদুয়ারের সাথে আরিচার সড়ক যোগাযোগসহ ব্যবসা বানিজ্যের দ্বার উন্মোচিত হবে।
লালহাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন , এইতো কয়েকদিন আগে সাঁকো ভেঙে CNG নদীতে পড়ে গিয়েছিল, আহতও হয়েছে কয়েক জন। আমরা এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছি। বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজু তালুকদার বলেন, এই ব্রিজটা খুবই জরুরী, দেখুন নাল্লাপাড়া বাজারে আবুল হোসেন কলেজ, বেলায়েত হোসেন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে অন্য দিকে এলাসিন রয়েছে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ডিগ্রী কলেজ। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, শিক্ষিকা বৃন্দদের যাতায়াত এর এক মাত্র পথ এটা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×