somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসলমান হয়ে জন্মানোটাই কি রোহিংগাদের আজন্ম পাপ??

২৮ শে মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং রোহিঙ্গা ইস্য্যু নিয়ে বেশ কথাবার্তা (তোলাপাড় ও বলা যায়) চলছে এই উপমহাদেশ জুড়ে। অবশ্য এটা নতুন কোন ইস্যু নয়। দিন কয়েক পরপরই এটা বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। আবার থেমেও যায়। রোহিঙ্গা ইস্যুটা অনেক পুরাতন। মায়ানমার বলছে রোহিংগারা বাংগালি, তারা অনেক আগে কাজের খোঁজে এখানে (পূর্বের আরাকান রাজ্যই বর্তমান মায়ানমার) এসে রয়ে যায়। আর ফিরে যায় নি। সুতরাং তাদের বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। কি অদ্ভুত তাদের যুক্তি! আমার প্রশ্ন হলো মায়ানমারের লোকেরা কাজের খোঁজে ইউরোপ বা আমেরিকা তে গিয়ে কি নাগরিকত্ব নাগরিকত্ব আশা করে না? আর যদি তাদের সন্তান সেখানে জন্ম নেয় তবে কি সেই সন্তান সেদেশের জাতীয়তা পায় না? আর বাংলাদেশ বলছে তারা রোহিঙ্গারা জন্মসূত্রে বর্মী... এই নিয়ে চলছে টানাপড়েন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। আমি সেদিকে যাবনা কারন যে কেউ চাইলেই Googling করে বিস্তারিত জেনে নিতে পারে। আজকের লেখার বিষয়টা ও সেটা নয়।

মায়ানমার তো রোহিংগাদের মানুষ হিসেবেই মানতে নারাজ। ইন্টারনেট এবং গনমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যতভাবে অত্যাচার নিপিড়ন করা যায়, করা হচ্ছে, এমনকি পুড়িয়ে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করছে না। ধর্ষণ আর কুপিয়ে বা লাঠি দিয়ে হত্যা করা তো নিত্যনৈমিত্তিক পদ্ধতি। তাছাড়া কাজ করিয়ে মজুরী না দেয়া এগুলাতো আছেই। তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে অনেক আগেই মানুষ হিসেবে নুন্যতম যে অধিকার সেটাও দিতে নারাজ বর্তমান জান্তা সরকার। (অবশ্য তথাকথিত গনতন্ত্রকামী আং সাং সুকি ও যে খুব উদার তাও বুঝা যায় না।)। দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারে সামরিক শাসন (বলা উচিত অপশাসন) চলছে। যে কারনে গণমাধ্যমগুলোকে খুব সেন্সরশিপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে (প্রকৃত খবর আরও ভয়াবহ হবে )। মায়ানমারের প্রায় শতভাগ লোক বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি। প্রতিটা বৌদ্ধ জন্মান্তরে বিশ্বাস করে। অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করে মানুষ মরে গেলে তার পাপ পুন্য অনুসারে বিভিন্ন প্রানীর আকৃতিতে পুনরায় জন্মলাভ করে। এভাবে একসময় প্রায়শ্চিত্ত করতে করতে সে আবার মানুষ হিসেবে জন্ম লাভ করে। সেই কারনে বৌদ্ধ ধর্মে পশু হত্যা মহাপাপ। তবে সম্ভবত মুসলমান হত্যা পাপ নয় । কিংবা অতীব পুন্যের কাজ। অবস্থা দৃষ্টে অন্তত তাই মনে হয়। আজ বিবিসির খবরে দেখলাম এক বুদ্ধ ভিখু আন্দোলন করছে সাগরে যেসব রোহিঙ্গা রা ভাসছে তারা নাকি মোটেই মিয়ান্মারের নাগরিক নয়... সাগরে ডুবে যাক কিংবা অনাহারে মারা যাক কোনভাবেই তাদের কে মায়ানমারে ফিরিয়ে আনা যাবে না ।

আমার কাছে যেটা মনে হয়, আমি ব্যাক্তিগতভাবে প্রচন্ডভাবে বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গাদের প্রধান অপরাধি হচ্ছে তারা জন্মসুত্রে মুসলমান। আজ যদি তারা বুদ্ধিষ্ট হত তবে আমি নিশ্চিত এই সমস্যায় পড়তে হতনা। তারা মায়ানমারের যেকোনো নাগরিকের ন্যায় যাবতীয় সুবিধা ভোগ করতো। আর যদি খ্রিষ্টান হতো তবে তো কথাই ছিলো না। পশ্চিমা প্রভুদের ইশারায় তাদের সকল সুবিধা দিতে বাধ্য হতো নতুবা এতদিনে নতুন এক খ্রিস্টান দেশের ই জন্ম হয়ে যেতো। কিংবা নিদান পক্ষে হিন্দু হতো তবে হয়তো এতো খারাপ অবস্থা হতো না। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও নিশ্চিত ভাবে তাদের গ্রহন করতো (ভোট ব্যাঙ্ক হতো কিনা? বর্তমানে ইসলামি দল গুলো যেরকম অনুরোধ করছে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসতে, তখন কি সে রকম করতো? নাকি তাদের সুরও অন্যরকম হতো? জানতে মুঞ্চায়)। পোড়া-কপালী রোহিঙ্গারা ! আর কিছু হতে পারলোনা কেবল মুসলমান ছাড়া। এটাই তাদের যত কাল হলো।

রোহিঙ্গাদের জন্য কিছু করা কি আসলেই সম্ভব না? জাতিসঙ্ঘ কিংবা OIC সদস্যভুক্ত দেশ গুলা যদি এক হয়ে সবাই রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশে ভাগ করে নেয় তবে ত সকল সমস্যাই মিটে যেতো। এমন অনেক মুসলমান দেশ আছে যেখানে জনবসতির ঘনত্ব খুব কম, তারা একাই সকল রোহিঙ্গাদের নিয়ে যেতে পারে। তা না করে কেবল বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, কেনো? বাংলাদেশ নিজেরা অতি জনবহুল দেশ হয়েও তো ইতিমধ্যেই নিবন্ধিত ত্রিশ হাজারের (অনিবন্ধতের হিসাব নেই, লক্ষাধিক তো হবেই) অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে কি রোহিঙ্গা ইস্যু অন্য কোন কারনে ইচ্ছাকৃত ভাবেই দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে? নোংরা এ ধরণীতে অসম্ভব না কিছুই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাকে শত্রু ভাবছেন, সে হয়তো আপনার জীবনের একজন পথপ্রদর্শক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

গানঃ সামু একটি ছোট নৌকা
https://suno.com/s/ckWb25lfp1xBLIzc
==============



একটা পুরনো গল্প বলি। একটি বনে কিছু বাঁদর আর বেবুন বাস করতো। সেই বনের পাশেই একটি ভুট্টার ক্ষেত ছিলো। বাঁদর আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষার উপভাষা নয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩


বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে আসে নাই, এটা মেনে নিতে হবে। কারণ, ইতিহাসে আছে, ভারতবর্ষে আর্যদের আসার আগেও 'বঙ্গ' নামের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভূমি'র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×