somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিঝুম দ্বীপের আঙিনায় কয়েকজন যুবক (পর্বঃ১)

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক ভাষায় নতুন লেখক আমি। ভ্রমন করেছি ডজনখানেক। কিন্তু কখনো ভ্রমন কাহিনী লিখিনি। তাই লিখতে বসলাম। পাঠককুলের কাছে অনুরোধ, যদি কোন ভুল ত্রুটি চোখে পড়ে তাহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আমাদের একটি গ্রুপ আছে যারা ক্যাম্পাস এর ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা ফুসরত পেলেই বেরিয়ে পড়ি অজানার উদ্দেশ্যে। অজানা বলতে ঠিক একেবারে অজানা নয়। হয়তোবা শুনেছি কোন জায়গা সম্বন্ধে, তাই বেরিয়ে পড়লাম তার উদ্দেশ্যে।

পূর্বকথনঃ
হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকজন কৃতি ছাত্রের কৃতিত্বের কারনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল এবং সেই বন্ধের নাম দেয়া হল শীতকালীন ছুটি। তো যাই হোক, শীতকালীন ছুটি যেহেতু পাওয়া গেলো তখন আর হলে কিংবা ঘরে বসে থাকা তো আমাদের মত বেরাইজ্জার পক্ষে সম্ভব না। একই সময়ে আবার শুনলাম যিকো টুর এর আয়োজন করছে। ঠিক করা হল সেন্ট মার্টিন যাবো। কিন্তু বেশকয়েক বার সেন্ট মার্টিন যাওয়ার কারনে এই গন্তব্যখানায় যাওয়ার প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেল। পরবর্তীতে আবারো যিকোর প্রস্তাব নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার। একে তো জায়গাটি যেহেতু আমাদের সবার কাছেই নতুন, তার উপর শুনলাম ওখানে নাকি হরিণ গৃহপালিত(!!!) তাই সবাই হা ভোট দিল। ঠিক করলাম পুরোন বছরের শেষ দিন আর নতুন বছরের প্রথম দিন নিঝুম দ্বীপে কাটানোর ব্যাপারে।
এবার জানার পালা কিভাবে কিভাবে যাওয়া যায় এবং থাকা যায় তা। ফোন করলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জুনিওর সুব্রত কে । কারন ওর বাড়ি হাতিয়াতে (এতটুকু জানা ছিল যে নিঝুম দ্বীপ যেতে হলে হাতিয়া হয়ে যেতে হবে।) ও আমাদের পথ বাতলে দিল কিভাবে যাওয়া যায়, সাথে দিল ওর দাদার (মিল্টন দা) এর ফোন নাম্বার।
দেখতে দেখতে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এল। যাওয়ার আগের দিনের ঘটনা, হঠাৎ করে শুনলাম আমাদের নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার টীম মেম্বার ১০ জন থেকে ৬ জনে ঠেকেছে। শুনে তো মাথায় হাত। এখন কি করার। ঠিক আছে... সাত জনেই যাব। এদিকে আবার আমার ক্যামেরা যাতে আমার সাথে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার পর কোনরকম বাটাপারি করতে না পারে তাই যাওয়ার আগে সাড়ে নয়শ টাকা দিয়ে নুতন একসেট ব্যাটারী কিনে নিলাম আগের এক সেট তো আছেই। বিকাল পাঁচটায় সঞ্জিব ফোন দিল যে আমাদের নিঝুম দ্বীপের টিম মেম্বার আরো একজন কমেছে। অর্থাৎ ছয় জন। আমি বললাম কোন ব্যাপার না, দরকার হয় তুই আর আমি একেলা যাব। এদিকে আমরা ঠিক করলাম সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে যে স্টিমারটি ছেড়ে যায় তাতে করে আমরা সোজা হাতিয়া চলে যাব অথবা চট্টগ্রামের অলঙ্কারের মোর হতে বাস ছাড়ে নোয়াখালী সোনাপুর পর্যন্ত। তারপর সোনা পুর হতে আবার সিএনজিতে করে চেয়ারম্যান ঘাট। এরপর লঞ্চে হাতিয়া যাব। তারপর সেখানে একদিন থেকে পরের দিন নিঝুম দ্বীপ। শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠা এমনিতেই কষ্ট, তার উপর বন্ধ হলে তো কথাই নেই, তাই হল থেকে সিউল আর একরাম কে আমার বাসায় চলে আসতে বললাম। সন্ধ্যা সাতটায় যিকো ফোন করে বললো সে যাবে না। কারন ঐ সময় নাকি হাতিয়ার জলপথে জলদস্যুদের দৌরাত্য খুব বেশী থাকে। তাই তার বাবা বাসা থেকে তাকে যেতে দিচ্ছে না। আর জাহিদের নাকি কি পারিবারিক অনুষ্ঠান। তো কি আর করার, সঞ্জীবকে ফোন দিলাম। সঞ্জীবের বক্তব্য এমন "দোস্ত মেজাজ খারাপ হয়া যাইতেসে, চল কেউ না গেলে আমরা চার জন যাব। একবার যখন বলসি যাব তখন যাই হোক যাবই যাব। " তো যা কথা, তাই কাজ ঠিক হল পরের দিন সকালে আমরা সদরঘাট হতে স্টিমারে করে হাতিয়া যাব।
এই চিন্তা করে রাতে ঘুমাতে গেলাম...
কিন্তু তখনো পর্যন্ত কল্পনা করতে পারিনি পরবর্তী দিন আমাদের জন্যে কি অপেক্ষা করছিল।

(চলবে)


সাফিউল
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:৫০
১২টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×