আমাদের একটি গ্রুপ আছে যারা ক্যাম্পাস এর ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা ফুসরত পেলেই বেরিয়ে পড়ি অজানার উদ্দেশ্যে। অজানা বলতে ঠিক একেবারে অজানা নয়। হয়তোবা শুনেছি কোন জায়গা সম্বন্ধে, তাই বেরিয়ে পড়লাম তার উদ্দেশ্যে।
পূর্বকথনঃ
হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকজন কৃতি ছাত্রের কৃতিত্বের কারনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল এবং সেই বন্ধের নাম দেয়া হল শীতকালীন ছুটি। তো যাই হোক, শীতকালীন ছুটি যেহেতু পাওয়া গেলো তখন আর হলে কিংবা ঘরে বসে থাকা তো আমাদের মত বেরাইজ্জার পক্ষে সম্ভব না। একই সময়ে আবার শুনলাম যিকো টুর এর আয়োজন করছে। ঠিক করা হল সেন্ট মার্টিন যাবো। কিন্তু বেশকয়েক বার সেন্ট মার্টিন যাওয়ার কারনে এই গন্তব্যখানায় যাওয়ার প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেল। পরবর্তীতে আবারো যিকোর প্রস্তাব নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার। একে তো জায়গাটি যেহেতু আমাদের সবার কাছেই নতুন, তার উপর শুনলাম ওখানে নাকি হরিণ গৃহপালিত(!!!) তাই সবাই হা ভোট দিল। ঠিক করলাম পুরোন বছরের শেষ দিন আর নতুন বছরের প্রথম দিন নিঝুম দ্বীপে কাটানোর ব্যাপারে।
এবার জানার পালা কিভাবে কিভাবে যাওয়া যায় এবং থাকা যায় তা। ফোন করলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জুনিওর সুব্রত কে । কারন ওর বাড়ি হাতিয়াতে (এতটুকু জানা ছিল যে নিঝুম দ্বীপ যেতে হলে হাতিয়া হয়ে যেতে হবে।) ও আমাদের পথ বাতলে দিল কিভাবে যাওয়া যায়, সাথে দিল ওর দাদার (মিল্টন দা) এর ফোন নাম্বার।
দেখতে দেখতে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এল। যাওয়ার আগের দিনের ঘটনা, হঠাৎ করে শুনলাম আমাদের নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার টীম মেম্বার ১০ জন থেকে ৬ জনে ঠেকেছে। শুনে তো মাথায় হাত। এখন কি করার। ঠিক আছে... সাত জনেই যাব। এদিকে আবার আমার ক্যামেরা যাতে আমার সাথে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার পর কোনরকম বাটাপারি করতে না পারে তাই যাওয়ার আগে সাড়ে নয়শ টাকা দিয়ে নুতন একসেট ব্যাটারী কিনে নিলাম আগের এক সেট তো আছেই। বিকাল পাঁচটায় সঞ্জিব ফোন দিল যে আমাদের নিঝুম দ্বীপের টিম মেম্বার আরো একজন কমেছে। অর্থাৎ ছয় জন। আমি বললাম কোন ব্যাপার না, দরকার হয় তুই আর আমি একেলা যাব। এদিকে আমরা ঠিক করলাম সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে যে স্টিমারটি ছেড়ে যায় তাতে করে আমরা সোজা হাতিয়া চলে যাব অথবা চট্টগ্রামের অলঙ্কারের মোর হতে বাস ছাড়ে নোয়াখালী সোনাপুর পর্যন্ত। তারপর সোনা পুর হতে আবার সিএনজিতে করে চেয়ারম্যান ঘাট। এরপর লঞ্চে হাতিয়া যাব। তারপর সেখানে একদিন থেকে পরের দিন নিঝুম দ্বীপ। শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠা এমনিতেই কষ্ট, তার উপর বন্ধ হলে তো কথাই নেই, তাই হল থেকে সিউল আর একরাম কে আমার বাসায় চলে আসতে বললাম। সন্ধ্যা সাতটায় যিকো ফোন করে বললো সে যাবে না। কারন ঐ সময় নাকি হাতিয়ার জলপথে জলদস্যুদের দৌরাত্য খুব বেশী থাকে। তাই তার বাবা বাসা থেকে তাকে যেতে দিচ্ছে না। আর জাহিদের নাকি কি পারিবারিক অনুষ্ঠান। তো কি আর করার, সঞ্জীবকে ফোন দিলাম। সঞ্জীবের বক্তব্য এমন "দোস্ত মেজাজ খারাপ হয়া যাইতেসে, চল কেউ না গেলে আমরা চার জন যাব। একবার যখন বলসি যাব তখন যাই হোক যাবই যাব। " তো যা কথা, তাই কাজ ঠিক হল পরের দিন সকালে আমরা সদরঘাট হতে স্টিমারে করে হাতিয়া যাব।
এই চিন্তা করে রাতে ঘুমাতে গেলাম...
কিন্তু তখনো পর্যন্ত কল্পনা করতে পারিনি পরবর্তী দিন আমাদের জন্যে কি অপেক্ষা করছিল।
(চলবে)
সাফিউল
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


