ইলিশের দেশ বরিশালে এখন ইলিশ নেই। হাজার হাজার জেলে অলস দিন কাটাচ্ছে। বেকার হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মৎস্য ব্যবসায়ী। নগরীর মৎস্য কেন্দ্র পোর্ট রোড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে শত শত ট্রলার পাশর্্ববর্তী খালে পড়ে আছে। 125টি আড়ৎ কর্মহীন। কোন মাছের আমদানী নেই। জেলেরা জানিয়েছে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত ইলিশ ধরার মৌসুম হলেও এই আকালের দিনে তারা জাটকা ইলিশ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু এ বছর কোষ্টগার্ড কড়াকড়ি হওয়ায় মৎস্য শিকার বন্ধ। নৌবাহিনী শুধু জালে নয় এবার ডাঙ্গায় উঠেছে। পকাল পূর্বে তারা নগরীর পোর্ট রোড আড়তগুলোতে অভিযান চালিয়ে শত শত মণ জাটকা আটক করে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে নিলামে বিক্রি করে। বরিশালের ইতিহাসে মৎস্য আড়তে নৌবাহিনীর এটাই ছিল প্রথম অভিযান। এরপর থেকেই মুলতঃ আড়তগুলো অচল। মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির লোকজন জানিয়েছেন, প্রায় 3 হাজার শ্রমিক এখন বেকার। তাদের হাতে কোন কাজ নেই। ভর মৌসুমে তিনশত মণ মাছ আমদানী হতো। তখন বিক্রি হতো মণ প্রতি 5 হাজার টাকা দরে। আর বর্তমানে ছোট ইলিশ বা জাটকা আমদানী হয় প্রায় একশত মণ। বিক্রি হয় 3 হাজার টাকা দরে। কিন্তু গত 15 দিনে বেচা-বিক্রি বন্ধ। আড়তদাররা জানিয়েছে তারা শুধু ভর মৌসুম নয় এই জাটকা মৌসুমেও জেলেদের কোটি কোটি টাকা দাদন দিয়ে মাথায় হাত পড়েছে। তারা জেলেদের কিছু বলতে পারছে না। সবাই নিরুপায়। ঘাটে কথা হয় শ্রমিক সর্দার আব্দুল খালেকের সাথে তিনি জানান, একএক জন শ্রমিকের উপর নির্ভর করছে 5/6 সদস্যের একএকটি পরিবার। তাদের এখন না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। গকুল চন্দ্র দাস নামের এক ব্যবসায়ী জানান, এখান থেকে ইলিশ উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যেত। এখন বরিশালের মোকাম বন্ধ হওয়ায় মাছ যাচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে। তার অভিযোগ ঢাকা, চট্টগ্রামে জাটকা বিক্রি হচ্ছে। সে ব্যাপারে কারো মাথা ব্যথা নেই। এক দেশে দ্বৈত নিয়ম হতে পারে না। ব্যবসায়ীরা জানান, এখন বঙ্গোপসাগর থেকে সরাসরি মাছ ঢাকা-চট্টগ্রামে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে অচল হয়ে পড়েছে বরিশাল মোকাম। এ অচলাবস্থা কাটাতে এখানের মৎস্য ব্যবসায়ীরা আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। কিন্তু সরকারী নিয়ম অনুযায়ী 9 ইঞ্চির ছোট ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞার যে আইন বলবৎ রয়েছে তার বিরুদ্ধে মৎস্য ব্যবসায়ীদের আন্দোলন কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


