বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নশীল দেশ। আর এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যখন দেখি আমার চিরচেনা গ্রামগুলো কিভাবে আমার চোখের সামনে বদলে যাচ্ছে। আমার নানির বাড়ি গাজীপুর জেলার সফিপুরে। ওখানকার অবস্থা যে কি হয়েছে তা ঐ এলাকার লোকজনই ভাল বলতে পারবে। ইটের ভাঁটা, কল-কারখানার বর্জ্য, নোংরা পানি--- যাচ্ছেতাই অবস্থা। আগে ঢাকা থেকে নানু বাড়ি বেড়াতে যেতাম একটু প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য। আর এখন ওখানে গেলে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে মারা যাব। ঢাকার আশেপাশে অনেক জায়গাতেই এখন এমন অবস্থা। আমি শিল্পায়নের বিপক্ষে নই, তবে সবকিছু হতে হবে পরিকল্পনামাফিক। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার এই যে এই অনিয়মের দেশে পরিবেশ রক্ষার আশা করা যেন একটু বেশি বেশিই...
এখানে ভারতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কথা বলতে হচ্ছেঃ
দূষণ-সমস্যায় জেরবার শিল্পনগরী দুর্গাপুরকে দূষণ-রোধের পথ দেখাল একটি বেসরকারি ইস্পাত প্রস্তুতকারক কারখানা। পথটা নতুন না হলেও সময়োপোযোগী তো বটেই।
কারখানা থেকে নির্গত গরম গ্যাসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র তৈরি হেয়ছে দুর্গাপুরের হলদিয়া স্টিল লিমিটেডে। দুর্গাপুরের মেয়র রথীন রায় বলেছেন, “এই শিল্পাঞ্চলে দূষণ এক ভয়ঙ্কর নাগরিক সমস্যা। সেখানে এই ধরনের উদ্যোগ দূষণ অনেকটাই প্রশমিত করবে। গরম গ্যাসকে ব্যবহার করে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র দুর্গাপুরে এই প্রথম নির্মাণ হল। অন্যান্য কারখানার কর্তৃপক্ষেরাও নিজস্ব কর্মক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে দুর্গাপুরে দূষণের মাত্রা কমবে।”
দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারে ‘পরিচ্ছন্ন সবুজ পৃথিবী’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করে হলদিয়া স্টিল লিমিটেড। কারখানার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিকাশ বনশল জানান, প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে আট মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই ‘ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট’ তৈরির জন্য। প্রায় তিন একর জমির উপর নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মসংস্থান হবে ১০৬ জনের। চলতি মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, কারখানার ভিতরে ‘স্পঞ্জ আয়রন কিলিন’ বিভাগ থেকে ক্রমাগত গরম গ্যাস নির্গত হয় ৯৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তাপে। সেই গ্যাসের মধ্যে রয়েছে সালফার ডাই অক্সাইড এবং কোল গ্যাসের মত একাধিক রাসায়নিক পদার্থ। এত দিন এই গরম গ্যাসকে জল ছিটিয়ে আংশিক ঠাণ্ডা করে ইলেকেট্রা স্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর (ইএসপি)-এর মাধ্যমে আকাশে ছাড়া হত। যা পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক ছিল বলে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদ কারখানা কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করেছিল। এ বার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রটি তৈরি হওয়ায় ‘স্পঞ্জ আয়রন কিলিন’ বিভাগ থেকে বের হওয়া সমস্ত গরম গ্যাস ব্যবহার করা হবে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে। ফলে দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমবে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, কারখানার চারপাশের প্রায় দশ কিলোমিটার এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন এই উদ্যোগের ফলে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত জলের ব্যবহার হ্রাস পাবে উল্লেখযোগ্য হারে। ডিপিএলের বিদ্যুতের চাহিদার উপর নির্ভরশীলতাও অনেকটা কমবে। কারখানার মধ্যে রাস্তার আলো জ্বালানোর জন্য ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে।
তথ্যসূত্র: http://www.anandabazar.com/11jibjagat2.htm
আমাদের দেশে যদি এমন একটি উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে মনে হয় মন্দ হত না। তবে এই পদ্ধতির একটি সমস্যা হচ্ছে এটা খুব একটা efficient না(মাত্র ৮ মেগাওয়াট, উপরে উল্লিখিত)। তবে অনেকগুলো কারখানার বর্জ্য গ্যাস যদি একত্রিত করে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র তৈরি করা গেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ একদিকে যেমন দেশের কাজে লাগবে, তেমনি পরিবেশ দূষণও অনেকাংশে রোধ করা যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


