somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তরিকত কি ও কেন পীরের কাছে যাব? ( পর্ব-১ )

২১ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তরিকত হচ্ছে আল্লাহকে পাওয়ার একটি সহজ পথ। বিশেষ করে কাদেরীয়া, চিশতিয়া,নকশবন্দিয়া,মুজাদ্দেদীয়া প্রভ্বতি তরিকত বিশ্বমাঝে প্রচলিত,পরিচিত ও সমাদৃত। সকল তরিকতের ইমাম বা পীরগনের উদ্দেশ্য হলো তাদের নিজ নিজ মুরিদদের উপযুক্তভাবে গডেতুলে আল্লাহপাক রাব্বুলআলামীন ও হুজুরপাক(সঃ) কাছে সমর্পিত করা। সেজন্য তরিকতের ইমামগন রেয়াজত বা সাধনার মাধ্যমে অর্জিত বেলাইয়তের শক্তির বলে কিভাবে কোন উপায়ে সাধনা করলে আল্লাহপাক রাব্বুলআলামীন ও হুজুরপাক(সঃ) নৈকট্য লাভ করা সহজ হবে, তা আল্লাহপাক রাব্বুলআলামীন ও হুজুরপাক(সঃ) পক্ষ থেকে নির্দেশ বা এলহাম প্রাপ্ত হয়ে কিছু দোয়া,দরুদ,নফল নামাজ,জিকির-আজকার ইত্যাদি সংযুক্ত করে তরিকতের সংবিধান প্রণয়ন করেন এবং ওই ভাবেই মুরিদদের দোয়া,দরুদ,নফল নামাজ,জিকির-আজকার আদায় করার জন্য নির্দেশ দান করা হয়।
ভিন্ন ভিন্ন তরিকতের ভিন্ন ভিন্ন সংবিধান। কাদেরীয়া, চিশতিয়া,নকশবন্দিয়া,মুজাদ্দেদীয়া ছাডাও আরও যতগুলো তরিকত রয়েছে সব তরিকতই হক্ক। সকল তরিকতের মাধ্যমে যথানিয়মে সাধনা করে গেলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।
কিন্তু এরপরও মাঝে মাঝে এমন কতগুলো দুর্ল্ভ রকমের তরিকতের খবর পাওয়া যায়, যেগুলির সাথে কোরআন, হাদিস ও বিজ্ঞানের সাথে ঘনিস্টতা থাকে। তেমনি এক তরিকত হচ্ছে কাদেরিয়া আলীয়া মুনিরীয়া তরিকত। যে তরিকতের অন্যতম ইমাম হযরত ছৈয়্যদ আব্দুল বারী (রহঃ) আল্লাহর দরবারে অনেক রেয়াজত বা সাধনার পর আল্লাহ তায়ালা ও তরিকতের মূল ইমামগনের পক্ষ থেকে এজাজত প্রাপ্ত হয়ে মুজাদ্দেদীয়া তরিকার "ইন্দিরাজুন নেহায়া ফিল্‌ বেদায়া" (অর্থাৎ-তরিকতের শেষ ছবককে প্রথমে নিয়া আসা) পদ্দতিকে কাদেরিয়া ও আরো অন্যান্য তরিকতে প্রচলন করেন। "তাওয়াজ্জুহ্‌ ও ইন্দিরাজুন নেহায়া ফিল্‌ বেদায়া বিশিস্ট এই তরিকত বর্তমানে নিখুঁতভাবে সকল বৈশিস্টের আলোকে পরিচালিত হচ্ছে কাগতিয়ার মহান মোর্শেদ হযরত শায়খ গাউছুল আজম মাদ্দাজিলুহুল আলী সাহেব এর রাউজান থানার কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে।
কাদেরিয়া আলীয়া মুনিরীয়া তরিকতের বৈশিস্ট্যগুলো আলোচনা করার পূর্বে, পীর গ্রহণ বা কেমন পীর গ্রহণ করতে হবে সেই প্রসঙ্গে দু"চার কথা বলা ্সমাচীন বলে মনে করি।
উপযুক্ত এবং হক্কানী পীর গ্রহণের নির্দেশ পবিত্র কোরআন,হাদিছ এমনকি আউলিয়ায়ে কেরামের বিভিন্ন বই পুস্তকের মাধ্যমেও সুস্পস্টভাবে প্রমানিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "হে ইমানদারগন তোমরা আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভ করার জন্য উসিলা অনুস্নদান কর।" (সুরা-মায়েদা) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তফসীরে রুহুল বয়ানে উল্লেখ আছে, উসিলা ব্যতীত আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভ করা যায়না, আর উক্ত উসিলা হচ্ছেন হাকিকত বা তরিকতপন্হী আলেম বা পীরগন। হাদিছ শরীফে আছে শায়খ(পীর সাহেব) তাঁর কওমের মধ্যে তদ্রুপ,যেরুপ নবী(সঃ) তাঁর উম্মতের মধ্যে।(দায়লমি,মকতুবাত শরীফ)।
হযরত ইমাম আবু হানীফা(রহঃ) বলেন "আমার জীবনে যদি দুটি বছর না হত, তবে নোমান(আবু হানীফা) ধ্বংস হয়ে যেতাম" অর্থাৎ, আমি আবু হানিফা যদি আমার পীর হযরত ইমাম বাকের ও ইমাম জাফর সাদিক(রাঃ) এর নিকট বাইয়াত না হতাম তবে (শয়তানি প্ররোচনায়) ধ্বংস বা বিভ্রান্ত হয়ে যেতাম। অনুরূপভাবে, হযরত আবদুল কাদের জিলানী(রাঃ) সির্‌রুল আসরার ও ফাতহুর রব্বানী, হযরত ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) কিমিয়ায়ে সাদাত, হযরত মুজাদ্দিদে আল্‌ফেসানি (রহঃ) মকতুবাত শরীফ ও হযরত আহ্‌মদ কবীর রেফাইয়ী(রহঃ) আল বুনিয়ানুল মুশাইয়্যদ কিতাবে ক্ব্লব পরিশুদ্দ করার জন্য বা ইলমে তাসাউফ অর্জনের জন্য কামিল পীরের নিকট বাইয়াত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।


(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:০৪
৩২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×