আমাদের দেশের মেয়েদের গায়ের রং কোনোকালেই শ্যামলা/কালো ছাড়া অন্য কোন টাইপ ছিল না। ০০০০০০০০১% মেয়ে যারা ফর্সা তাদের আদিপিতা বঙ্গদেশের না, তারা বার্মা, কাশ্মীর, পার্সিয়ান, পর্তুগিজ, পাকিস্তান এইসব দেশ থেকে এই দেশে মাইগ্রান্ট হইসেন। কালো বা শ্যামলা হওয়া দোষের কিছু না, দোষ তখনি যখন কালো না ফর্সা এইটার ভিত্তিতে যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়। আমরা যতই রাখঢাক করি না কেন, বর্ণবাদ প্রথা আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে, এর উপর হঠাৎ বিদেশী কিছু কোম্পানী, টিভি চ্যানেল এসে মেয়েদের বোঝাতে শুরু করলো তাকে ফর্সা হতে হবে,না হয় কেও ফিরেও তাকাবেনা। ছেলেদের মাথাতেও এটি ঢুকানো হলো যে শ্যামলা/কালো মেয়েদের উপর ক্র্যাশ খাওয়া তেমন একটা ক্লাসসি ব্যাপার না।
আমাদের বাচ্চারা সারা জীবন মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হইসে। হঠাৎ কিছু বিদেশী কোম্পানী এসে আমাদের আম্মুদের বোঝাতে শুরু করসে ল্যাকটোজেন না খেলে নাকি বাচ্চার বিকাশ হবেনা, হরলিক্স না খেলে নাকি বাচ্চার বুদ্ধি হবেনা, কমপ্লেইন না খেলে নাকি বাচ্চা লম্বা হবেনা। আর মায়েরাও তা মেনে নিলেন। মায়ের বুকের দুধ খেলে মায়েদের ফিগার নষ্ট হয়ে যাবে তাই তারা এখন কৌটার দুধ কিনছে, ডিজিটাল যুগ বলে কথা কারণ এখন ‘‘ফর্সা না কালো এটির সাথে ফিগার ও গুরুত্বপূর্ণ"
আমরা আজীবন তিন বেলা ভাত খাইসি। অথচ বিদেশী খাবারের কোম্পানীগুলো এসে আমাদের বোঝাতে শুরু করলো যে সকালে ভাত খায় চাষাভূষারা, 'স্মার্ট' মানুষ খায় ওদের কোম্পানীর কোনফ্লেক্স, চীজ,বিস্কুট ও চা।হুজুগিয়া বাঙালী স্মার্ট হবার অসার দৌড়ে নেমে পড়লাম, ফেসবুকে অতিরঞ্জিত হয়ে শোঅফ করতে থাকলাম। কর্পোরেট রাঘব-বোয়ালরা আমাদের আবেগ,অজ্ঞতাকে পুঁজি করে আমাদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছে; আর আমরা নিজেদের মনে করছি
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৮ রাত ৩:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



