
স্বাস্হ্যসেবা নাকি গরিবদের পকেট কাটা?
লেখাপড়া শিখে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সরকারি আমলা হয় জনমানুষের সেবা করার জন্য সে অবস্থায় জনগণের পকেট কাটলে সেবা হলো কীভাবে? চিকিৎসকরা হলো মানুষের পরম আত্মীয়। চিকিৎসা তাদের ধর্ম ও পেশা। ভালো সৎ মানুষ না হলে শিক্ষার মূল্য কোথায়? কোনো পেশার লোক মানুষকে ঠকানো উচিত নয়। তবুও অন্য পেশার লোক যদি অনিয়ম দুর্নীতি করে কিন্তু চিকিৎসকদের করা উচিত নয়, তাদের পেশা মহৎ পেশা। জনমানুষের সেবা করা ডাক্তাদের মূল কাজ। টাকা কামানো মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় চিকিৎসকদের।
রাজধানীতে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই এক হাজার টাকা বা তার বেশি নেন রোগী দেখার ফি বাবদ। নামিদামি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাঁরা বসেন তাঁদের ফি ১২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
ঢাকার বাইরেও অনেক চিকিৎসকই এখন ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত ফি নেন। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীরা প্রথমেই রোগীরা চিন্তায় পড়ে চিকিৎসকের ফি নিয়ে।
এটা খুবই উদ্বেগজনক।
ফি বেশি হওয়ায় বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের চিকিৎসকরা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। তাঁদের ভরসা একমাত্র সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু বেশির ভাগ কর্মজীবী মানুষের পক্ষে কাজ ফেলে দিনের বেলা সরকারি হাসপাতালে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের জন্য রোগী দেখার ফির কোনো হার নির্ধারণ করে না দেওয়ায় যে যার খুশিমতো ফি নিয়ে থাকেন বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে চিকিৎসকরাও একাট্টা হয়ে ফি নির্ধারণে আপত্তি তুলছেন।
তাঁদের অজুহাত, অন্য পেশার ক্ষেত্রেও তো ফি নির্ধারণ করা নেই।
অন্য পেশা আর চিকিৎসাসেবা পেশাকে এক পাল্লায় দেখা যাবে না। কারণ চিকিৎসা সেবা একটি মহৎ কাজ।
সরকারী হসটিতালে মানুষ যতটুকু পারছে সুবিধা নিচ্ছে। একটা কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা বাংলাদেশ একটি মাধ্যম আয়ের দেশ, এ দেশে জনসংখ্যার বেশিরভাগ মানুষয়ি দিনে আনে দিনে খায় এমন টানাপোড়া অবস্হা। ধনী মানুষের সংখ্যা কম,যাদের একটা বিরাট অংশ আবার গরিবের রক্ত চুষে ধনী হয়েছে। আর রোগ ধনী গরিব সবারয়ি হয়। ধনীদের ভালো চিকিৎসা নিতে কোন সমস্যা নেই,তবে গরিবরা কি করবে? আমাদের দেশে একজন ডাক্তার একজন রোগীকে সর্বোচ্চ ৫/১০ মিনিট সময় দেয়। যদি খুব জটিল রোগী হয় তাহলে তার পেছনে হয়তো আর একটু সময় বেশি লাগে। কিন্তু ঐ ডাক্তারের নিকট স্মরণাপন্ন রোগীর শতকরা ৯৫ জনকেই ৫ মিনিট সময় দেয়। আর ৫ মিনিট সময়ের জন্যই সে ৬০০ কিংবা ১০০০ টাকা ভিজিট রাখে। যদি ৬০০ করেই ধরি তাহলে প্রতি ঘণ্টায় ৬০০০/- হাজার টাকা ইনকাম। একজন ডাক্তার যদি প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করেও চেম্বার করে (অনেক ডাক্তার তার চেয়ে অনেক বেশি করে) তাহলে তার প্রতিদিন ইনকাম হয় ৩৬,০০০/- হাজার টাকা। মাসে ১০,৮০,০০০০/- (দশ লক্ষ আশি হাজার টাকা) আর কত রকমের কমিশন যে আছে তার আর কে খবর রাখে।অবাক কাণ্ড।
একজন মানুষ তার পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় যদি খুব ভালো একটা এপার্টমেন্ট নিয়েও থাকে তাহলে তার ভাড়া ও খাবার খরচ সহ না হয় প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা খরচ হয় তবে তো মাসে তাকে ৩ লাখ টাকা ইনকাম করলেই চলে।
তাহলে ডাক্তারদের এতো অধিক ফি আদায় কি মানুষের উপর যুলুম নয়? কেউ কেউ যে ডাক্তারদের কসাই বলে তাহলে কি এক্ষেত্রে ঐ ভাষার ব্যবহারটি সঠিক নয়?
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান কেয়ার হাসপাতালে প্রসূতি ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা করেন অধ্যাপক ডা. পারভীন ফাতেমা। তিনি নতুন রোগীর কাছ থেকে ফি নেন ১২০০ টাকা। দ্বিতীয়বার দেখাতে গেলে নেন ৭০০ টাকা। তাঁর চেম্বারে গিয়ে সব রোগী ও স্বজনকে দেখেই বোঝা যায় তাঁরা ধনী পরিবারের লোক। নাম প্রকাশ করতে হলো প্রমাণের জন্য, “ডাক্তার ম্যাডাম (পারভীন ফাতেমা) প্রথমেই জানতে চান—‘টাকা আছে তো’।”
উওরার ১০ নম্বর সেক্টর ল্যাবএইড ও লুবানা হসপিতালে বসেন মেডিসিন ও বক্ষ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন, নতুন রোগীদের দেখার ভিসিট ১০০০,পরেরবার আসলে ৭০০ টাকা এখন হয়তো এটা বেড়েছে।
টংগী স্টেশন রোড শিশুদের ডাক্তার, ডাঃ মোঃ অানোয়ার হোসেন,ওনার শিশুদের দেখার প্রথম ভিজিট ১২০০ টাকা পরেরবারের ভিজিট ৮০০ টাকা
এমন বহু ডাক্তার আছে,বাকীদের নাম বলছিনা,যাদের সন্দেহ আছে তারা গিয়ে এসব ডাক্তারদের চেম্বার থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
প্রস্তাবিত খসড়া আইনের ১০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘(১) সরকার সময় সময় গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আদায়যোগ্য চার্জ বা ফিস এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ বা ফিস নির্ধারণ করিবে; (২) চিকিৎসকের ফিস বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আদায়যোগ্য চার্জ বা মূল্য বা ফিসের তালিকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা চেম্বারের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করিতে হইবে; (৩) চিকিৎসাসেবা বাবদ আদায়কৃত চার্জ বা মূল্য বা ফিসের রসিদ সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতা বা তাহার অভিভাবক বা তাহার প্রতিনিধিকে প্রদানপূর্বক উক্ত রসিদের অনুলিপি সংরক্ষণ করিতে হইবে।’
বেসরকারী চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সেবার মূল্য সরকার কতৃক নির্ধারণ করে দিতে হবে।
(৪)বিএমডিসি কে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে।প্রয়োজনে বিএমডিসি আইনকে আরো যুগপযোগী করে তুলতে হবে।রোগীর স্বজনদের কোন অভিযোগ থাকলে বিএমডিসিতে অভিযোগ জানাবেন এবং বিএমডিসি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।সকলে যেন অভিযোগ থাকলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে বিএমডিসিতে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত হন সে ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারণা চালাতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবা না ব্যবসা?
(৫)ডাক্তারদের দায়িত্ববান হতে হবে । ডাক্তার তৈরি করতে জাতি প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে। চিকিৎসকদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দেয়া বন্ধ করতে হবে। প্রাইভেট ডাক্তাররা মোটা অংকে ফিসের টাকা নেবেন অযথা টেস্ট দিয়ে রোগীদের টাকার থেকে কমিশন খাওয়া চলতে দেওয়া যাবেনা,এ ব্যাপারে আইন প্রণয়ন করতে হবে।
(৬) জটিল রোগীর জন্য ডাক্তারের চিকিৎসা সঠিক দিকে যাচ্ছে কিনা সে দিকে হসপিটাল প্রধান নজর রাখবে।
(৭) সরকারী হাসপাতাল গুলোতে শয্যা বাড়াতে হবে,জনবল নিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।
(৮)প্রত্যেকটা অপারেশন ভিডিও রের্কড করতে হবে,যাতে করে পরবর্তীতে জনগণের মনে কোন সন্দেহে না থাকে ডাক্তারদের অপারেশন নিয়ে। সমস্যা সৃষ্টি হলে ডাক্তারদের অপারেশনটা সঠিক কিনা সে ব্যাপারেও তদন্ত করা যাবে?
আমার এ ক্ষুদ্র মস্তিকে এ সমস্যা সমাধানের উপায় এগুলোর দিকেই ইংগিত করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



