“গ্রামের নওজোয়ান….
মিলিয়া বাউলা গান আর ঘাটু গান গাইতাম,
আগে কি সুন্দর কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”।
শাহ আব্দুল করিমের লেখা এই গান শোনেননি এমন লোকের সংখ্যা খুব কমই আছে। ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাউলের নিজের কন্ঠে গাওয়া গানটিও পাওয়া যায়। সুতরাং গানের সুর পরিবর্তন (সুর নিয়ে কথা বললে আবার তাল, লয়, ক্ষয় কি সব বলে বুঝি না। তাল তো ভাদ্র মাসের পাকা তাল আর লয় ক্ষয় করতে করতে গানই ক্ষয় হয়ে যায়।) হলেও কথা পরিবর্তন হয় কিভাবে তা আমার বোধগম্য নয়। আর কথা পরিবর্তন কতটা ভয়ংকর তা সবারই জানা আছে। তবে মোহন্তর মতে “গানের ছন্দে মন আনন্দে মাথা দোলাও তালে, বুঝলা না যে অন্তে মানুষ গায়কে কি বলে?” টাইপের শ্রোতাদের কাছে এসব হয়ত কোন ব্যাপারই না।
https://www.youtube.com/watch?v=S_oTAaqKdBY লিঙ্কটায় গিয়ে গানটা শুনে দেখেন। লক্ষ্য করেন, উনি গানটার মাঝের দিকে গাইছেন - জারি গান, বাউল গান আনন্দের তুফান!
যেখানে নিরক্ষর, নিলোর্ভী, গান লিখে জমি বেচা লোক অন্তর দিয়ে ভালবেসে, মস্তিষ্ক দিয়ে চিন্তা করে লিখেছিলেন – বাউলা গান, ঘাটু গান আনন্দের তুফান। আর আমাদের প্রজন্মের শিল্পীরা যাচ্ছে-তাই গেয়ে বাড়ি, গাড়ি করে ফেলছে!
হয়ত ভাবছেন শুনতে তো ভালই লাগল গানটা। ঠিকই বলেছেন। কিন্তু বলছি সমস্যা কোথায় হয়েছে।
জারি গান - ফার্সি জারি শব্দের অর্থ শোক। মুহাররম মাসে কারবালার বিয়োগান্তক কাহিনীর স্মরণে মূলত এই গানের উদ্ভব। ১৭শ শতক থেকে বাংলায় এই গানের ধারা শুরু হয়। - উইকিপিডিয়া।
তাহলে কিভাবে জারি গান আনন্দের তুফান হয়?
তবু্ওতো বাড়ি, গাড়ি হল আর তোর কি হইছে? আমি আবার এসব কথা শুনে অভ্যস্থ হয়ে যাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




