একটা জিনিস আমরা প্রায়ই ভুল করে থাকি আর তা হলো আমাদের কিছু হলেই আমরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলি। অশিক্ষিত সমাজ ই শুধু নয় অনেক শিক্ষিত সমাজ ও এ কাজটি করে ফেলেন।পাকামোটা আমরা প্রায়ই করে থাকি। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এটা যে কত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে, তা নিয়ে একবারও কি আমরা খতিয়ে দেখি। কিছুদিন পর পর অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। কারণ শরীরে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ঢুকলে ব্যাক্টেরিয়াগুলো ক্রমশ বুঝতে পারে কীভাবে তাকে মোকাবিলা করতে হবে। ফলে তারা দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে দেহে বাড়তে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে কমে যায় অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করার ক্ষমতা। তখন আরও কড়া ওষুধ দেয়ার দরকার হয়। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক থেকে যে শুধু শরীরের খারাপ ব্যাক্টেরিয়াগুলো মরে যায় তা নয়, রোগ প্রতিরোধের জন্য রক্তে মজুদ থাকা ভালো ব্যাক্টেরিয়াও মরে যায়। এ ব্যাক্টেরিয়া শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তেও সাহায্য করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমশ কমে যেতে থাকে।
সর্দি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়লে, জ্বর, জ্বর ভাব, ব্যস অমনি শুরু করে দেয়া হয় অ্যান্টিবায়োটিক। শরীরের উপরের অংশের শ্বাসজনিত (নাক ও গলা) অধিকাংশ রোগ যেমন- কাশি, হাঁপানি, সর্দি, ভাইরাসের জন্য হয়। সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। ভাইরাস ইনফেকশন সারাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই।
অনেক অ্যান্টিবায়োটিকে আমাদের অ্যালার্জি থাকতে পারে। না জেনে দোকান থেকে ওষুধ কিনে খেলে যদি তা শরীরে সহ্য না হয়, তার প্রভাব কিন্তু মারাত্মক হতে পারে। এমনকি স্টমাক ওয়াশও করতে হতে পারে। ত্বকের অ্যালার্জি হলে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
অল্প অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে কোনো বড় রোগের জন্য তা তুলে রেখে দিন। ধরুন কারও ব্যাক্টেরিয়াল মেনেনজাইটিস, চেস্ট ইনফেকশন, সিভিয়ার ডায়রিয়ার মতো কোনো অসুখ হলে তখন অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া গতি নেই। তাই আগে থেকেই বেশি অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেললে, বড় অসুখের সময় ওষুধের গ্র“প বাছতে চিকিৎসককে হিমশিম খেতে হবে। চিকিৎসাতে বিলম্ব ঘটলে তা কখনও কখনও প্রাণঘাতীও হতে পারে।
যা করবেন না
* সর্দি, কাশি, রাইনাইটিস, ফ্লু-এর মতো ভাইরাসজনিত রোগে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
* চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিতে না চাইলে জোর করে খাবেন না।
* অ্যান্টিবায়োটিকের যে ডোজ যেভাবে নির্দিষ্ট রয়েছে, তা পুরোটা শেষ করুন। ইচ্ছা মতো খাবেন না, তাহলে কাজ করবে না।
আর সব অ্যন্টিবায়োটিকের কাজ সমান নয় তাই শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা সেবন করা উচিত।
শুধু মাত্র সচেতনতা বাড়ানোর জন্যযই এই পোস্ট। এছাড়া কোনো কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। ফেসবুকে আমি https://m.facebook.com/saiful329। ধন্যযবাদ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



