বিপদ কখনো বলে কয়ে আসে না। হঠাৎ এক্সিডেন্ট অথবা কোনো দুরারোগ্য ব্যাধি তে এক ব্যাগ রক্ত মানুষএর জীবন বাচানোর কারন হয়ে দাড়ায়। আমাদের দেশে এখনো অনেক শিশু জন্ম নেয় যাদের বাচার জন্য নিয়মিত রক্তের দরকার হয়। কেউ কি ভেবে দেখেছেন এই রক্ত কোথা থেকে আসে। এখন হইত আপনার ভাবার দরকার নেই কিন্তু আপনার যখন প্রয়োজন হবে তখনো আপনার মতো অন্য কেউ আপনার জন্য ভাববে না। আপনি অথবা আপনার প্রিয়জন এভাবেই আপনারি সামনে মারা যাবে। তাই আমার আপনার একটু ভাবনা বাচিয়ে দিতে পারে অনেকের জীবন। বাংলাদেশ এ এখনো অনেকে সেচ্ছাই রক্ত দিচ্ছে এই অসুস্থ মানুষ গুলোর জন্য কিন্তু সেটা পরিমানের তুলনায় অনেক নগন্য। তারা যদি সেচ্চায় রক্ত দিতে পারে তবে আমি আপনি কেন পারব না। আমি আর আপনি যদি দেই তাহলে আমি এতটুকু বলতে পারি যে বাংলাদেশের কোন মানুষ অন্তত রক্তের কারনে মারা যাবে না। রক্ত দিলে যে শুধু রোগীর উপকার তা নয় আপনার নিজের ও উপকার তাতে।
রক্তদানের উপকারিতাঃ-
১. রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কারণ রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকা জন্ম হয়ে এই ঘাটতি পূরণ করে। আর বছরে ৩ বার রক্তদানকারীর শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে দেয়।
২. রক্তদানের মাধ্যমে নিজেকে সুস্থ রাখার স্পৃহা জন্মে।
৩. নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে বিনা খরচে জানা যায় নিজের শরীরে বড় কোনো রোগ আছে কিনা। যেমন : হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।
৪.সম্প্রতি ইংল্যান্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী জটিল বা দুরারোগ্য রোগ-ব্যাধি থেকে প্রায়ই মুক্ত থাকেন।
৫. নিয়মিত রক্তদানকারীর হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কম ।
৬. মুমূর্ষু মানুষকে রক্তদান করে আপনি পাচ্ছেন মানসিক তৃপ্তি। কারণ, এত বড় দান যা আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
৭. রক্তদান ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত পুণ্যের বা সওয়াবের কাজ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নং আয়াতে আছে, ‘একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ।’
রক্তদানের যোগ্যতাঃ-
১. ১৮-৬০ বছর বয়সী সব সুস্থ মানুষ রক্তদান করতে পারেন।
২. ৪৫ কেজির বেশি ওজনের সব মানুষই রক্তদান করতে পারেন।
৩. যিনি গত ৪ মাসের মধ্যে রক্তদান করেননি তিনি রক্তদান করতে পারেন।
যখন রক্তদান করা যায়ঃ-
১. রক্তদান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনো সময় করা যায়।
২. ভরাপেটে খাওয়ার ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরে রক্ত দেয়া ভালো।
৩. খালি পেটে না দিয়ে হালকা খাবার খেয়ে রক্ত দেয়া ভালো।
রক্ত দেয়া নেয়ার অনেক সেচ্ছাসেবী সংঘটন কাজ করছে যারা রক্ত সংগ্রহ করে তা বিনামূল্য দুরারোগ্য রোগীদের কাছে পৌছে দেয়। চলুন না আপনি আমি অন্তত একবারের জন্য হলেও রক্ত দিয়ে আসি। এতে যেমন একজনের মুখে হাসি ফুটবে তেমনি এক মানসিক শান্তি ও পাওয়া যাবে।
রক্ত দান সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে কমেন্ট করতে পারেন। ফেসবুকে আমি https://m.facebook.com/saiful329। ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



