somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপরাধবোধ

২৫ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অপরাধবোধ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

উত্তরা বাইলজুরি যাত্রাবাড়ি নামক এক এলাকায় আমার শৈশব আর কৈশোর কাল অতিবাহিত করেছি। তখন ১৩ কিংবা ১৪ বছর হবে। আমার ইচ্ছে জাগলো কবুতর পালন করব। কারণ আমার ক্লাসমেট মামুন ও ওর বড় ভাই কবুতর পালন করত। তাদের কবুতর আকাশে উড়ানো ও পালন করতে দেখে আমার মনে মনে শখ জাগে। মামুন বখাটে টাইপের ছিল। ক্লাসে পড়া পারত না বা পড়ে আসত না! ক্লাসে স্যার কোন কিছু লিখতে দিলে ও লেখার সময় আমাদের পায়ের সাথে পা দিয়ে ঠেলা বা ধাক্কা দিত। যাতে তাকে লেখা দেখাই। ছোট কাল থেকে গাছ গাছালি বা প্রকৃতি প্রতি আমার খুব টান ছিল বা এখনো আছে। আমরা যে বাড়িতে থাকতাম সে বাড়ি ছিল দুই সারি বিশিষ্ট ও সামনে খোলা বারান্দা। এক সারিতে চারটার রুম ও আরেক সারিতে তিনটার রুম। আমরা দুই রুম নিয়ে থাকতাম। বাড়িটির রান্না ঘরের দক্ষিন পাশে ও গেট দিয়ে ডুকতে সামনে উত্তর পাশে একটু খালি জায়গা ছিল। তাতে আমি পুঁইশাকের ডাটা লাগাতাম। মা তরকারি কুটে ও বেছে যে অংশটা রয়ে যেত সেটা। তারপর ঘাসফুল, ঘৃতকুমারী, পাথরকুচি, পেঁপে, মরিচ ও বিভিন্ন গাছ রোপন করতাম। সকল বিকাল পানি দিতাম যত্ন নিতাম। এসব করে আমার খুব আনন্দ পেতাম। যে বাড়িতে থাকতাম তার পূর্ব পাশে খালি মাঠ ও মাঠে এক কোণে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই তেঁতুল গাছের নিচে আমরা বন্ধরা বিবিধ খেলা খেলতাম।

যাইহোক আসল কথায় আসি। তখন সবাই মাটির চুলায় রান্নার বান্না করত। আমার মা মাটির চুলায় রান্না করতেন। লাকড়ি বা খড়ি, জ্বালানি কাঠ বিভিন্নভাবে সংগ্রহ বা কিনে আনতাম। আমার মেজো ভাই তখন সবজির ব্যবসা করতেন। তখন টমেটো দিয়ে কাঠের বাক্সে ভরা থাকত। কাওরান বাজার থেকে পাইকারি কিনে আনতেন। এই টমেটোর বাক্স ভেঙে ভেঙে মাকে দিতাম মা তা দিয়ে রান্না করতেন আমাদের জন্য। আমরা মজা করে খেতাম আর তৃপ্তি পেতাম খুব! সেই টমেটোর বাক্সের কাঠ দিয়ে কবুতর এর দুই তলা বিশিষ্ট চার খোপ তৈরি করলাম। বাড়ির ভিতরে ডুকতে বাম পাশে বা পশ্চিম পাশে এবং বাড়ির চালের বাড়তি অংশে মোটা গুনা তার দিয়ে শক্ত করে বাঁধলাম। বড় ও মেজো ভাই হাত খরচের জন্য যে টাকা দিতেন সে টাকা জমিয়ে মাটির ব্যাংকে রাখতাম। সে মাটির ব্যাংক ভেঙে ও মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে একদিন চলে গেলাম টঙ্গী। সেদিন ছিল রবিবার কারণ রবিবার ছিল হাটের দিন। ঘুরে ঘুরে হাট থেকে এক জোড়া দেশি কবুতর কিনে বাড়ির নিয়ে আসি। আরো কিনে আনি কবুতর এর খাবার গম, ধান, ভুট্টা (ছোট ও ভাঙ্গা)। সহপাঠি মামুন থেকে আগে জেনেছি কবুতর এর বিভিন্ন বিষয়। নতুন কবুতর পালন করতে হলে খোপ চেনাতে হলে পাখাতে থেকে কিছু পালক ছিঁড়ে ফেলতে হয় বা ছাটাই করতে হয়।

শুরু হলো আমার নতুন পথ চলা। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে খোপ থেকে বের করে খাবার খাওয়াতাম। আয় আয় করে ডাকতাম। দুপুর, বিকাল নিয়ম করে চলছিল দেখাশোনা। সন্ধ্যায় আবার খোপে ডুকিয়ে দিতাম। দিন আমার ভালো যাচ্ছিল। দিনে দিনে কবুতর এর নতুন পালক গজায় ওরা উড়ে দূরে চলে যায় তখন খুব ভয় হয় আর যদি না ফিরে আসে। যখন ফিরে আসে তখন কী যে খুশি খুশি লাগে! একদিন মামুন এক জোড়া কবুতর দেয় আমাকে কবুতর জোড়া ছিল হালকা পাতলা কিন্তু ওরাই প্রথমে ডিম দেয় আর প্রথম জোড়া কবুতর ছিল রিষ্ট-পুষ্ট কিন্তু ওরা আর ডিম দিল না! যে কবুতর জোড়া ডিম দিল সে কবুতরের ডিম সরিয়ে মামুন গিরিবাজ কবুতরের ডিম দিয়ে গেল। গিরিবাজ ডিম ফুটে বের হল বাচ্চা কী সুন্দর! দিন দিন বেড়ে উঠছে ওরা। যখন বড় হল তখন মামুন বাচ্চা জোড়া নিয়ে গেল। কিছুই বলতে পারলাম না! কারণ ওরা ছিল স্থানীয় ও বখাটে। আমি কবুতর গুলোর দেখাশোনা করি আর বাচ্চা নিয়ে যায় সে তখন ভীষণ কষ্ট লাগে। এভাবে চলে যাচ্ছিল দিন আমার সুখে-দুখে!

একদিন অন্য রুমের এক পরিবার দুইটা মুরগি কিনে আনল, পালন করা জন্য। পালন ‍শুরু করে মুরগি দুইটা ঘুরে ঘুরে খাবার খায় বাসা চিনে ফেলে। মুরগিগুলো একটু একটু উড়তে পারত। গাছে গাছে ওঠে বসে থাকত। বাড়ির গেটের পাশে ছিল ওয়াল। গেট বেয়ে ওয়ালের উপর উঠে খোপে দরজা বন্ধ করতে হতো। একদিন সন্ধ্যার সময় কবুতর এর খোপ বন্ধ করতে গিয়ে দেখি কবুতর নেই। একটি মুরগি বসে আছে। মুরগিটা বের করে দেই এবং এদিকে সেদিক তাকিয়ে দেখি, কবুতরগুলো বাড়ির চালে বসে আছে। খোপে ডুকছে না। তখন ডেকে ডেকে কবুতর খোপে ডুকাই। এভাবে একটি মুরগি সমস্যা করছিল। আরেক দিন দুপুর বেলা কবুতরগুলো দেখতে গিয়ে দেখি ঐ মুরগিটি বসে আছে খুব রাগ হয় এবং তার গলায় ধরে উপর থেকে নিচের দিকে আছাড় দেই সাথে সাথে মুরগিটি ধাপড়াতে ধাপড়াতে মরে যায়। এরপর আমি কেউ দেখার আগে মুরগিটিকে তুলে নিয়ে কচু গাছের ঝোপে ফেলে দেই। কানাঘুষা শুনতে থাকি মুরগিটা গেল কই, কই হারালো, খুঁজে আর পেলো না। আমি মন খারাপ করে ভাবতে থাকি আল্লাহ কাছে কী জবাব দেব। তাই তারা আর মুরগি পালন করবে না। আরেকটি মুরগি দেখি মা কিনে নিলো ও পালা শুরু করল। একদিন একটি টিনের বালতির মধ্যে মুরগিটিকে রেখে ঢেকে রাখে সকালে উঠে দেখে মুরগিটি মরে পড়ে আছে। আমি মনে মনে ভাবলাম ঐ মুরগির মারার জন্য এই মুরগিটি আল্লাহ বদলা হিসেবে নিয়ে নিছে। ভাবলাম সেজন্য হয়ত আল্লাহ আমার অপরাধ ক্ষমা করেছেন। এই ঘটনার জন্য আমার সবসময় অপরাধবোধ কাজ করত। এখনও ভয় হয় যদি আল্লাহ আমার দোষ মাপ না করেন তাহলে তো আমি ক্ষতিগ্রস্তেদের অন্তরভুক্ত হয়ে গেলাম।

২৫.০৫.২০২৬
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:১০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি এবং এনসিপির মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্যি; বিএনপি ও এনসিপির সম্পর্কের ভেতরে এখন স্পষ্ট টানাপোড়েন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই বাড়ছে পারস্পরিক অস্বস্তি ও বাকযুদ্ধ। এনসিপির সাম্প্রতিক আচরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুদ্ধিমান হোন, সঠিক কাজটি করুন!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:০৮



দক্ষিন স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চল।

এপ্রিলের ১৫ তারিখে এক সপ্তাহের জন্য এসেছি; গ্রানাডা, কর্ডোবা আর মালাগার রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। লোকাল কুইজিনের স্বাদ নিচ্ছি। বিশ্বখ্যাত স্থানগুলো ঘুরে দেখছি............পুরাই চিল মুডে। এলাকাগুলোকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরবানি: তাকওয়া না লৌকিকতা?— একটি ব্যক্তিগত অনুভুতি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

শুরুতেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া ভালো, আমি কোনো ইসলামিক স্কলার নই। ধর্মতত্ত্ব বা শরিয়তের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো গভীর জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য কোনোটিই আমার নেই। আমি এ সমাজের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু মাকেই মনে পড়ে

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ২৫ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২০

মা মারা গেলো,
সেদিন থেকে আর কেউ খবর নেয়নি।
বাবা বিয়ে করলেন,
বাবাও আর খবর রাখলেন না।
আমার একটাই বোন,
সেও কোনোদিন খোঁজ নেয়নি।
রাস্তায় থেকেছি,
কেউ খবর রাখেনি।
না খেয়ে থেকেছি,
তবুও কেউ খোঁজ নেয়নি।
রাতে ঘুমানোর জায়গা ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×