somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বহমান সময়ের কিশতি

০১ লা এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামনের দিনগুলো কেমন যাবে, সে প্রশ্ন আজ অবান্তর। ক্ষমতায় কে যাবে, এটাই এখন বড় প্রশ্ন। তবে রাজাকাররা বহাল তবিয়তে থাকবেন। কারণ ক্ষমতায় যারা যাবেন, তারাই তা অাঁকড়ে থাকতে এতো বেশি ব্যস্ত থাকবেন যে, রাজাকারদের বিরুদ্ধে চোখ তুলে তাকানোরও সময় পাবেন না। আওয়ামী লীগও সময় পায়নি। বিএনপিও পাচ্ছে না। আর জেএমবির পেছনে বিদেশী শক্তির হাত থাকলে তো কথাই নেই, বড় দুটো দল একে অপরের দিকে কাঁদা ছুড়েই সময় পার করে দেবে। প্রকৃত গণতন্ত্র হেঁচকি তুলবে। রাজাকাররা বগল দাবাবে।
দেশপ্রেমের চেয়ে গদিপ্রেম বড় হবার কারণে এসব হচ্ছে। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার সোল এজেন্ট দাবি করতেই পারে। কিন্তু জোর দিয়ে দাবি করতে পারে না যে, তাদের কাছে দলের চেয়ে দেশটাই বড়। বিএনপির অবস্থাও একই রকম। জিয়াউর রহমান ক্যান্টনমেন্টে বসে দলছুটদের নিয়ে দল গঠন করেছেন। রাজনীতির সংজ্ঞা অনুযায়ী হয়তো বিএনপিকে রাজনৈতিক দলই বলা যায় না। কিন্তু শ্রেণী চরিত্রের দিক থেকে বর্তমানের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মাঝে কোনো তফাত নেই। কারণ শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আর খালেদা জিয়া জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হবার কারণেই দলপ্রধান হয়েছেন।আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা আর বিএনপিতে খালেদা জিয়ার চেয়ে যোগ্য নেতা নেই! আসলে যে রাজনৈতিক দল দলের ভেতরেই গণতন্ত্রকে লালন করতে পারে না, তারা জাতিকে কিভাবে গণতন্ত্র উপহার দেবে? এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের ব্যাখ্যায়ও দারম্নণ মিল : 'তিনি তো জোর করে দলপ্রধান হননি। দলীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্য উনাকে চেয়েছেন বলেই দলনেতা হয়েছেন। এখানে গণতন্ত্রের বিন্দুমাত্র অবমূল্যায়ন ঘটেনি।' কথাটায় যুক্তি আছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, শেখ হাসিনা আর খালেদাকে শিখন্ডী দাঁড় করিয়ে একটি সিন্ডিকেট চুটিয়ে রাজনীতি করছেন, আখের গোছাচ্ছেন। তাই উভয় দলের মাঝে বিস্তর স্ববিরোধীতাও রয়ে গেছে, যা রাজাকারদের উদ্বেগ কমিয়ে দিয়েছে।
বহমান স্রোতের ধারায় দিন যায় রাত আসে। পুরনো বছর গত হয়ে নতুন বছর এসেছে। নতুন বছরে রাজনীতিও জমে উঠেছে। পতিত এরশাদ দর কষাকষিতে ব্যস্ত। যে দল বেশি ছাড় দেবে, সেদিকেই তিনি দৌড় দেবেন। বামেরা চিরাচরিত কায়দায় হালুয়া রুটির দিকেই নজর রাখছে। তাই আজ নিজামীরা চোখ পাকিয়ে বলছে : 'জামায়াত কচু পাতার পানি নয়।' জাতি আওয়ামীলীগ আর বিএনপি নিয়ে ভাবতে রাজি নয়, দুটো মোটা ভাতই তাদের চাওয়া-পাওয়া। কিন্তু নেতারা আখের গোছাতে এতো বেশি ব্যস্ত যে, জনগণ তাদের বিবেচনায় নেই। বাংলাদেশে কোনো নেতাই গরীব নন, তিনি যে দলেরই হোন। রাজাকারদের + পয়েন্ট এখানেই। বহমান সময়ের কিশতি ভিড়ে দুর্ভাগ্যের বন্দরে। দেশপ্রেম খিড়কি দিয়ে পালায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে সব সময় যুদ্ধ লাগে না।
তার ভাষা, সাহিত্য, গান, নাটক, ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

=দূরের পাহাড় ডাকছে আমায়=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:০৯


তোমায় ছেড়ে যাচ্ছি বন্ধু
ডাকছে আমায় দূরের পাহাড়
দেখে আসি ঘুরে ফিরে
এই দুনিয়ার মোহ বাহার।

যাবে নাকি সঙ্গে আমার?
নাকি থাকবে ঘরে বসে?
কেমন করে রুখবে আমায়
যাচ্ছো বুঝি অংক কষে?

মানবো না আর নিষেধ বারণ
পাহাড় দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×