দেশপ্রেমের চেয়ে গদিপ্রেম বড় হবার কারণে এসব হচ্ছে। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার সোল এজেন্ট দাবি করতেই পারে। কিন্তু জোর দিয়ে দাবি করতে পারে না যে, তাদের কাছে দলের চেয়ে দেশটাই বড়। বিএনপির অবস্থাও একই রকম। জিয়াউর রহমান ক্যান্টনমেন্টে বসে দলছুটদের নিয়ে দল গঠন করেছেন। রাজনীতির সংজ্ঞা অনুযায়ী হয়তো বিএনপিকে রাজনৈতিক দলই বলা যায় না। কিন্তু শ্রেণী চরিত্রের দিক থেকে বর্তমানের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মাঝে কোনো তফাত নেই। কারণ শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আর খালেদা জিয়া জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হবার কারণেই দলপ্রধান হয়েছেন।আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা আর বিএনপিতে খালেদা জিয়ার চেয়ে যোগ্য নেতা নেই! আসলে যে রাজনৈতিক দল দলের ভেতরেই গণতন্ত্রকে লালন করতে পারে না, তারা জাতিকে কিভাবে গণতন্ত্র উপহার দেবে? এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের ব্যাখ্যায়ও দারম্নণ মিল : 'তিনি তো জোর করে দলপ্রধান হননি। দলীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্য উনাকে চেয়েছেন বলেই দলনেতা হয়েছেন। এখানে গণতন্ত্রের বিন্দুমাত্র অবমূল্যায়ন ঘটেনি।' কথাটায় যুক্তি আছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, শেখ হাসিনা আর খালেদাকে শিখন্ডী দাঁড় করিয়ে একটি সিন্ডিকেট চুটিয়ে রাজনীতি করছেন, আখের গোছাচ্ছেন। তাই উভয় দলের মাঝে বিস্তর স্ববিরোধীতাও রয়ে গেছে, যা রাজাকারদের উদ্বেগ কমিয়ে দিয়েছে।
বহমান স্রোতের ধারায় দিন যায় রাত আসে। পুরনো বছর গত হয়ে নতুন বছর এসেছে। নতুন বছরে রাজনীতিও জমে উঠেছে। পতিত এরশাদ দর কষাকষিতে ব্যস্ত। যে দল বেশি ছাড় দেবে, সেদিকেই তিনি দৌড় দেবেন। বামেরা চিরাচরিত কায়দায় হালুয়া রুটির দিকেই নজর রাখছে। তাই আজ নিজামীরা চোখ পাকিয়ে বলছে : 'জামায়াত কচু পাতার পানি নয়।' জাতি আওয়ামীলীগ আর বিএনপি নিয়ে ভাবতে রাজি নয়, দুটো মোটা ভাতই তাদের চাওয়া-পাওয়া। কিন্তু নেতারা আখের গোছাতে এতো বেশি ব্যস্ত যে, জনগণ তাদের বিবেচনায় নেই। বাংলাদেশে কোনো নেতাই গরীব নন, তিনি যে দলেরই হোন। রাজাকারদের + পয়েন্ট এখানেই। বহমান সময়ের কিশতি ভিড়ে দুর্ভাগ্যের বন্দরে। দেশপ্রেম খিড়কি দিয়ে পালায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




