সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
মুক্তবুদ্ধি নাকি বুদ্ধির মুক্তি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
জাগতিক যে কোনো ইসু্য নিয়ে দুভাবে আলোচনা আসতে পারে। যে কোনো সমস্যাকে একদল পশ্চিমা দর্শনের আলোকে যাচাই করেন। বাকিরা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তার ব্যাখ্যা খোঁজেন। খোঁচা মারামারির সূত্রপাত এখানেই। কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণের আগে একটি বিষয় নলেজে রাখলে সারা জীবন তর্ক করলেও তা কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে যাবে না। যেমন কেউ কোনো ইসু্যতে আক্রমণ আক্রমণ চালালেন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। অথচ উপস্থাপিত আলোচনাটি এসেছে পশ্চিমা দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে। এক্ষেত্রে সমাধান না আসাই স্বাভাবিক। বিপরীতটি ঘটলেও একই অবস্থা দাঁড়াবে। বগ পরিবারে যে কেউ নিজস্ব মতামত দিতে পারেন। আমার অনুরোধ : 'সমালোচনা করার আগে বুঝে নিন উনি কোণ পরিপ্রেক্ষিত থেকে কথাটি বলেছেন বা দাবি করছেন। আপনার দৃষ্টিকোণের সাথে তার দৃষ্টিকোণের ফারাক থাকলে বিষয়টি ইতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করম্নন।' বিষয়টাকে কেউ অযাচিত উপদেশ ভাবলে তার কাছে আমি প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমার বিশ্বাস এতে আমরা কাউকে বা কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে উলঙ্গভাবে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে পারবো। মুক্তবুদ্ধি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উপরের শিরোনাম দেখে অনেকে আপত্তি জানাতেও পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, জীবন সম্পর্কে দার্শনিকদের মতদ্বৈততা বর্তমানে সভ্য চিন্তার একটি অসুস্থ উপজাত হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। কারণ অধিকাংশ দার্শনিক প্রত্যাদেশ বাদ দিয়ে নিজের বুদ্ধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেন। অথচ মানব বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা একটা বৈজ্ঞানিক সত্য। আমি মনে করি এই মুক্তবুদ্ধিফোবিয়াই আজ বনি আদমকে করেছে দিশাহারা, বানিয়েছে বালখিল্যতার অবদূত। আসলে মুক্তবুদ্ধি চর্চা একটি উচ্চাঙ্গের পাগলামি, আত্মহননের ট্রেড লাইসেন্স। অন্তত তাতে যে 'বুদ্ধি' থেকে মুক্তি ঘটে, এত আমার সন্দেহ নেই। পশ্চিমা সমাজ আজ মরমীয়াবাদের দিকে ঝুঁকছে। কারণ মুক্তবুদ্ধি তাদের জীবনের মৌল সমস্যাগুলো সম্পর্কে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছে না। ওদের একটা জিনিসই বাকি আছে। আর তা হচ্ছে : 'চিন্তাহীনতা নিয়ে চিন্তা করা। দেখুন না, ওরা আমাদের চেয়ে শিক্ষিত, আলোকপ্রাপ্ত। তারপরও ধর্ষণের হার আমাদের দেশের চেয়ে অনেক বেশি। জাগতিক উন্নয়নই যদি সুখের একমাত্র মানদণ্ড হতো তাহলে সুখের সূচকে বাংলাদেশ প্রথম হতো না। উন্নয়ন, ব্যক্তি ও চিন্তার স্বাধীনতার পাশাপাশি মানব মনের জন্য আরও কিছু চাই। আসলে মানুষ সভ্য হোক, অসভ্য হোক, প্রাচ্যের হোক, হোক প্রতীচ্যের, নতুন আলোকপ্রাপ্ত হোক অথবা প্রাচীনপন্থী _ মানুষ তার স্বাভাবিক দুর্বলতা ও নৈতিক ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে, তার আপন সত্তা থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। মুক্তবুদ্ধি কি আসলে বুদ্ধির মুক্তি ঘটায়?
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন
সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।