হচ্ছে : ' দেখুন আল্লাহর কি কুদরত, বিজ্ঞানীরাও কোরআন মানে। কুরআনের কথার সাথে বিজ্ঞানের মোটেও ফারাক নেই'। সাধারণ দৃষ্টিতে ইমামের এ উক্তি নির্দোষ। কিন্তু তার এ বক্তব্য সত্য পর্যবেক্ষণের ফসল নয়, প্রতারিত সান্ত্বনা মাত্র।
বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলোকে সত্য প্রমাণের জন্য কোরআন নাযিল হয়নি। কোরআন বিজ্ঞানেরও মুখাপেক্ষী নয়। বিজ্ঞানের বেলায়ও তা সত্য। বিজ্ঞানের যাত্রা শুরু 'সম্ভাবনা' নিয়ে 'নিশ্চয়তা' নিয়ে নয়। সারা জীবন গবেষণা করেও একজন বিজ্ঞানী 'ভুল' সিদ্ধান্তেউপনীত হতে পারেন। এটা তার ব্যর্থতা নয়, পর্যবেক্ষণের ত্রুটি হতে পারে। আবার কোরআনের সব বক্তব্যের সঙ্গে বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলোর মিল নাও হতে পারে। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও এই মিল না থাকার কারণে অনেক মুসলমানও মনে করতে পারেন যে, বিজ্ঞানের সাথে কোরআনের মিল না থাকায় বিধর্মীদের কাছে আমাদের লজ্জা পেতে হচ্ছে। আসলে কেন বিজ্ঞানের সত্যতা প্রমাণের জন্য কোরআন নাযিল হয়নি, তা অনেক হুজুরের কাছে হয়তো স্পষ্ট নয়। আবার এটাও সত্য যে, ধার্মিক হবার কারণেই যদি কেউ বিজ্ঞান বিরোধী হন, তাহলে বলতে হবে তিনি ধর্ম বোঝেননি। কোরআনের উদ্দেশ্য বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়া নয়। তবে কোরআন অধ্যয়ন (পাঠ নয়) যে কাউকে (যে ধর্মের অনুসারী হোন না কেন) প্রকৃতি পর্যবেক্ষণে অনুরাগী করার মাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্ক বানাতে পারে।
বৈজ্ঞানিক তার পর্যবেক্ষণের ফল আমাদের হাতে তুলে দেন। এটার জন্য আমাদেরকে মোটেও কষ্ট করতে হয় না। আমরা যে রেজিমেড জিনিসটা পাই বলে ওটার প্রতি আমাদের আগ্রহ চিরন্তন নাও থাকতে পারে। নতুন আবিষ্কার আমাদেরকে নতুন চেতনা দান করে। এটাকে আমাদের সমাজের গতিশীলতার পরিচয় বলা যায়। কিন্তু কোরআন শেখায় নিত্য সত্য অন্বেষণ। আমরা কোরআন থেকে সত্য অন্বেষণ করতে পারছি না। এটা
ধর্ম অনুসারীদের ব্যর্থতা, কোরআনের নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


