আমেরিকান সূত্রের তথ্য
৯/১১ বিমান হামলা চালিয়েছে মোসাদ। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা- মোসাদের জড়িত থাকার তথ্য মার্কিন সূত্রগুলোই প্রকাশ করে দিচ্ছে। এ বিমান হামলা ৯/১১-এর ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদী ঘটনা হিসেবে গোটা বিশ্বে পরিচিত। বিশেষ করে এ ঘটনাকে সামনে রেখেই তদানীন্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তার বহুল আলোচিত সন্ত্রাস বিরোধী দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু করেন এবং ৯/১১-এর বিমান হামলার জন্য সরাসরি আরব-মসুলিম নাগরিকদের দায়ী করে। এর ফলে ইসলাম ও মুসলিম নাগরিকদের ওপর ঢালাওভাবে সন্ত্রাসবাদের কলংক আরোপ করা হতে থাকে।
সম্প্রতি ?আমেরিকার ফ্রি প্রেস উইকলি'-তে প্রকাশিত এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৯/১১-এ নিউ ইয়ার্ক বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। এ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ৯/১১-এর বিমান হাইজ্যাকার হিসেবে অভিযুক্ত জিয়াদ আল-জাররার কাজিন দীর্ঘদিন ধরে মোসাদ-এর এজেন্ট হিসেবে আমেরিকায় তৎপর ছিলেন। এ থেকে প্রমাণ হয় যে, মার্কিন ভূমিতে বিমান হামলায় ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত। ?নিউইয়র্ক টাইমস, সম্প্রতি অপর এক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, লেবাননী, নাগরিক আলী আল জাররা দৃশ্যত ফিলিস্তিনীদের সমর্থক হিসেবে বিগত দু'দশক ধরে মোসাদের পক্ষে উঁচুমানের গোয়েন্দা এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। জিয়াদ আল জাররার কাজিন আল-জাররা কভার্ট গোয়েন্দা কৌশলে ১৯৮৩ সাল থেকেই ফিলিস্তিনী মুক্তিযোদ্ধা ও লেবানিজ হিযবুল্লাহর বিরুদ্ধে মোসাদের হয়ে অন্তর্ঘাতী তৎপরতা চালিয়ে আসছে। ?নিউইয়র্ক টাইমস' লিখেছে, আলী আল জাররাহর কাজিন জাররা পরিবারের অপর সদস্য জিয়াদ আল-জাররা ৯/১১-এর ভয়ংকর বিমান হামলার অন্যতম অভিযুক্ত। জিয়াদ আল-জাররার মতো একজন লেবাননী মুসলমানকে রিক্রুট করে মোসাদ তাদের ভয়ংকর পরিকল্পনা যেমন আড়াল করার কৌশল নিয়েছে, তেমনি টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার দায় মুসলমানদের ওপর চাপানোর সুযোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মোসাদ মোটা অর্থের বিনিময়ে মুসলিম-আরব-লেবাননী যুবকদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহার করে আসছে। এতে একদিকে যেমন ইসরাইল তার ভূমিকা আড়াল করতে পারছে, তেমনি এর দায় মুসলমানদের ওপর চাপানোর সুযোগ পাচ্ছে।
৯/১১-এর ঘটনায় ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর সম্পৃক্ততার পক্ষে ?নিউইয়র্ক টাইমস' আরও কিছু তথ্য উল্লেখ করেছে। এতে বলা হয়েছে, টুইন টাওয়ারে হামলার খবরে ফ্লাইট ১১ এবং ফ্লাইট ১৭৫-এর যাত্রী পাঁচ ইসরাইলী নাগরিকের আনন্দ-উল্লাস তাদের ওপর সন্দেহের সৃষ্টি করে। এসব ইসরাইলীদের ৭১ দিন কারাবাসের পর মোসাদ মুক্ত করে নিয়ে যায়। মোসাদ এজেন্ট হিসেবে যখন ঐ পাঁচ ইসরাইলীর পরিচয় উন্মোচন হয়ে যায়, তখনই ইসরাইল সরকার প্রভাব খাটিয়ে মার্কিন কারাগার থেকে তাদের মুক্ত করে নিয়ে যায়। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার সূত্র উদ্ধৃত করে মার্কিন উইকলি জানিয়েছে যে, গ্রেফতারকৃত পাঁচ ইসরাইলীর মধ্যে অন্তত দু'জন মোসাদ-এর সার্ভিলেন্স টিমের সদস্য। উকিলিটি উল্লেখ করেছে যে, হোয়াইট হাউসের নির্দেশে সিআইএ ৯/১১-এর ঘটনায় ইসরাইল ও তার গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এজেন্টদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি গোপন করেছে। কেননা ৯/১১-এর পুরো বিমান হামলার ঘটনাটিই সিআইএ-মোসাদ-এর যৌথ প্রযোজনায় ঘটানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইটালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফার্নেসকো কোসিগা বলেছেন, ৯/১১-এর ঘটনা সিআইএ মোসাদ-এর গোপন পরিকল্পনার যৌথ প্রযোজনার ফসল। মার্কিন ও ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভালোভাবেই অবহিত যে, ৯/১১ এর বিমান হামলা ঘটিয়েছে মার্কিন সিআইএ ও ইসরাইলী মোসাদ। এর লক্ষ্য ছিল, আমেরিকা পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্বে ইরাক ও আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালানোর পটভূমি তৈরি। ইটালীয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যটি স্থানীয় ?কেরিয়ার ডেলা সেরা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ইটালীয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্যটি আরও জোরদার হয়েছে, ইসরাইলী তথ্য সূত্রে ফাঁস হওয়া একটি ঘটনায়। ইসরাইলী টেলিকম ফার্ম ?অভিগো'-র সার্বক্ষণিক বার্তায় টুইন টাওয়ারে বিমান হামলায় অন্তত দু'ঘণ্টা আগে খবর পেয়েছে। এর ফলে টুইন টাওয়ারে কর্মরত ইহুদী নাগরিকরা হামলার আগেই নিরাপদে ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যায়। টুইন টাওয়ারে বিমান হামলায় হাজার হাজার নাগরিক নিহত হলেও একজনও ইহুদীর মৃত্যু না হওয়ার কারণ এটাই। ইসরাইলী টেলিকম সংস্থা আদিগো-র অফিস নিউইয়র্কস্থ টুইন টাওয়ার ভবনের দু'ব্লক দূরে অবস্থিত। উল্লেখ্য, টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনা ইসরাইল সরকারিভাবে আগেভাগে জানতো বলে ইসরইলী প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে পূর্ব নির্ধারিত সফরসূচি আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


