গত ঈদে বাড়ি যাচ্ছিলাম । গ্রামের বাড়ি কুমিল্লাতে । ঈদ মুহূর্তে রাস্তায় ভিড় থাকা অনেক স্বাভাবিক । রাস্তায় অগোছালো গাড়ির সারি খুবই বিরক্তি কর । কিন্তু ঈদ মুহূর্তে কিভাবে বাড়ি যাব তার চেয়ে ও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাড়ি যাওয়া । অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাসে , লঞ্চে । আমি যাচ্ছিলাম বাসেই । সাথে আমার আপু আর ভাগ্নি ছিলেন ।
বাস চালক বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন । একবার সামনের একটা বাসের সাথে হাল্কা ধাক্কা খায় । কয়েকজন এর প্রতিবাদ করে । কিন্তু এই নিষ্ঠুর চালক কারো কথা শুনে না । বেপরোয়াই চলল গাড়ি । এইবার আমি উঠে দাঁড়িয়ে চালকের প্রতি প্রতিবাদ করলাম । জনৈক যাত্রী আমার প্রতি বিরক্ত হলেন । তিনি বললেন –“ ভাই আপ্নে ড্রাইভারির কি বুঝেন ? চুপ কইরা বইসা থাকেন ।ওনাকে চালাইতে দেন। ; আর কিছু বললাম না ।
আরো কিছু দূর এগোতেই চালক বাসটিকে রাস্তার নিম্নাংশে নামিয়ে দেয় । হঠাত ঝাকুণি খাওয়াতে ঐ লোকটি ( যিনি আমাকে ধমকেছিলেন ) সামনের সিটের সাথে আঘাত পেলেন । ঠোটে হাত দিয়ে দেখলেন রক্ত । তারপর তিনি আমার দিকে তাকালেন। আমি ড্রাইভারের দিকে তাকালাম। তাই তিনি ও ড্রাইভারের দিকে তাকালেন । এরপর বললেন – “ এই ড্রাইভারের বাচ্চা তুমি আমার ইয়ে চালাও , অমুকের পোলা তমুকের পোলা । ; তখন আমি তাকে বিনীত ভাবে বললাম ভাই আপনাদের মত কিছু মানুষ আছেন যারা না মরলে বুঝেন না আপনার কপালেও মৃত্যু লেখা আছে । ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন বলেই হয়ত তিনি আমাকে কিছু বলতে পারেন নি । ঠোটে হাত দিয়ে চুপচাপ বসে রইলেন । বরগুনা-২ আসনের সাংসদ গোলাম সবুর টুলু যেইদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান সেই দিনের ঘটনা ছিল এটা ।
এমনও দিন আছে যেইদিন এই দেশে খুন হয় না, এমনো দিন আছে এই দেশে ধর্ষণ হয় না । কিন্তু এমন কোন দিন নাই যেই দিন এই দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায় না । তবু ও কারো কলিজায় আতঙ্ক তৈরি হয় না । তবু ও প্রশাসনের টনক নড়ে না । আর কত ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




