ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া আমার এক ছাত্রী আছে । পড়ালেখায় ভাল , স্বভাবে খুব ভাল ।
গত তিন দিন ধরে সে যখন আমার কাছে পড়তে আসে লজ্জা পেয়ে বসে । পড়াতে গেলেই অস্বস্তি বোধ করে পড়া গিলে । এইরকম অবস্থা দেখে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম – “কি হয়েছে ? তুমি এমন আচরণ করছো কেন?”
সে একটু টাইম নিয়ে জবাব দিল –“ স্যার, ২ দিন আগে যে ঘটনা টা ঘটেছে সেটা এখনো মনে পড়ছে।“
ওহ আচ্ছা আপনারা তো জানেন না ২ দিন আগের ঘটনা ।
‘ আমি তাকে শাখান্বিত কান্ডের শ্রেনী বিভাগ পড়িয়েছিলাম । এর মধ্যে একটি ছিল – “মঠ আকৃতি : কো্নো কোনো গাছে প্রধান কান্ডটি থেকে এমনভাবে শাখা প্রশাখা সৃষ্টি হয় যে পূর্ণাঙ্গ কান্ডটিকে মঠের ন্যায় দেখায় । উদাহরণঃ দেবদারু ।“ পরের দিন যখন মঠ আকৃতির কান্ডের উদাহরণ জিজ্ঞেস করলাম । সে জবাব দিলো “দেবদাস” । তারপর সে লজ্জা পেয়ে আর আমার চোখে চোখ রাখতে পারে না । এই কম বয়সেই সে দেবদাস সিনেমা দেখে ফেলেছে হয়ত এই কারণেই তার এত লজ্জা । অথবা এত সহজ পড়াটা সে পাড়ে নি – এই কারণেও লজ্জা পেতে পাড়ে ।‘

(একটি দেবদাস গাছ)
আমার স্পষ্ট মনে আছে । ক্লাস ফোরে আমি একটা যোগ অঙ্কে ভুল উত্তর দিয়েছিলাম । আমার উত্তর শুনে পুরো ক্লাস হেসে দিয়েছিল । এরপর লজ্জায় তিন দিন স্কুলে যাই নি । এখন ভার্সিটিতে পড়ছি । অথচ এখন পড়া না পারলে উলটা গর্ববোধ হয় । পড়া পারাটাই অবশ্য এখন অপমানের ( সত্যিকার অর্থে নয় )। পড়া পারলে খারাপ ছাত্ররা আঁতেল উপাধি দিয়ে দেয় । পড়ালেখা না করাটাই এখন স্বস্তির ।
তো এই অবস্থায় আমি আমার ছাত্রীকে খুব ভালভাবে বুঝিয়ে বললাম যে – “চিন্তা করো না । সব ঠিক হয়ে যাবে । ২-১ বার পড়া না পাড়াটা খুব অন্যায় না । সে আমার দিকে ভরসা নিয়েই তাকালো । আমি তার চোখে বিশ্বাসের চাহনিই দেখতে পেলাম ।
আঁতেল আর স্মার্ট ছাত্রের তুলনা টা আর তার কাছে বললাম না । কারণ আঁতেল হতে পারাটাই অনেক লাভের । রেজাল্ট ভাল থাকলে কোন ক্ষতি নাই । রেজাল্ট খারাপ হওয়াটাই ক্ষতিকর হতে পারে । রেজাল্ট ভাল করতে গিয়ে যদি কিছু জ্ঞান অর্জন হয়েই যায় ক্ষতি কি ? আর কেউ কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর না দিতে পারাটা গর্বের কিছু না । আমার ছাত্রীর লজ্জা পাওয়াটা আমার কাছে যথাযোগ্যই মনে হচ্ছে ।
( আমার সি-জি-পিএ খারাপ । তাই রেজাল্ট টা কে এত বড় করে দেখি )।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




